বুধবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৪

মুসলমানিত্ব এবং গণতন্ত্রের মাইংকারচিপা


মুসলমানিত্ব এবং গণতন্ত্রের মাইংকারচিপা
-------------------------------------------
আমরা ৯০% মুসলিমের এমন এক দেশে বসবাস করছি যেখানে তলপেটের চাপসামলাতেই হিমশিম খাওয়া জনগণ “সকল ক্ষমতার উৎস(!)” যেখানে বিভিন্ন কিসিমের ধারা সম্বলিত এক সংবিধান নাকি মানুষের সমাধান দেবে। যে সংবিধান কোন ক্ষমতালিপ্সু গদিওয়ালার একটু স্বার্থের বাইরে গেলেই সংশোধন সংশোধন এবং সংশোধন!!

এই গণতন্ত্রের মাইংকারচিপা কি জিনিস তা মুসলিম বিশ্বের লাখ লাখ মুসলিম হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে,পাবে…পেতেই থাকবে। কিন্তু মূল বিষয় হল একটা সমস্যা থেকে একটা সমাধানের পথ আসবে।একজন মুসলিম যে আল্লাহকে বিশ্বাস করে, পরকালে বিশ্বাস করে, যে বিশ্বাস করে হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) আল্লাহ্‌র প্রেরিত রাসুল, যে বিশ্বাস করে কুরআন মানব জীবনের একমাত্র সমাধান, যে বিশ্বাস করে তাগুতকে ছেড়ে না দিয়ে তাওহীদ আসতে পারেনা……

সে অবশ্যই অবশ্যই ইসলামের সমাধান মেনে নেবে। নির্দ্বিধায় মেনে নেবে চুরের শাস্তি হাতকাটা। ব্যবিচারের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এটা মেনে নিতে তাঁর মন কচকচ করবে না। সে অন্তর থেকে বুঝতে শিখবে নন-মাহরাম এর সাথে মেলামেশা করা যাবেনা। সে বিশ্বাস করবে আল্লাহ আর রাসুল (সঃ) তাঁর কাছে নিজের সবকিছুর চেয়ে প্রিয় না হলে তাঁর জন্য জান্নাতে যাওয়ার পথ খোলা নেই। আর যদি……

যদি ইসলামের সমাধান আপনি মেনে নিতে না পারেন,যদি মনে করেন এসব সেকেলে, যদি মনে করেন কুফর-গনতন্ত্র এসব অনেক গ্রহণযোগ্য সমাধান,যদি গলা ফাটিয়ে বলেন যারা আল্লাহ্‌র আইন চাইছে তারা দেশকে আফগান গুহা বানাতে চাইছে তাহলে মিস্টার আপনি যেই হন না কেন , আপনি যেই হন না কেন আপনি স্পষ্টত একজন কাফের।আপনি চাইলে আপনার মুসলিম নামটা ঝুলিয়ে রাখতে পারেন কিন্তু আপনি কাফের কাফের কাফের। কোন সন্দেহ আছে?? তাহলে সন্দেহ দূর করুন ! তবে তর্কের মাধ্যমে নয় কুরআন ও হাদিস দিয়ে প্রমান করুন গনতন্ত্র হালাল এবং আপনিও একজন মুসলমান !  







This is what happening with our muslim kids in Syria by DOG ASSAD REGIME by the help of Russia And IRAN !!! They say Iran is a Muslim and Country-
Targeting to a kid , means power for Them.
YA----------Allah Destroy them.------------------ Ameen.
 
 
 
 
 
 











রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৪

মুসলিমরা যে কারণে গণতন্ত্রকে অস্বীকার করবে

মুসলিমরা যে কারণে গণতন্ত্রকে অস্বীকার করবে

25 April 2014 at 21:24 Sajid Ibn Sayed Mazhar
পরম করুণাময়, দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি 


“সময়ের শপথ! মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত আছে। তারা ব্যতীত, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করছে, আর একে অপরকে সত্য অবলম্বনের এবং ধৈর্যের উপদেশ দেয়।” [সূরা আল-আসর] 



লেখাটি যথেষ্ঠ বড়। তবে সত্য জানার জন্য, অনুধাবনের জন্য ধৈর্যের সাথে পড়ার বিকল্প নেই। এতবড় লেখাটি পড়ার আহবান জানানোর জন্যে প্রথমেই আপনাদের নিকট ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। সন্দেহের অবকাশ নেই যে আমরা এখন শেষ জামানা ফিতনার যুগের শুরুতে অবস্থান করছি এবং দিনকে দিন ওই ফিতনা ঘণিভূত হচ্ছে আর আমরা আরো এই ফিতনার অতল গভীরে তলিয়ে যাচ্ছি। এই সময়কার বড় একটি ফিতনার নাম গণতন্ত্র। আল্লাহর ইচ্ছায় তা সম্পর্কেই জানানোর এই প্রয়াস।


গণতন্ত্র শব্দটা খুব মুখরোচক একটা শব্দ যা পশ্চিমা কুফফাররা তৈরী করেছে জনগণের সামনে এই মূলা ঝুলিয়ে যে “তোমরা বাপু যাহা বলিবে তাহাই হইবে।” এটা এজন্যই একটা ‘মূলা’ যেখানে জনগণ যা বলবে তা কখনই করা সম্ভব নয় এবং জনগণের শাসন কখনোই বাস্তবে প্রতিফলন করা সম্ভব নয়।


জনগণ বা নাগরিকগণ সরাসরি শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করত প্রাচীন নগররাষ্ট্রে (civics) যেখানে জনসংখ্যা খুব কম। এখনো গণতন্ত্রের নামে যা হয় তা হল জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা (খুলাফা) শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে। যাদের ভাষা বোঝার মত নূন্যতম জ্ঞান আছে তারা অবশ্যই এই কথা বলবেন না যে জনগণের শাসন এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন একই কথা! কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে স্বার্থান্বেষী তাগুতগোষ্ঠী এই দুইটি কথা একই বলে প্রচার করছে এভাবে যে মূল বিষয়টিকে (মূল বিষয়টি নেতিবাচক) মুখরোচক বিষয়টি দিয়ে আচ্ছাদিত (আদ-দাজ্জালিন) করে মানুষের মাঝে প্রচার করছে, যেন মানুষ ভাবে “আমরা কি হনু, আমাগো ভোট ছাড়া কোন ভাত নাই, ক্ষমতা আমগোরই!” এটাই হচ্ছে সেই মূলা, যেটা মূর্খ জনগণদের সামনে ঝুলিয়ে রাখা হয়।


তাই প্রথমত বলা যায় যে গণতন্ত্র শব্দটাই ভুল। কারণ এটাতে জনগণের শাসন চলে না, চলে জনপ্রতিনিধিদের শাসন। তাই গণতন্ত্র শব্দটা নয় বরং গণপ্রতিনিধিতন্ত্র শব্দটাই যৌক্তিক। কিন্তু এই শব্দটা এই কারণেই ব্যাবহৃত হয় না কারণ ওই যে ‘মূলা’টা তাহলে আর ঝুলানো যাবে না। তাছাড়া এই জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভোটে বা সমর্থনের ভিত্তিতে আর এখানে মান (quality) নয়, মূলত সংখ্যারই একমাত্র গুরুত্ব (quantity)! আর এটাকে তাগুতেরা নাম দিয়েছে জনগণের শাসন আবার এটা নিয়ে তাদের প্রচার-প্রচারণা চালায় যতরকম ভাবে পারা যায়, সমাজিক বই থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া পর্যন্ত। এর গুণকীর্তন করা লোকেরও অভাব হয় না, যেটা স্পষ্টতই অনেক বড় প্রতারণা।


গণতন্ত্র শব্দের ব্যাবহার সব দিক দিয়েই অযৌক্তিক এবং অবৈজ্ঞানিক। এর বাস্তব ভিত্তি কেউ এখনো দেখিয়ে যেতে পারে নি। এটা কাল্পনিক একটা ব্যাপার। তবে এটার নামে যা যা হচ্ছে তা অনেক ঘৃণ্য এবং নিন্দাজনক। কিন্তু ওই যে ‘মূলা’ ঝুলিয়ে রাখার কারণে মানুষের বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। যদিও এই জনপ্রতিনিধিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়, এর মানে এই নয় যে যোগ্য লোকই নির্বাচিত হবে। এই যোগ্য লোক নির্বাচিত করার জন্য তাগুতরা আরো কয়েকটি মূলা ঝুলায়। সেগুলো হল ‘সুষ্ঠ গণতন্ত্র’ এবং ‘সুস্থ গণতন্ত্রের চর্চা’ যেগুলোর বাস্তবতা বলতে কিছুই নয় এবং কোন দিন সম্ভব না কারণ আগেই বলেছি যে গণতন্ত্র বা জনগণের শাসনই কখনো পৃথাবীতে কায়েম রাখা সম্ভব নয়। একএকজন মানুষের মনোভাব একএক রকম, তাহলে কিভাবে এই জনগণের শাসনের কথা চিন্তা করা যায়? কতই না মূর্খতাপূর্ণ একটি ধারণা। “আর যদি যদি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নাও, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে।” [সূরা আন’আম: ১১৬]




এটা তো গেল তাত্ত্বিকভাবে গণতন্ত্রের প্রতারণা। বাস্তবে আসলে গণতন্ত্রের নামে আসলে কি হয় আর এই জনপ্রতিনিধিরা আসলে শাসনকার্যে বসে করেটা কি? এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই শাসনকার্য পরিচালিত হওয়াটাই যৌক্তিক এবং বৈজ্ঞানিক। তাই যারা গণতন্ত্র বা নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির ভক্ত তারা এটাতে কোন ভুল খুঁজে পায় না কিন্তু তারা শব্দ প্রয়োগে ভুল করে এবং জনগণের সামনে আপনা-আপনি মূলা ঝুলে যায়। আসলেই কি আপনা-আপনি এটা হয়? এটা জানার জন্য আমাদের বুঝতে হবে যে প্রতিনিধিটা আসলে কার? তারা কি আসলে জনপ্রতিনিধি? না কি কোন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি? নাকি কোন প্রভাবশালী মহল, সংগঠন অথবা রাষ্ট্রের প্রতিনিধি? যাই হোক যখনই কেউ শাসনকার্যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর প্রতিনিধিত্ব করবে, এন্টি আল্লাহর (গাইরুল্লাহর) প্রতিনিধিত্ব করবে সোজা ভাষায় সে বা তারা হল ‘তাগুত’।


এটা স্পষ্টতই যে গণতন্ত্রে কেউ আসলে আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করে না, তারা নিজেরাও তাগুত এবং করেও তাগুতের প্রতিনিধিত্ব। কেননা তারা জনগণের কাছে ভোট চায় এই যুক্তিতে যে তারা জনগণের প্রতিনিধি হতে চায় কিন্তু তারাই কেন আবার লবিং করে মার্কিনদের কাছে, ব্রিটিশদের কাছে, জুইশদের কাছে, রাশানদের কাছে, ইন্ডিয়ানদের কাছে? এটা অস্বীকার করতে পারবেন না যে তারা এটা করে না। তারা অবশ্যই এটা করে, কিছুকাল আগেও ব্যাপারটি ছিল open secret আর বর্তমানে রাজনীতিবিদরাই openly এটা সম্পর্কে বলছে, যেন এটাই স্বাভাবিক গণতন্ত্র আর এটাই গণতন্ত্রের একটা সংস্কৃতি। আসলেই এটাই গণতন্ত্রের একটা সংস্কৃতি। তাত্ত্বিক ভাবে জনগণ ছাড়া অন্য কারো কাছে লবিং করারটা গণতন্ত্র সমর্থন না করলেও, বাস্তবে প্রভাবশালী তাগুতদের কাছে যতরকম লবিং করে শাসনকার্যে যাওয়া যায় সেটাই গণতন্ত্র আর এটাই গণতন্ত্রের প্রতারণা। খারপ কাজগুলোকে মূলা ঝুলিয়ে ঢেকে রাখে (আদ-দাজ্জালিন)। আর এখন তারা openly স্বীকার করছে যে তাদের বিরোধী পক্ষ এর এর কাছে লবিং করে, যেটাকে তারা গণতন্ত্র বহির্ভূত বলে না, অর্থাৎ তারা নিজেরাও অমুক তমুক তাগুতের কাছে লবিং করে। তাদের সাহস এই কারণেই এত বেড়ে গিয়েছে যে, তারা বুঝেছে যে জনগণের সামনে ‘মূলা’ খুব ভালোভাবেই ঝুলে আছে। জনগণ কখনোই এই মূলার বৃত্ত থেকে একসাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বেরিয়ে আসতে পারবে না। আর যারা এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে তাগুতের প্রতিনিধিত্ত্বের বদলে আল্লাহর প্রতিনিধিত্ত্ব (খিলাফাহ) চায় এবং কার্যকর করার চেষ্টা চালায়, তাদের পিঠেই লেভেল পড়ে জঙ্গি, সন্ত্রাসী!


আসলে গণতন্ত্রে শব্দ যাই হোক এই শব্দের মাধ্যমে আরো অনেক কিছু জনগণে গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয় যা প্রতিটি মানুষের সকল থেকে রাত পর্যন্ত ২৪ ঘন্টার জীবন আচারের একটা নিয়ম বাতলে দেয়, যেটাকে সোজা ভাষায় জীবন ব্যবস্থা বললেই চলে। অথচ “নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবন ব্যবস্থা (দ্বীন-life style) ইসলাম।” [সূরা আল-ইমরান: ১৯] গণতন্ত্র নামক জীবন ব্যবস্থাটা তৈরী করেছে তাগুতেরা অর্থাৎ এন্টি আল্লাহর শক্তিগুলো এই জীবন ব্যবস্থা তৈরী করেছে। এই জীবন ব্যবস্থার প্রতিটি ইবাদতই খুব মুখোরোচক শব্দে পরিপূর্ণ যেমন মানবতা, বাকস্বাধীনতা, সমানাধিকার, মুক্তচিন্তা, নারীর ক্ষমতায়ন, ধর্মনিরপেক্ষতা, অসম্প্রদায়িক চেতনা, জাতীয়তাবাদ, প্রগতিশীলতা, আধুনিকতা সহ আরো অনেক মুখরোচক শব্দের সমাহার। আগেই বলেছি গণতন্ত্র হচ্ছে নেতিবাচক কাজকে মুখোরোচক শব্দ দিয়ে আচ্ছাদনকৃত (আদ-দাজ্জালিন) একটি জীবন ব্যাবস্থা, যেটার বর্তমান ইলাহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই দেবতা মার্কিনদের দরবার হল জাতিসঙ্ঘ এবং এখানে আরো কিছু দেবতা এবং অসুর আছে, যার এই আচ্ছাদনকৃত (আদ-দাজ্জালিন) জীবন ব্যবস্থার সোল এজেন্ট। যারা এই জীবন ব্যবস্থার সমর্থক, অনুসারী তারা যতটা না জনগণের উদ্দেশ্যে তা পালন করে, তারচেয়ে বেশি এই তাগুতের সংসদ জাতিসঙ্ঘের দেবতা মার্কিন সহ অন্যান্য দেবতার খুশির উদ্দেশ্যেই তা পালন করে। নিজেদের ভুল ত্রুটি গুলোকে শুধরে তারা দেবতা মার্কিনে দেয়া জীবন বিধান কে সুষ্ঠভাবে পালন করতে সুস্থ গনতন্ত্র চর্চার কথাও বলে। অর্থাৎ তারা আসলে দেবতা মার্কিনের ইবাদত করে। এরা সকলেই এন্টি আল্লাহ (গাইরুল্লাহ) অর্থাৎ তাগুত। গণতন্ত্রের পূজারীরা, সমর্থকরা, অনুসারীরা মূলতা তাগুত মার্কিনদের, তাগুত ব্রিটিশদের, তাগুত জুউশদের পূজা করে। তাদের খুশি করার চেষ্টা করে যেন তারা দেবতাদের দেয়া ‘বর’ লাভ করে ক্ষমতায় আরোহন করতে পারে অথবা লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারে। মূল কথা তারা তাগুতের কাছে তাহকুম করে, রহমত প্রত্যাশা করে, ইনসাফ প্রত্যাশা করে! অথচ এগুলো একমাত্র আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করাই যৌক্তিক। তারা মূলত এক একটি তাগুকে তাদের ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে, এবং তারা নিজেরা কার্যত মিনি তাগুত রূপে তাদের ইলাহর এজেন্ডা সজ্ঞানে অথবা অজ্ঞানে জনগণের উপর প্রয়োগ করার চেষ্টা করে। আর তাগুত মানেই মিথ্যাবাদী, সীমালঙ্ঘনকারী আর তাদের বানানো জীবন ব্যবস্থাও মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত একটি আচ্ছাদনকৃত (আদ-দাজ্জালিন) মুখরোচক জীবন ব্যবস্থা, যেটি আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ইসলামকে সরাসরি অথবা ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সীমালঙ্ঘন করেছে। জেনেশুনে এই মুখোরচক তাগুতী জীবন ব্যবস্থার পক্ষ যে গ্রহণ করল, সে কুফর করল, সে ইসলামের সাথে সাথে যদি ওই জীবন ব্যবস্থাও গ্রহণ করে তবে সে শিরক করল।


আল্লাহ তা’আলা বলেন,



وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً أَنِ اعْبُدُواْ اللّهَ وَاجْتَنِبُواْ الطَّاغُوتَ
“আমি প্রত্যেক জাতিরর মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুতকে বর্জন কর।” [সূরা আন-নাহল: ৩৬ l

তাই তাগুত শুধু কয়েকটি মূর্তি নয় আর নয় শুধু কিছু প্রাকৃতিক শক্তি যেগুলোকে পৌত্তলিকরা দেবতা ভেবে পূজা করে। তাগুত আরো অনেক কিছু এবং আরো ভয়ংকর এবং শক্তিশালী কিছু তাগুত আছে, যেগুলোকে প্রতিনিয়ত মান্য করে আমরা শিরক করছি। তাগুত হতে পারে কোন ইভেন্ট, কোন মাসকট, কোন রাষ্ট্র, কোন প্রতিষ্ঠান, কোন ব্যক্তি, কোন আদর্শ যারা বিধান দেয় আল্লাহর বিপরীতে, যাদের পূজা করা হয়, যাদের ইবাদত করা হয় তারাই তাগুত। এন্টি আল্লাহ (গাইরুল্লাহ) সবকিছু তাগুত। এন্টি ইসলাম সবকিছু তাগুত। ইসলামের শরীয়াহ শাসক ছাড়া সকল শাসক তাগুত। ইসলামের শরীয়াহ শাসন ছাড়া সকল শাসন তাগুতের শাসন। তেমনি গণতন্ত্র হল তাগুতের শাসন। গণতন্ত্রকে অস্বীকার করার জন্য এই কথাটিই যথেষ্ঠ মুসলিমদের জন্য। আর এটা হল সেই ফিতনার সময়কাল যখন মানুষ জালিম তাগুতের জুলুমের শিকার হলেও জালিম শাসকের বিরোধিতা করে, তবুও তাগুতের শাসন ব্যবস্থার বিরোধিতা করতে পারে না অথচ মূল সমস্যাটা এটাই। জনগণ হয়ত শাসকদের বিরোধিতা করে তাদের দূ্র্নীতি অথবা জুলুমের কারণে অথচ তারা তাগুত হওয়ার কারণে বিরোধিতা করে না। স্পষ্টতই শিরক, কেননা তারা ইনসাফ আশা করেছিল, তারা তাগুতের কাছে তাহকুম করেছি কিন্তু ফলাফল না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করে। অথচ মুসলিমরা প্রথমত সকল প্রকার তাগুতকে অর্থাৎ নকল ইলাহ (গাইরুল্লাহ) অস্বীকার করবে, এদের বিরোধিতা করবে এই কারণে যে তারা তাগুত।

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ ۚ وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَىٰ إِثْمًا عَظِيمًا
“নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহর সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল।” [সূরা আন-নিসা: ৪৮]


আমি আবারো বলছি প্রথমত এই কারণে বিরোধিতা করবে, এটাই মুসলিমের বৈশিষ্ট্য। এরপর তাগুতের জুলুম, দূর্নীতির বিরোধিতা করবে। তাগুতের শাসনের চেয়ে বড় দূর্নীতি আর বড় জুলুম আর কিছুই হতে পারে না। কারণ সকল দূর্নীতি আর সকল জুলুমের এবং সকল রকমের প্রতারণা তো ওই তাগুতের মাঝেই নিহিত।


فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِن بِاللّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَىَ لاَ انفِصَامَ لَهَا وَاللّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
“সুতরাং যে তাগুতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে সে এমন মজবুত রজ্জুকে ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে যার কোন বিভক্তি বা চিড় নেই, আর আল্লাহ সর্ব শ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।” [সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৬]


প্রত্যেক মুসলিমদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি গণতন্ত্রের ব্যাপারে এবং গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ব্যাপারে। আপনারা লক্ষ্য করুন কারা এই শাসন ব্যবস্থার পক্ষে কথা বলে, তাদের মেরুদন্ড কি, তাদের জীবন ব্যবস্থা কি আর তাদের উদ্দেশ্যই বা কি? তারা কি এতদিন কারো উপকার করেছে? তারা কি আপনার জীবনে নিশ্চয়তা দেয় অথবা কাউকে নিশ্চয়তা দিয়ে দেখিয়েছে? তারা কি আপনার মৃত্যুর পরের জীবনের নিশ্চয়তা নিয়ে কথা বলে? তাদের সম্পর্কে কি ভাবার সময় আসে নি? আর কতকাল অন্ধের মত শিরক, কুফর করবেন? “হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালিমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।” [সূরা আল-মায়িদাহ: ৫১] মনে রাখবেন যে পরকালে আপনার জন্য একমাত্র আপনিই জবাবদিহি করবেন, না করব আমরা আর না করবে তারা, যাদের আপনি গণতন্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে সমর্থন করেন, তাদের পক্ষে বলেন।


আরো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি আপনাদের যারা আমেরিকান, ইউরোপীয়ান, পৌত্তলিকদের (প্যাগান) life style দেখে অভিভূত! “নগরীতে কাফিরদের চাল-চলন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয়। এটা হলো সামান্য ফায়দা-এরপর তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আর সেটি হল অতি নিকৃষ্ট অবস্থান।” [সূরা আল-ইমরান: ১৯৬-১৯৭] তাদের ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, যানবাহনের উন্নতি দেখে, জাকজমক দেখে যারা তাদের অনুসরণ করতে প্রস্তুত এবং তাদেরই সভ্য মনে করেন, তাদের মত হওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাদের কথিত সুষ্ঠ গণতন্ত্র নিজ দেশে আমদানী করার জন্য গলাবাজি করেন তাদের বলছি,


أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُواْ نَصِيبًا مِّنَ الْكِتَابِ يُؤْمِنُونَ بِالْجِبْتِ وَالطَّاغُوتِ وَيَقُولُونَ لِلَّذِينَ كَفَرُواْ هَؤُلاء أَهْدَى مِنَ الَّذِينَ آمَنُواْ سَبِيلاً
“আপনি কি তাদেরকে দেখেন নি, যারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছে, যারা মান্য করে প্রতিমা ও তাগুতকে এবং কাফিরদেরকে বলে যে, এরা ঈমানদারদের তুলনায় অধিকতর সরল সঠিক পথে রয়েছে।” [সূরা আন-নিসা: ৫১]


আর তাদের বলছি যারা আরো এক ধাপ এগিয়ে ইসলাম কায়েমের জন্য সরাসরি ইলামের খিলাফাহ দাওয়াহ না দিয়ে ইসলামিক গণতন্ত্রের দাওয়াহ দেন এবং এটির উপরই চূড়ান্ত বিশ্বাস রাখেন যে এটিই সঠিক এবং একমাত্র পথ এবং এটিই যৌক্তিক তাদের বলছি,




أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُواْ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَن يَتَحَاكَمُواْ إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُواْ أَن يَكْفُرُواْ بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُضِلَّهُمْ ضَلاَلاً بَعِيدًا
“আপনি কি তাদেরকে দেখেন নি, যারা দাবী করে যে, যা আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবর্তীণ হয়েছে। তারা বিরোধীয় বিষয়কে তাগুতের দিকে নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা ওকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়।” [সূরা আন-নিসা: ৬০]

আপনার চরমভাবে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন, যেহেতু সময়টা হচ্ছে চরম ফিতনার সময়। কাফিরদের দাওয়াহ দিতে গিয়ে আপনার নিজেরাই কাফিরদের দাওয়াহ গ্রহণ করে বসে আছেন! “ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন। বলে দিন, যে পথ আল্লাহ প্রদর্শন করেন, তাই হল সরল পথ। যদি আপনি তাদের আকাঙ্খাসমূহের অনুসরণ করেন, ঐ জ্ঞান লাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে কেউ আল্লাহর কবল থেকে আপনার উদ্ধারকারী ও সাহায্যকারী নেই।” [সূরা বাকারাহ: ১২০] আপনারা যে ইসলামিক গণতন্ত্র নামক ভয়ংকর ফিতনাতে পড়েছেন যে আপনারা কিছু শিরককেই ইবাদত মনে করছেন আর কিছু ইবাদতকে ভ্রষ্টতা মনে করছেন। গণতান্ত্রিক ইসলামের সমর্থক ভাইদের সতর্ক করে দেয়া মত একটি আয়াত হল,


الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُم بِظُلْمٍ أُولَٰئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُم مُّهْتَدُونَ
“যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে শিরকের সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী।” [সুরা আন’আম: ৮২]

আপনাদের আগেই দেখিয়েছি গণতন্ত্র শব্দটা একে তো অবৈজ্ঞানিক, অযৌক্তিক এবং দ্বিতীয়ত শিরকপূর্ণ একটি শব্দ। কিন্তু ইসলাম তো অবৈজ্ঞানিকও না আর আযৌক্তিকও না। আর ‘ইসলামিক শিরক’ শব্দটা কি কখনো গ্রহণযোগ্য হবে? এটা কি অযৌক্তিক একটা কথা নয়? তাই গণতন্ত্রের মত, ইসলামিক গণতন্ত্রও একটি ধোঁকা, যেখানে ইসলামের শাসনের ‘মূলা’ দেখিয়ে শিরকে নিমজ্জিত করা হয়। ইসলাম শব্দটিকে ব্যবহার করে গণতন্ত্রের শিরককে আচ্ছাদন (আদ-দাজ্জালিন) করা হয়। জনগণের শাসনের ‘মূলা’ দেখায় গণতন্ত্র আর পিছনে করে তাগুতের শাসন, কুফফার রাষ্ট্রের শাসন যেটার উভয়টাই শিরক এবং কুফর। আর ইসলামের শাসনের ‘মূলা’ দেখায় ইসলামিক গণতন্ত্র যে তারা শিরকমুক্ত শাসন কায়েম করবে অথচ পিছনে তারা ওই যে গণতন্ত্র শব্দটা তাত্ত্বিকভাবে যোগ করে এবং এটা এজন্যই যে তাগুতেরা, কুফফার রাষ্ট্র যেন তাদের প্রতি খুশি থাকে। এর মাধ্যমে ইসলামিক গণতন্ত্রও তাগুত কুফফারের শাসন যেহেতু তারাও তাগুতেরই পূজা করে, ইবাদত করে। এর প্রমাণ হল তারা যদি তা না করত তাহলে ইসলামের পরে গণতন্ত্রের শিরকপূর্ণ মত শব্দ যোগ করার সাহস না দেখিয়ে সারাসরি তাওহীদের দাওয়াহ এবং তাগুত বর্জনের দাওয়াহ দিত। যেহেতু “আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুতকে বর্জন কর।” [সূরা আন-নাহল: ৩৬] তারা মূলত দুনিয়ার বেকে শক্তিশালী তাগুতদের খুশি রাখতে চায়! অথচ আল্লাহর চেয়ে শক্তিশালী আর কে আর তারা কতই না বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে আছে। 





وَالَّذِينَ اجْتَنَبُوا الطَّاغُوتَ أَن يَعْبُدُوهَا وَأَنَابُوا إِلَى اللَّهِ لَهُمُ الْبُشْرَى فَبَشِّرْ عِبَادِ
“যারা তাগুতের পূজা-অর্চনা থেকে দূরে থাকে এবং আল্লাহ অভিমুখী হয়, তাদের জন্যে রয়েছে সুসংবাদ। অতএব, সুসংবাদ দিন আমার বান্দাদেরকে।” [সূরা আল-যুমার: ১৭]

তাগুতের পূজা-অর্চানা থেকে দূরা থাক মানে শুধুমাত্র এই নয় যে লাত-উজ্জা, দূর্গা-কালী, মাজার-পীর এইসবের পূজা-অর্চনা থেকে দূরে থাকা, বরং এগুলোর সাথে সাথে স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, শোক দিবস, কুফফারের তৈরী করা আযৌক্তিক সব ইভেন্ট, তাদের তৈরী আইন, তাদের দর্শনের পূজা-অর্চনা থেকে দূরে থাকা। মূলত ইসলামে দর্শনশাস্ত্র, মানসিক-মানবিক বিজ্ঞান, সমাজনীতি, রাজনীতি, সাহিত্য ইত্যাদির কোন অভাব পড়ে নি। মুসলিম মনীষীদের সেই সব জ্ঞানগুলো এখনো লিপিবদ্ধ আছে যেগুলো কখনোই কুফফরেরা ব্যবহার করতে পারে নি আর পারবেও না। যেহেতু তারা সেগুলো করে না, তাই মুসলিমদের মধ্যে যারা কার্যত কুফফারের অনুসরণ করে, তারা এই সম্পর্কে কোন ধারণাই রাখে না। কাফিররা যা পেরেছে, মুসলিমদের বিজ্ঞানকে upgrade করে নিজেদের সত্ত্বাধিকারী করে নিয়েছে। এই এক জিনিসের সত্ত্বাধিকার নিয়ে তারা পুরো মুসলিম বিশ্বকে এমন ভাবে প্রতারিত করছে এবং মাথা কিনে নিয়েছে যে মুসলিমরা তাদের কাছে বিজ্ঞান শিখতে কিয়ে যতসব আবর্জনা শিখে আসে আর ওই সব আবর্জন ক্রয় করে, যেখান মুসলিন মনীষীদের দর্শন, thought, concept so more rich & Islamic.


আর আল্লাহ বলেছেন, “তোমরাই সর্বোত্তম জাতি যাদের সমগ্র মানব জাতির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে যাতে তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাক।” [সূরা আল-ইমরান: ১১০] কথা ছিল আমরা তাদের দাওয়াহ দিব এবং তারা আমাদের দাওয়াহ গ্রহণ করবে আমাদের নসীহা গ্রহণ করবে আর আমাদের থেকে সমাজনীতি, রাজনীতি, নারীঅধিকার, মানবতা শিখবে। অথচ উল্টো আমরাই আজ তাদের থেকে এগুলো শিখছি, যেখান তাদের কাজগুলো খুবই নিকৃষ্ট! বিজ্ঞানের নাম করে আমরা তো বিজ্ঞান নিজেদের জন্য কাজে লাগাতেই পারলাম না উল্টো তাদের কাছ থেকে তাদের বস্তাপঁচা দর্শন আমদানী করলাম, যেখানে মুসলিম নিজস্ব দর্শন অনেক বৈজ্ঞানিক এবং অনেক বেশি যৌক্তিক। আমরা আমদানী করলাম এবং করছি তাদের রাষ্ট্রনীতি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র! এরপর সমাজনীতি সমানাধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা। এরপর আমদানী করলাম পরিবারনীতি দেরিতে বিবাহ, নারীদের পর্দা থেকে মুক্তকরণ, তাদের দিয়ে অর্থ উপার্জন, যতভাবে ভোগ করা যায় ততভাবে তাদের ব্যবহার, কম সন্তান গ্রহণ ইত্যাদি ইত্যাদি, যার সকল কিছুই এন্টি ইসলামিক। আর এখন ব্যক্তিনীতিও আমদানী করছি, সমকামিত আনছি ক’দিন পরে তাদের আযাচারের যে সংস্কৃতি তা আমদানী করলেও অবাক হব না এই কারণে যে তৃণমূল পর্যায়ে এটির প্রচারণা শুরু হয়ে গিয়েছে। মুসলিম সন্তানদের আযচারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে অভিশপ্ত পৌত্তলিকেরা। “আপনি সব মানুষের চাইতে মুসলিমদের অধিক শত্রু ইহুদী ও মুশরিকদেরকে পাবেন।” [সূরা মায়িদাহ: ৮২] এর চেয়ে ভয়াবহ আর কি হতে পারে। আর কোন সব মূর্খ বলে তাগুতের প্রকাশ্য বিরোধিতা করে বিপদে ফেলো না, অথচ যেরকম বিপদের আশংকা করছে, তার চেয়ে গভীর বিপদে তারা নিমজ্জিতই রয়েছে। আর এই সব সম্ভ হয়েছে দখলদার তাগুত শাসকগোষ্ঠী মানুষের সামনে গণতন্ত্র, মানবতা, সমানাধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন, ধর্মনিরপেক্ষতা, বাকস্বাধীনতা ইত্যাদির মূলা ঝুলিয়ে রেখেছে। এর সমাধান কি?



الَّذِينَ آمَنُواْ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللّهِ وَالَّذِينَ كَفَرُواْ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ فَقَاتِلُواْ أَوْلِيَاء الشَّيْطَانِ إِنَّ كَيْدَ
الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا
“যারা ঈমানদার তারা যে, যুদ্ধ (ক্বিতাল) করে আল্লাহর রাহেই। পক্ষান্তরে যারা কাফির তারা যুদ্ধ (ক্বিতাল) করে তাগুতের পক্ষে। সুতরাং তোরা যুদ্ধ (ক্বিতাল) করতে থাক শয়তানের পক্ষালম্বনকারীদের বিরুদ্ধে, শয়তানের চক্রান্ত একান্তই দুর্বল।” [সূরা আন-নিসা: ৭৬]

আপনারা দেখবেন যারা গণতন্ত্রের সোল এজেন্ট তারা এই গণতন্ত্রে নামে যে কত মানুষ, কত মুসলিম হত্যা করেছে, মুসলিমদের দিয়েই মুসলিমদের হত্যা করাচ্ছে তারা সর্বদাই আলোচনা, সমোঝতার কথা বলে কিন্তু প্রতিবারের মত তারা পিছনে অস্ত্র লুকিয়ে রাখে ক্বিতাল করার জন্য। যারা কুফফারের দাওয়াহ গ্রহণ করে, তাগুতের দাওয়াহ গ্রহণ করে তারা তো তাদের অন্তর্ভুক্তই আর যারা গ্রহণ করে না এবং যাদের গ্রহণ করার কোন সম্ভাবনা নেই তাদেরকে তাদের করা হয় হত্যা, তাদের দেয়া হয় অপবাদ এবং তাদেরকে নেতিবাচক হিসেবে, মানবতার শত্রু হিসেবে দেখানো হয়, অথচ ব্যাপারটি পুরো উল্টো। ফিতনার এই তাগুত, কুফফাররা সকল সত্যকে নিজেদের মুখোরোচক বিভিন্ন মিথ্যা দিয়ে আচ্ছাদন (আদ-দাজ্জালিন) করে রাখে। তারা কখনোই অস্ত্র ত্যাগ করে না এবং প্রত্যকেবার তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধ ক্বিতাল পরিচালনা করে আর যখন মুসলিমরাও আত্মরক্ষার জন্য ক্বিতাল পরিচালনা করে তখন তাদেরকে বানিয়ে দেয়া হয় সন্ত্রাসী, জঙ্গি। এমনকি মুসলিমদের পরিবার, পরিজনদে হত্যা করে তাগুত, কুফফাররা মুসলিমদেরই নাম দেয়। “আর যারা কাফির তারা পারস্পরিক সহযোগী, বন্ধু। তোমরা (মুসলিমরা) যদি এমন ব্যবস্থা না কর (পরস্পরের সহযোগী না হও), তবে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বিস্তার লাভ করবে এবং দেশময় বড়ই অকল্যাণ হবে।” [সূরা আন’ফাল: ৭৩]


এসময় দরকার মুসলিমদের একতা, মুসলিমদের খলিফা, মুসলিমদের শরীয়াহ তথা ইসলামের খিলাফাহ ব্যবস্থা। আর এই খিলাফাহ যেন গঠান হতে না পারে, তার জন্য জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে মুসলিমদের ভাগ করে নিজেদেরকে নিজেদের শত্রু বানানো হল। তার পর প্রতিটি জাতীয়াবাদী দেশে গণতন্ত্রের নামে মূলত তাগুতের, কুফফারের শাসন কায়েম করল। তারপর রাজনৈতিক দলের নামে একটি দেশের মধ্যেই মুসলিমদের আবারো পৃথক করে দেয়া হয় যেন তারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস করতে পারে এবং যেন একতাবদ্ধ না হয়। মুসলিমদের উপর Divide & Rule থিওরীর সফল প্রয়োগ করতে সক্ষম হল তাগুত কুফফাররা আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে শুরু করে, জাতীয়, এবং সমাজিক এমন কি পারিবারিক পর্যায়েও!! নর-নারী সমানাধিকারের নাম করে তাদের মধ্যে Divide & Rule. নির্বাচনের নাম করে বিভিন্ন তাগুতি রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার নেশাকে কেন্দ্র করে Divide & Rule. মুসলিম খিলাফাহকে ধ্বংস করে রঙিন জাতীয়তাবাদী পতাকায় তাদের বিভক্ত করে Divide & Rule! আর তারা তাদের দেয় শিক্ষা ব্যবস্থা ও সিলেবাস মুসলিমদের উপর চাপিয়ে দিয়ে ইসলাম থেকে বিচ্যুত করছে এবং যতপ্রকারের অবর্জনা সম্ভব মুসলিম তরুণদের গিলিয়ে Divide & Rule থিওরীর সফল প্রয়োগ করছে। অথচ সকল তন্ত্র, মন্ত্র, দর্শন, তাগুত বাদ দিয়ে মুসলিমরা কেবল ইসলামকেই দাঁতে দাঁত চেপে আক্রে ধরবে, এক আল্লাহ ইবাদত করবে। এমনটাই তো কথা ছিল। তাদের বিশ্বাস থাকবে আল্লাহ প্রতি পর্বতের চেয়েও কঠিন, সমুদ্রের চেয়েও বিশাল। অথচ তারা আজ সন্দেহে পতিত আর বিভ্রান্ত হচ্ছে। আল্লাহ অস্তিত্ব তাদের কাছে দিন দিন তাত্ত্বিক হয়ে দাড়িয়েছে অথচ আল্লাহর নিদর্শন আমাদের জীবনে প্রতিটি ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতম ক্ষণে বিদ্যমান। 






اللّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُواْ يُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّوُرِ وَالَّذِينَ كَفَرُواْ أَوْلِيَآؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُم مِّنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ أُوْلَـئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
“যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তাদেরকে তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে। আর যারা কুফরী করে তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই হল জাহান্নামের অধিবাসী, চিরকাল তারা সেখানেই থাকবে।” [সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৭]
সকল প্রশংসা আল্লাহর যে তিনি আমাকে যতটুকু জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিয়েছেন, ততটুকুর আলোকেই গণতন্ত্রের মত কুফরী কাজের ব্যাপারে বর্ণনা করলাম। এটা যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পইত ষড়যন্ত্র তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। “বলুন, সত্য এসেছে মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, নিশ্চয়ই মিথ্যা তো বিলুপ্ত হবে।” [সূরা বনী-ইসরাইল: ৮১] আর গণতন্ত্র যদি কেউ না জেনে শুনে সমর্থন করে তবে সে যে কুফর করার অপরাধ থেকে নিষ্কৃতি পাবে কি না আল্লাহই ভালো জানেন এবং যে সকল কিছু জেনে বুঝেও এই গণতন্ত্র সমর্থন করবে সেও কি শিরকের অপরাধ থেকে নিষ্কৃতি পাবে কি না আল্লাহই ভালো জানেন। 




إِنَّهُ مَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ
“নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরকে লিপ্ত হয়, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার জন্য জাহান্নামকে অবধারিত করে দেন।” [সূরা আল-মায়িদাহ: ৭২]

“When the Kuffar & Taghut have their foot over your neck and you are talking about Islam being the Religion of Peace and its Tolerance. You need to be talking about how to fight back and how to remove the Foot of the Kuffar & Taghut from your neck rather than talk about Peace and Tolerance. Yes! Islam is a Religion of Tolerance and Peace but sometimes you need to point out that Islam is also a Religion of Justice.” -Imam Anwar Al Awlaki (RahimahulAllah)
 
সর্বশেষে,
আমাদের মহিমান্বিত আল্লাহ আয ওয়া যাল যেন আমাদের বাস্তবে সত্য এবং দেখান, এবং আমাদের তা অনুসরণ করার তৌফিক দান করেন। তিনি যেন আমাদের বাস্তবে মিথ্যাচার গুলো দেখিয়ে সেগুলোকে এড়িয়ে চলার এবং সমূলে উৎপাটন করার তৌফিক দান করেন। এবং তা কার্যকরের জন্য তিনি যেন আমাদের তৌফিক দেন, উম্মাহর সম্মান সমুন্নত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, যারা আল্লাহর নিয়মত প্রাপ্ত এবং তাদের থেকে উম্মাহকে দূরের রাখার, যারা আল্লাহর গজব প্রাপ্ত, এবং উম্মাহকে আল-মা’রউফের সাথে আহবান করা (সকল কিছুই আল্লাহকে খুশি করার জন্য) এবং উম্মাহকে আল-মুনকারের প্রতি নিষেধ করা (আল্লাহ এসব বিষয় হারাম করেছেন), এবং আ’দলের (পক্ষপাতহীন ও ন্যায়) সাথে বিচার করা এবং তিনি যেন আমাদের ঐশী সত্য সকলের সামনে ঘোষণা করার তৌফিক দান করেন। তিনি যেন আমাদের খিলাফাহ দিয়ে সম্মানিত করেন এবং শান্তি-সমৃদ্ধি দান করেন। তিনি যেন এর জন্য জীবন ও অর্থ ব্যয় করার তৌফিক দান করেন।


“তারাও ষড়যন্ত্র করেছিল আর আল্লাহও পরিকল্পনা করেছিলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ পরিকল্পনাকারী।” [সূরা আল-ইমরান: ৫৪] এবং যখন জিহাদের পতাকা উড়তে থাকে উম্মাহর সম্মান এবং মর্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্য তাতে শামিল হওয়ার এবং ফিলিস্তিনী থেকে শুরু করে স্পেন পর্যন্ত, ইন্দোনেশিয়া থেকে শুরু করে মরক্কো পর্যন্ত মুসলমদের থেকে ছিনিয়ে নেয়া ভূমিগুলোতে অন্যান্য যেসব জায়গায় জালিম শাসকদের জুলুমের শিকার দূর্বল মুসলিমরা, আরো একবার যেন সেখানে তাওহীদের পতাকা উত্তোলন তৌফিক দান করেন। “তাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর, আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন তোমাদের হাতে, আর তাদের লাঞ্ছিত করবেন, আর তোমাদের সাহায্য করবেন তাদের বিরুদ্ধে, আর মুমিন সম্প্রদায়ের বুক প্রশমিত করবেন।” [সূরা আত-তাওবাহ: ১৪]


আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা যেন আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠভাবে সহায়তা করেন, আমাদের থেকে আমাদের পাপগুলো যেন দূর করে দেন।


আল্লাহ আমাদের কথাগুলোকে সহজ এবং সরল করে দিন যেন আমরা আমাদের পদক্ষেপ পরিপূর্ণ এবং সঠিকভাবে নিতে পারি, এবং আমাদের উপর রহমত বর্ষণ করুন যেন আমার পার্থিব জীবনে আল্লাহকে খুশি করতে পারি আর সর্বশ্রেষ্ঠ পরিসমাপ্তি ঘটে যখন আমরা মৃত্যু বরণ করব, মূলত আল্লাহই সকল কিছু পরিচালক।


এবং আমাদের আহবান, সকল প্রশংসা আল্লাহ রব্বুল আ’লামীনের প্রতি, আল্লাহই সর্বজ্ঞানী।


দেশ প্রেমকে বাঙালিরা নিজের ধর্ম মেনে নিয়েছে!!
এই জাতীয়তাবাদিরা ইসলামের জন্য জান দেওয়ার আশা নারেখে দেশের জন্য জান দিতে চায়..
ওরা নবী রাসুল এবং সাহাবাদের আদর্শ নামেনে তাদের রাজনৈতিক লিডারদের আদর্শ মেনে নিয়েছে..
ওরা দুনিয়াবী কিছু লাভের জন্য কোরআনকে সংবিধান নামেনে মানব রচিত আইন বিধানকে সংবিধান মেনেনিয়েছে..
আল্লাহর হারাম হালাল করে দওয়া বিষয় নামেনে ওরা সংস্কৃতির নামে হিন্দুদের দিন রাত নকল করে যাচ্ছে..
আল্লাহ মূর্তি পূজা হারাম করে দিয়েছেন ওরা শহীদ মিনার নামের মূর্তি তৈরী করেছে..
ওরা ইসলামের কালো/সাদা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পতাকা বাদ নিয়ে নিজের লাল সবুজ পতাকা তৈরী করেছে..
এমনকি ওরা এইসব কিছুকে জাল হাদিস বানিয়ে সব কিছুকে বৈধ করার চেষ্টা করছে, এই কথা বলেযে 'দেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ'..
ইত্যাদি

আমার মতে এই দেশপ্রেম আজ তাগুতে পরিবর্তন হয়েছে..এবং আল্লাহ কোরানে বলেছেন. "তাগুতকে বর্জন কর এবং আল্লাহর উপর ইমান আনো" [২:২৫৬]
আল্লাহ যেন আমাদের বুঝার এবং আমল করার তাওফীক দান করেন..আমীন ‪#‎আবুমুসলিম‬ 

"যে ব্যক্তি সঠিক পথ প্রকাশিত হওয়ার পরও রাসুলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ বাদ দিয়ে ভিন্ন পথ অনুসরণ করে,আমি তাকে সে পথেই ফিরাব যে,সে ফিরে যায়,আর তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব,কত মন্দই না সে আবাসস্থল"।

(সূরাঃ আন-নিসা ৪/১১৫


কেন মানুষদের *শুধু* জামাতে সালাত আদায়ের দিকে ডাকবো, কেন **পাশাপাশি* খালেদা হাসিনার জুলুম আর মুনকার অপসারণের হাদিস গুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার মতো ফরয হুকুমের দিকে ডাকবো না?!?! রাসুলুল্লাহ (সা) কি *শুধু* দাড়ি রেখেছিলেন নাকি উনি পাশাপাশি নিজের শরীরের রক্ত ঝরিয়েছিলেন তায়েফের ময়দানে ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য। মক্কী জীবনে যখন দাও'আহ করা ফরয হয়নি, তখন সাহাবারা নিজেদের জীবন পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছিলেন আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার (তাওহীদুল ইবাদাহ) জন্য, আর বর্তমানে ফরয কে অবহেলা করে *শুধু* নফল হুকুমের জন্য আমরা ঘাম ঝরাতে রাজি।

ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল জাওযিয়াহ (র) বলেছিলেনঃ

"শয়তান কিছু মানুষদের বিপথে নিয়ে গেছে তাদের চোখে কিছু নফল ইবাদত যেমন নফল সালাহ, সিয়ামকে সুন্দর বানিয়ে দেয়ার মাধ্যমে এবং একই সময় তাদের দ্বারা অবহেলিত করিয়ে নিচ্ছে 'আল-মারুফ' (সর্ব প্রকার ভাল কাজ) এর দিকে মানুষদের ডাকা এবং 'আল-মুনকার' (সর্ব প্রকার অন্যায়) এর মূলোৎপাটনের ফরয কাজসমূহকে, এই বিপথে এমন ভাবে নেয়া হচ্ছে যে তারা নিজেদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছা পোষণ করেনা এই ফরয হুকুম পালনের। এইরুপ লোকদের ফুকাহারা বিবেচনা করে ধর্মের দাঁড়িপাল্লার একেবারে নীচে; কারন আমাদের ধর্মের মুল নির্যাস হল সেটাই করা যেটা আল্লাহ ফরয করে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি তার এই ফরয হুকুম সমূহকে পালন করে না সে প্রকৃতপক্ষে যে পাপ কাজ করে তার চেয়েও খারাপ"

[আ'লাম আল মুয়াক্কি'ইন]


 জনৈক গণতন্ত্রপূজারী লিখিয়াছে-

"গনতন্ত্রকে পন্থা হিসেবে গ্রহন করতে কোনই সমস্যা নেই। কিন্তু আদর্শিক ভাবে গনতন্ত্র ইসলামের সাথে সাংঘার্ষিক।"

গণতান্ত্রিক পন্থায় আইন তৈরি হয় কিংবা বৈধ অবৈধ নির্ধারিত হয় বিল উত্থাপন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠা ফলো করার মাধ্যমে। আর এটা সুস্পষ্ট কুফরি। ইসলামে আইনের ভিত্তি হল অহী।

কাজেই যারা বলে গণতন্ত্র আদর্শ হিসেবে ইসলামের সাথে যায় না কিন্তু পন্থা হিসেবে গ্রহণ করা যায়. তাদের ছাগলামি ও বলদামি দেখিতে দেখিতে গোটা ফেসবুকবাসী ক্লান্ত।


সত্যানুসন্ধানীদের জন্য নিচের আর্টিকেল দুটি ইনশাআল্লাহ যথেষ্ট হবে।

(গণতন্ত্র ও ইসলামের কিছু মৌলিক পার্থক্য) :

http://gurabamedia.wordpress.com/2012/05/06/ইসলাম-ও-গণতন্ত্র-কিছু-মৌল/

(মানুষের তৈরি আইন, বিধান, মতবাদ দিয়ে আল্লাহর আইন প্রতিস্থাপন)

http://gurabamedia.wordpress.com/2012/05/06/মানুষের-তৈরী-আইন-মতবাদ-দ্/ 

 

“সুতরাং যে তাগুতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে সে এমন মজবুত রজ্জুকে ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে যার কোন বিভক্তি বা চিড় নেই, আর আল্লাহ সর্ব শ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।” [সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৬]


প্রত্যেক মুসলিমদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি গণতন্ত্রের ব্যাপারে এবং গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ব্যাপারে। আপনারা লক্ষ্য করুন কারা এই শাসন ব্যবস্থার পক্ষে কথা বলে, তাদের মেরুদন্ড কী, তাদের জীবন ব্যবস্থা কি আর তাদের উদ্দেশ্যই বা কি? তারা কি এতদিন কারো উপকার করেছে? তারা কি আপনার জীবনে নিশ্চয়তা দেয় অথবা কাউকে নিশ্চয়তা দিয়ে দেখিয়েছে? তারা কি আপনার মৃত্যুর পরের জীবনের নিশ্চয়তা নিয়ে কথা বলে? তাদের সম্পর্কে কি ভাবার সময় আসে নি? আর কতকাল অন্ধের মত শিরক, কুফর করবেন?





“হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালিমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।” [সূরা আল-মায়িদাহ: ৫১] মনে রাখবেন যে পরকালে আপনার জন্য একমাত্র আপনিই জবাবদিহি করবেন, না করব করব আমরা আর না করবে তারা যাদের আপনি গণতন্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে সমর্থন করেন, তাদের পক্ষে বলেন।


আরো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি আপনাদের যারা আমেরিকান, ইউরোপীয়ান, পৌত্তলিকদের (প্যাগান) life style দেখে অভিভূত! “নগরীতে কাফিরদের চাল-চলন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয়। এটা হলো সামান্য ফায়দা-এরপর তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আর সেটি হলো অতি নিকৃষ্ট অবস্থান।” [সূরা আল-ইমরান: ১৯৬-১৯৭] তাদের ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, যানবাহনের উন্নতি দেখে, জাকজমক দেখে যারা তাদের অনুসরণ করতে প্রস্তুত এবং তাদেরই সভ্য মনে করেন, তাদের মত হওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাদের কথিত সুষ্ঠ গণতন্ত্র নিজ দেশে আমদানী করার জন্য গলাবাজি করেন তাদের বলছি,




“তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছে, যারা মান্য করে প্রতিমা ও তাগুতকে এবং কাফিরদেরকে বলে যে, এরা ঈমানদারদের তুলনায় অধিকতর সরল সঠিক পথে রয়েছে।” [সূরা আন-নিসা: ৫১]


আর তাদের বলছি যারা আরো এক ধাপ এগিয়ে ইসলাম কায়েমের জন্য সরাসরি ইসলামের খিলাফাহ’র দাওয়াহ না দিয়ে ইসলামিক গণতন্ত্রের দাওয়াহ দেন এবং এটির উপরই চূড়ান্ত বিশ্বাস রাখেন যে এটিই সঠিক এবং একমাত্র পথ এবং এটিই যৌক্তিক তাদের বলছি,




“আপনি কি তাদেরকে দেখেন নি, যারা দাবী করে যে, যা আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবর্তীণ হয়েছে। তারা বিরোধীয় বিষয়কে তাগুতের দিকে নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা ওকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়।” [সূরা আন-নিসা: ৬০]


“ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন। বলে দিন, যে পথ আল্লাহ প্রদর্শন করেন, তাই হল সরল পথ। যদি আপনি তাদের আকাঙ্খাসমূহের অনুসরণ করেন, ঐ জ্ঞান লাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে কেউ আল্লাহর কবল থেকে আপনার উদ্ধারকারী ও সাহায্যকারী নেই।” [সূরা বাকারাহ: ১২০] 









শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৪

গণতন্ত্র হারাম অথচ এটার জন্য মরলে বলে শহীদ ?




প্রিয় বন্ধুগন আজকে আমার ষ্ট্যাটাসে এক শিবির কর্মী (shibir hamza) কি কমেন্ড
করেছে দেখুন...
তার কমেন্ড হুবাহু কপি করে দেওয়া হল...

"কওমী আলারাই এ দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় প্রধান বাধা।
এতো দিন আলিগকে ভোট দিসে আর এখন মার খেয়ে তার পর সোজা হইছে আগে সোজা হলে এ দেশে ইসলাম অনেক এগিয়ে যেত।"
= = = = = = = = = = = = =
বন্ধুরা বলুন এমন লোকদের কি বলা যায়?
ওদেরকে কি বলে মন্তব্য করা উচিৎ আমি ভাষা খুজে পাচ্ছি না।
তাই এর ভার আপনাদের উপর ছেরে দিলাম।

সকল বন্ধুদের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলছি, আমরা মন্তব্য প্রকাশ করব তা ঠিক কিন্তু তা মার্জিত ভাষায় হওয়া বাঞ্ছনিয়ো।
কারন আমরা খারাপেরকে ভাল দ্বারা প্রতিহত করতে চাই।
প্লিজ বন্ধুগন আমরা অমার্জিত ভাষা পরিহার করি।
(উক্ত ষ্ট্যাটাস ও কমেন্ড এর লিঙ্ক দেখতে প্রথম কমেন্ড দেখুন।)




































এই হল জামাত নেতার গোলাম আজমের ফ্যামিলীর অবস্থা। সবাই ইসলামের নামধারীদের চিনে রাখুন।See Translation