শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০১৪

জামায়াতের ইফতার পার্টি ড্যান w মজীনা


সৌদী-মার্কিনসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের অংশগ্রহণ
কূটনীতিকদের সম্মানে জামায়াতের ইফতার পার্টি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা নোংরা রাজনীতির শিকার বলে অভিযোগ করেছেন দলের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। দলের আমির মতিউর রহমান নিজামীসহ শীর্ষ নেতাদের সরকার অন্যায়ভাবে বন্দী করে রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বুধবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের নায়েবে আমির এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘এর জন্য আমাদের অন্তরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ সন্ধ্যায় আমরা তাঁদের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছি।’
জামায়াতে ইসলামীকে দেশের সর্ববৃহত্ ইসলামি দল দাবি করে মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জামায়াত আন্তরিকভাবে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। একটি শান্তিকামী রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত কখনো সন্ত্রাসবাদে বিশ্বাস করে না; বরং সর্বপ্রকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে ঘৃণা করে।’
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। এ সময় জামায়াতের আইনবিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার, কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
ইফতার অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক কোরের ডিন শাহের মুহাম্মদ, সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন নাসের আল-বুসাইরি, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত হোসাইন মুফতুগস্নু, মিসরের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইজ্জত, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মেরিডি ল্যানডিমো, ব্রিটেনের ডেপুটি হাইকমিশনার নিকলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি চীফ অব মিশন মি. জন ডেনি লুইস, অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার লুসিন্দা বেল, কাতারের ডেপুটি হেড অব মিশন খালিদ জাহিদ এম আল-মাহমুদ, কানাডার ডেপুটি চিফ অব মিশন ডেনিয়েল লুতফি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ইরান, ওমান, লিবিয়া, রাশিয়া, ভারত, জাপান, ভিয়েতনাম, ব্রুনাই, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশের কূটনীতিকগণ।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান জামায়াতে ইসলামীর দাওয়াতে সাড়া দিয়ে ইফতার মাহ্ফিলে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, চার্জ দ্যা এ্যাফেয়ার্সসহ কূটনীতিকগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ মাহ্ফিলে আপনাদের উপস্থিতি মাহফিলকে স্বার্থক করেছে।
(4 photos)
 
 














































































































শুক্রবার, ২০ জুন, ২০১৪

মানবরচিত বিধান দ্বারা শাসন/বিচার করার কুফ্‌র ও শির্‌ক

মানবরচিত বিধান দ্বারা শাসন/বিচার করার কুফ্‌র ও শির্‌ক এই বিষয়ে সাহাবাগণ ت কি বলেছেন?

18 June 2014 at 08:07
আযহারি উল-ক্বুদাআ’ বইটিতে বর্ণিত আছে যে, মানবরচিত বিধান সম্পর্কে ইব্‌ন ‘আব্বাস (রদিঃ) বলেছেন,(৭১)
 
হাসান ইব্ আবী আর-রাবী আল-জুরজানী رحمه الله () থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমরাআব্দুর্‌ রযযাক رحمه الله (৭৩) থেকে, তিনি মামার رحمه الله (৭৪) থেকে, তিনি ইব্ তাঊস رحمه الله (৭৫) থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে শুনেছেন, যিনি বলেছেন, ‘ইব্আব্বাস (রদিঃ) আল্লাহ্‌র এই উক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন,
আর যারা আল্লাহ্‌ যা নাযিল করেছেন, তদানুযায়ী বিচার করে না, তারাই কাফির (অবিশ্বাসী) -সূরা আল-মাইদাহঃ ৪৪ 
তিনি [ইব্আব্বাস (দিঃ)] বলেছেন, এটা যথেষ্ট কুফ্(৭৬) 

সা‘ঈদ ইব্‌ন জুবাইর رحمه الله বর্ণনা করেছেন যে, ইব্‌ন ‘আব্বাস (রদিঃ) নিরাশভাবে এই আয়াত সম্পর্কে বলেছেন যে, তোমরাই সর্বোত্তম মানুষ যখন যা কিছু তোমাদের জন্য সুমিষ্ট তা ক্বুরআন- থাকে আর যা কিছু রূঢ়, কঠোর টক্তা কিতাবীদের জন্য থাকে (বর্ণনাকারী বলেছেন, ‘ঠিক যেন তিনি দেখতে পাচ্ছেন (৭৭) যে, ৩টি আয়াত মুসলিমদের জন্যও প্রযোজ্য’) (৭৮) আরোও বর্ণিত আছে যে, ইব্‌ন ‘আব্বাস (রদিঃ) বলেছেন যে, তোমরাই সর্বোত্তম মানুষ যদি যা কিছু ক্বুরআন- সুমিষ্ট, তা তোমাদের জন্য থাকেতারপর তিনি যোগ করলেন, যে কেউ আল্লাহ্‌র আইন/শাসন/বিচার পরিত্যাগ/বাতিল (জাহিদান) করে, এবং এরপর সে একজন কাফির

ইব্‌ন ‘আব্বাস (রদিঃ) যা বলেছেন, তা ছাড়াও আরোও একজন সাহাবী, ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাস‘ঊদ (রদিঃ)(৭৯), এই আয়াত সম্পর্কে বলেছেন, যখন তিনি কিছু মানুষের দ্বারা জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন যে, রেশওয়া (একটি ঘুষ) কি? তিনি জবাব দিয়েছিলেন, এটা সুহ্ (অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ) তখন তারা বলল, না, আমরা বিচার এবং শাসনের ক্ষেত্রে বোঝাতে চাইছিতিনি বললেন,
 
এটাই হল অতি/অত্যন্ত/ভারী/খুব কুফ্ (৮০) 
এ সকল তথ্য ছাড়াও, আমাদের সাহাবা (রদিঃ)-এর শাসন/বিচার সম্পর্কিত ইজমা’ সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করা উচিৎ যা নিম্নে উল্লেখ করা হয়েছে,
প্রখ্যাত সাহাবী, জাবির ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ (রদিঃ) বলেছেন,
 
আল্লাহ্‌র রসূল আমাদেরকে আদেশ করেছেন এটা দিয়ে আঘাত করতে (এবং তিনি তার তরবারীর দিকে নির্দেশ করলেন) যে কেউ সেটার বাহিরে চলে যায় (এবং তিনি ক্বুরআন-এর দিকে নির্দেশ করলেন) (৮১)(৮২) 

তাদের সম্পর্কে ঠিক এটাই আহ্‌ল উস্‌-সুন্নাহ ওয়াল-জামা‘আহ্‌ বলেছে, যারা আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা‘য়ালা যা নাযিল করেছেন তা ব্যতীত শাসন করে, শারী‘য়াহ পরিবর্তন করে বা আইন প্রণয়ন করে। এটা বড় কুফ্ (কুফ্‌ আল-আকবার) যদি তারা কিছু ক্ষেত্রবিশেষে তা প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়, তা কুফ্‌র যা কুফ্‌র অপেক্ষা ছোট (কুফ্‌র আল-আসগার) হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। অন্যভাবে আমরা এটাকে বলতে পারি যে, সেটা একটি ছোট কুফ্‌র।

এর কারণ হল, আহ্‌ল উস্‌-সুন্নাহ্‌ ওয়াল-জামা‘আহ্‌-এর নিয়ম হল একটি বিচার নিবেদন করার পূর্বে সে সংশ্লিষ্ট সকল আয়াতসমূহকে ব্যবহার করা, যেখানে বিদ‘ঈ মানুষেরা শুধুমাত্র সে সকল আয়াতসমূহকে ব্যবহার করে, যেগুলো তাদের পছন্দসই হয় এবং না বুঝেই বিচার করে। এই বাস্তবতাকে সমর্থন করে, কেউ কখনো ইব্আব্বাস (রদিঃ) বা অন্য কারোও থেকে আইন প্রণয়ন (তাশরী) সম্পর্কে এরূপ উক্তি খুঁজে পাবে না যে, একটি শির্ যা শির্ অপেক্ষা ছোট, যেহেতু আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা‘য়ালা ক্বুরআন-এ বলেছেন,
 
তাদের কি এমন কতক শরীক দেবতা আছে, যারা তাদের জন্য এমন এক দ্বীনের বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ্‌ দেননি? আর যদি ফয়সালার বাণী না থাকত, তবে তো তাদের ব্যাপারে মীমাংসা হয়ে যেত নিশ্চয়ই যলিমদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়কআযাব”-সূরা আশ্‌-শূরাঃ ২১ 
 
এটা ইবরহীম ইব্‌ন আল-হাকাম ইব্‌ন জাহির رحمه الله থেকে তার পিতা আস্‌-সুদ্দাই رحمه الله থেকে সম্পর্কিত যিনি বলেছেন, “ইব্‌ন ‘আব্বাস (রদিঃ) বলেছেন, যে কেউ বিচার করার ক্ষেত্রে যলিম ছিল এবং এবং সে তা জানে, জ্ঞান ছাড়া বিচার করে অথবা বিচারের ক্ষেত্রে ঘুষ নেয়, তবে সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত’” (৮৩) 

যদিও এই উক্তিটি খুবই কঠোর দেখায়, আমাদের খুবই কাছ থেকে এটিকে দেখতে হবে। উপরে উল্লিখিত অপরাধসমূহের সাথে সম্পর্কযুক্ত করলে, এই হাদীসটি আমাদের দেখায় যে, এটা হয় বড় কুফ্ অথবা ছোট কুফ্ বিচারকার্যের তীব্রতা-এর উপর নির্ভর করে, আমরা কুফ্‌র-এর মাত্রা নির্ধারন করতে পারি যে, সেটা বড় নাকি ছোট যুল্‌ম/অত্যাচার-এর ধরন এর উপর নির্ভর করে, আমরা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছাই। যদি যুল্‌ম/অত্যাচার মানুষ-এর  হাক্ব্‌/অধিকার-কে স্পর্শ করে, যেমন হয়েছিল যখন আল-হাজ্জাজ ইব্‌ন ইউসুফ আস-সাক্বাফি-এর ব্যাপক যুল্‌ম/অত্যাচার সংঘটিত হয়েছিল, তবে এটি একটি বড় পাপ (কাবীরা গুনাহ্‌), তবে তা কাউকে ইসলামের পরিধির বহির্ভূত করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। এভাবে এটি ছোট কুফ্‌র; যাহোক, যে কোন মুহূর্তেই যুল্‌ম/অত্যাচার আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তায়ালা-এর হাক্ব্‌-কে স্পর্শ করে, যেমনঃ আইন প্রণয়ন, তবে কোন সন্দেহ ছাড়া এটি বড় কুফ্‌র এবং ততক্ষণ পর্যন্ত এটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না এটি বিরত হয় বা প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিকে তার পদ থেকে সরানো হয়। আর জেনে বা না জেনে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা‘য়ালার আইন দ্বারা সবসময় বিচার করাও একই নিয়ম-বিধি ও শর্তাবলির মধ্যে পড়ে।

আমরা এখন ঘুষ বিষয়টিকে সম্বোধন করব,
 
বাইহাক্বি رحمه الله থেকে নেওয়া একটি হাদীস-এ বর্ণিত আছে, ‘আব্দুল্লাহ ইব‌‌ন মাস‘ঊদ (রদিঃ) আস্‌-সুহ্‌ত-এর ব্যাপারে (অসৎ উপায়ে প্রাপ্ত হারাম উপার্জন) জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, এবং তিনি জবাব দিয়েছিলেন, এটা রাশওয়া (ঘুষ) এরপর তাকে বিচারকার্যে যুল্‌ম/অত্যাচার-এর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যার জবাবে তিনি বললেন, এটাই হল অতি/অত্যন্ত/ভারী/খুব কুফ্ (৮৪) 
 
মাসরুক্ব رحمه الله থেকে নেওয়া হয়েছে যে, তিনি মাস‘ঊদ (রদিঃ)-কে আস্‌-সুহ্‌ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যার প্রতি তিনি বললেন, এটা হল রাশওয়া (ঘুষ)  তিনি (মাসরুক্ব) জানতে চাইলেন, আর বিচারকার্যে?” ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাস‘ঊদ (রদিঃ) উত্তর দিলেন, এটাই হল অতি/অত্যন্ত/ভারী/খুব কুফ্ এরপর তিনি সূরা মাইদাহ, আয়াতঃ ৪৪ তিলওয়াত করলেন।

ইব্‌ন মাস‘ঊদ (রদিঃ) অপর এক ক্ষেত্রে সুহ্‌ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন যখন বিচারকার্যে রাশওয়া ব্যবহৃত হয়েছে, ইব্‌ন মাস‘ঊদ (রদিঃ) জবাব দিলেন, না, যারা আল্লাহ্‌ যা নাযিল করেছেন, তদানুযায়ী বিচার করে না, তারাই কাফির (অবিশ্বাসী), যারা আল্লাহ্‌ যা নাযিল করেছেন, তদানুযায়ী বিচার করে না, তারাই যলিম (অত্যাচারী), যারা আল্লাহ্‌ যা নাযিল করেছেন, তদানুযায়ী বিচার করে না, তারাই ফাসিক্ব (বিদ্রোহী পাপী) (৮৫) 

আমরা আরোও উল্লেখ করতে চাই যে, ইমাম-আত্‌-তাবারানি رحمه الله-এর আল-কাবীর-এ যখন বিচারকার্যে রাশওয়া-এর ব্যাপারে এসেছে, তখন এটিকে কুফ্‌র হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে, আর মানুষের ক্ষেত্রে সুহ্‌ত। ইব্‌ন মাস‘ঊদ (রদিঃ) ও মাসরুক্ব رحمه الله ইতিমধ্যেই সুপারিশের উদ্দেশ্যে শাসকের নিকট যাওয়াকে সুহ্‌ত-এর ব্যাখ্যা করেছেন। আর তারা বলেছেন,যদি সে বিচারকার্যের জন্য রাশওয়া নিয়ে থাকে, এটা কুফ্‘আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রদিঃ)(৮৬) এবং যাইদ ইব্‌ন সাবিত (রদিঃ)(৮৭)-ও একমত্‌ হয়েছেন। এভাবে, বিচারকার্যের ক্ষেত্রে রাশওয়া নেওয়া কুফ্‌র হওয়া সম্পর্কিত বিধি-নীতি খুবই পরিচিত এবং সাহাবা ت এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ ছাড়া একমত।(৮৮) 



--------------------------------------------------------------------------------------------------------
(৭১) বর্ণনাকারী হলেন, মুহাম্মাদ ইব্‌ন খালাফ ইব্‌ন হাইয়্যান رحمه الله, যিনি আখবার উল-ক্বুদাআ’-এর লেখক আল-ওয়াকি‘আ رحمه الله (মৃত্যু হিজরী ৩০৬ সন/ ৯১৮ খ্রীষ্টাব্দ) হিসেবে পরিচিত। ইব্‌ন হাজার আল-‘আসক্বলানি رحمه الله বলেছেন, তিনি বিশ্বস্ত আল-খতিব আল-বাগদাদি رحمه الله [এই শাইখ আত্‌-তারিক্ব কিতাব উশ্‌-শারিফ (‘সম্মানিত কিতাবের পদ্ধতি’)-এরও লেখক, যা ক্বুরআন-এর আয়াতের সংখ্যা ও আবৃত্তিগত পার্থক্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করে] বলেছেন, তিনি জ্ঞানী, বিশ্বস্ত এবং ইতিহাস মানুষ সম্পর্কিত বিষয়ে ব্যাপক জ্ঞান রাখেন

(৭২) তার নাম ইয়াহইয়া ইব্‌ন জা’জ رحمه الله। তিনিও বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী। আবী হাতিম رحمه الله তার ব্যাপারে বলেছেন, তিনি বিশ্বস্ত এবং তিনি আমার শাইখদের মধ্যে অন্যতম। ইব্‌ন হিব্বান رحمه الله তার (ইয়াহইয়া) উল্লেখ করেছেন বিশ্বস্ত মানুষদের সাথে। ইব্‌ন হাজার رحمه الله-ও তাদের মধ্যে তার উল্লেখ করেছেন যারা বিশ্বস্ত। বর্ণনার বাকি অংশ সম্পূর্ন বিশ্বস্ত এবং সর্বোচ্চ গুণাবলির অধিকারী।

(৭৩) ‘আব্দুর্‌ রয্‌যাক رحمه الله একজন বিশ্বস্ত ইমাম।

(৭৪) সকল ’আলিমগণ তাকে বিশ্বাস করেন।

(৭৫) তিনি এবং তার পিতা উভয়েই বিশ্বস্ত, এবং তার পিতা তাঊস, ইব্‌ন ‘আব্বাস ت-এর একজন ছাত্র।

(৭৬) আখবার উল-ক্বুদাআ’-ইমাম ওয়াকি‘আ, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৪০-৪৫

(৭৭) এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে, এটাই সঠিক উপসংহার, যেহেতু এটা উসূল উল-ফিক্ব্‌হ-এর অন্যতম মূলনীতি যে, ওহী-এর মধ্যে যা কিছু সাধারণ, তা নাযিলের কারণের উপর ভিত্তি করে বর্জন করা যাবে না। আল ‘আল্লামাহ্‌ আশ্‌-শাতিবি رحمه الله তার ৪ ভলিউমের কাজ, আল-মুয়াফ্‌ফিক্বত এবং তার অপর বই আল-‘ইতিসাম-এ তার বিখ্যাত উক্তি করেছেন, যার ব্যাপারে সকল ফুক্বাহাআ একমত্‌, به سبب على يقصر لا العام সাধারণ বিষয়াদিকে তার নাযিলের কারণের উপর ভিত্তি করে বর্জন করা যাবে না (আসবাব উন্‌-নুযুল)  আয়াত উল-আহকাম (বিচার/শাসন সম্পর্কিত আয়াতসমূহ) রসূল -এর সময় যেদিন থেকে নাযিল হয়েছে, সেদিন থেকে এই বিধি-নীতিটি ব্যবহৃত/অনুশীলনকৃত হয়ে আসছে। বিচার/শাসন সম্পর্কিত সকল আয়াতসমূহ নাযিল হয়েছে, বিশেষ ঘটনাবলির জন্য, যা ঘটেছে একজন বা দুজন সাহাবা ت-এর সাথে, বা একজন ব্যক্তি তার স্ত্রীর মধ্যে, কিন্তু তার বিধি-নীতি অবশ্যই আমাদের সময় পর্যন্ত সকল মুসলিমের মেনে চলতে হবে, শুধুমাত্র পথভ্রষ্ট্রা ছাড়া, যারা বলবে, এটা আমার কারণে নাযিল করা হয় নি  রসূল কখনোই বলেন নি, এই বিচার বিধানটি শুধুমাত্র এই লোক তার স্ত্রীর জন্য অথবা এই ব্যক্তিটির জন্যই প্রযোজ্য এগুলোই হল সেসব মন্তব্য, যেগুলোর এই জায়গায় বিস্তৃত করে বলা প্রয়োজন। 

(৭৮) প্রাগুক্ত, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৪১

(৭৯) ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাস‘ঊদ ت সেই একই সাহাবী, যিনি আনন্দের সাথে বলেছিলেন, ক্বুরআন থেকে কোন একটি আয়াত নেই যা নাযিল করা হয়েছিল, ব্যতীত যে, আমি এর নাযিল হবার কারণ জানতাম (বুখারী দ্বারা বর্ণনাকৃত)  ইব্‌ন ‘আব্বাস ت বড় হবার পূর্বে তিনিই ছিলেন ক্বুরআন-এর বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সবচাইতে জ্ঞানী সাহাবী, এবং তিনি ওহীর জ্ঞানের পথে একজন শক্তিশালী শক্তি হিসেবে গণ্য হওয়া বহাল রেখেছিলেন।

(৮০) তাফসীর ইব্‌ন কাসীর, সূরাহ্‌ আল-মাইদাহঃ ৪৪ দেখুন,
সেই সাথে দেখুন, আখবার উল-ক্বুদাআ’-ইমাম ওয়াকি’আ, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৪০-৪৫

(৮১) মাজমু‘আ ফাতাওয়া, ভলিউমঃ ০৫-এ ইমাম ইব্‌ন তাইমিয়্যাহ رحمه الله-ও এই একই হাদীস বর্ণনা করেছেন।

(৮২) মুসনাদ আহ্‌মাদ ইব্‌ন হান্‌বাল

(৮৩) আখবার উল-ক্বুদাআ’, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৪১

(৮৪) আখবার উল-ক্বুদাআ’, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৫১, ফুটনোট-এ

(৮৫) প্রাগুক্ত, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৫২-৫৩

(৮৬) ‘আলী ইব্‌ন আবী তালিব ت হলেন সেই সাহাবী যার সম্পর্কে রসূল ﷺ বলেছেন, আলী হল সর্বোত্তম ব্যক্তি যে বিচারকার্য সম্পর্কে জানে,”  আখবার উল-ক্বুদাআ’, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৪১-৫৩। যেহেতু এই বিষয়টি একটি বিচারকার্য সংক্রান্ত বিষয়, এটা শুধুমাত্র সঠিক যদি একজন ক্বাদি (বিচারক) এই বিষয়ে অভিমত্‌/রায় দেন, আর ‘আলী ت ঠিক   তা-ই করেছেন।

(৮৭) এই বিষয়ে যাইদ ইব্‌ন সাবিত ت-এর বিচার বিশাল ওজন বহন করে। তিনি শুধুমাত্র ক্বুরআন-এর একজন অন্যতম সংগ্রহকই ছিলেন না, যিনি রসূল ﷺ-এর সময় ওহী লিখার কাজে নিয়োজিত ছিলেন, বরং তিনি হলেন তাদের একজন যাদের থেকে ফিক্ব্‌হ শিখা রসূল ﷺ সর্বোত্তম বলেছেন। তাছাড়াও তিনি সেই ৪ জনদের মধ্যে একজন, যাদের থেকে ক্বুরআন শিক্ষার জন্য রসূল ﷺ সাহাবা ت-দের তাগিদ করেছেন, হোক তা তিলওয়াতসংক্রান্ত বা বিচারসংক্রান্ত বিষয়। বাকি ৩ জন হলেন, ইব্‌ন মাস‘ঊদ, উবাই ইব্‌ন কা’ব এবং মু‘আয ইব্‌ন জাবাল ت।

(৮৮) আমরা এটি জানিয়ে দিতে চাই যে, ঘুষ নেয় এমন প্রত্যেক পাপী বিচারকই কাফির নয়, কিন্তু যদি সে শারী‘য়াহ ব্যতীত অন্য কোন কিছু দিয়ে বিচার/শাসন করে যার সংবিধানের আইনসমূহ শারী‘য়াহ-থেকে নেওয়া হয় নি, তবে সে অতি নিশ্চিতভাবে কাফির। সেই সাথে, আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা‘আলার আইনকে পরিবর্তন করার জন্য ঘুষ নেওয়াও বড় কুফ্‌র, কিন্তু ঘুষ খেয়ে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা‘আলার বিচারকার্য-কে কিছু ক্ষেত্রবিশেষে পরিবর্তন করা, পারিপার্শ্বিক/পরিস্থিতি ও ঘটনা/প্রকৃত অবস্থা-এর উপর ভিত্তি করে বড় কুফ্‌র বা ছোট কুফ্‌র হতে পারে। এখানে মূল উদ্দেশ্য হল, এটা দেখানো যে, সাহাবা ت-দের উক্তি এই বিষয়গুলোতে কত ওজনদার। এই সময়ের ’আলিমগণ ও মুসলিমরা এই বুঝটিকে খুবই সহজ ও হাল্কাভাবে নিচ্ছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না বিষয়টি এরূপ হয়ে যায় যে, আমরা এই বিষয়েই অজ্ঞ হয়ে পড়ি যে, কোথায় গিয়ে শাসক/বিচারকদের শারী‘য়াহ শেষ হয়, এবং কোথায় গিয়ে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা‘আলার শারী‘য়াহ শুরু হয়।

ভণ্ড পীর ও শিরক

আচ্ছা , আমাদের দেশের যে বড় বড় ভণ্ড পীর গুলো আছে , তাদের মধ্যে কিন্তু অনেকেই খুব সুন্দর কোরআন তেলোয়াত জানে । ইসলামী জ্ঞ্যান অনেক এদের । কারন এরা ইসলামের উপরে মোটা মোটা কিতাবও লিখছে । এদের ভক্তেরও অভাব নাই ।

তবুও কেন তাদের আমরা ভণ্ড বলি ? জি , এর একটাই কারন , তাদের আকিদা ঠিক নেই । এক মুখে আল্লাহ্‌'র নাম বলে , অন্য মুখে আল্লাহ্‌'র সাথে শিরক করার উৎসাহ দেয় এরা ।

আচ্ছা , হাসিনার দলে যে বাংলাদেশ ওলামা লীগ আছে , তারা কি আমাদের চেয়ে কম জ্ঞ্যানি ? সেখানে বড় বড় ইসলামী চিন্তাবিদ , ইমাম সাহেবরা আছে । যাদের ইসলামী জ্ঞ্যানের ধারে কাছেও আমরা নাই ।

তবুও কেন তাদের দেখলেই বিরক্ত লাগে ? তাদের তাগুদের গোলাম বলি ? জি , এর একটাই কারন , এরা ইসলামের জ্ঞ্যান আহরন করে , ইসলামী লেবাস দেহে ধারন করে হাসিনার সমাবেশে গিয়ে হাত তালি দেয় , হাসিনার পক্ষে থেকে তাগুদের আইনে আরও শক্তি যোগায় । যা স্পষ্ট শিরক আল্লাহ্‌'র সাথে ।

গেলো তাদের কথা ... গতকাল অপু ছেলেটা একটা পোস্ট দিছে ' কোন এক শিবিরের ছেলে কোন এক জায়গায় কি ইমামতি করছে । আমার গত পোস্টের কমেন্টে একজন সেটা শেয়ারও করছে । আর উক্ত পোস্টে গর্ব করে বলা হইছে ... শিবিরে যোগ দিলে কোরআন তেলোয়াত শেখা যায় , হাদিস শেখা যায় , ইসলামী জ্ঞ্যান আহরন করা যায় ।

তো ? তো কি হইছে ? জ্ঞ্যান তো তাদেরও আছে যারা নিজেদের পীর বলে ভক্তদের শিরক করতে শেখায় । জ্ঞ্যান তো তাদেরও আছে যারা জাতীয় মসজিদের ইমাম হয়েও হাসিনার সরকারের দালালী করে , যা স্পষ্ট শিরক । জ্ঞ্যান কি সেই ইমামের নেই , ইলেম কি সেই ইমাম শেখে নাই যে ' থাবার ইমামতি করছে । উনি জেনে শুনে একটা নাস্তিকের যানাজা পড়াইছে । এর চেয়ে স্পষ্ট শিরক আর কি আছে ? যে কিনা আল্লাহ্‌'কে গালি দেয় , আল্লাহ্‌'র বিধানের বিরোধিতা করে , আল্লাহ্‌ হাবিব রাসুল (সাঃ) এর বিবি , মেয়ে নিয়ে বাজে কথা বলে , তাকে কোন ক্ষমতা আর কোন জ্ঞ্যানের বলে যানাজা পড়ায় ইমাম ? তাকে ইমাম বললেও তো সত্যিকারের ইমামদের অপমান করা হবে ।

জ্ঞ্যানি তাকেই বলা হয় যে কিনা জ্ঞ্যানের সঠিক ব্যবহার করে । জামায়াত-শিবিরে যোগ দিলে কোরআন হাদিস পড়ার আগ্রহ জন্মে বা তারা তাগিদ দেয় , এতেই কি জামায়াত-শিবির সঠিক হয়ে গেলো ? আরে এই তাগিদতো তাবলীগে গেলেও দেয় । তাহলে জামায়াত-শিবির ছেড়ে তাবলীগ করেন না কেন ?

আপনার যত জ্ঞ্যান থাকুক না কেন , আপনি সেটা কোন পথে ব্যয় করছেন সেটা গুরুত্ব পূর্ণ । জ্ঞ্যানি হলেই সম্মানিত না , জ্ঞ্যানের সঠিক ব্যবহারকারী সম্মানিত হয় । আর শুধু কোরআন হাদিস শিখে নিলেই হবে ? আপনাকে তারা কোন পথে পরিচালিত করছে , সেই পথ সঠিক ইসলামের পথ নাকি , সেটা কি কোরআন হাদিস দিয়ে বিবেচনা করছেন ? নাকি সুরেলা কোরআন পড়ে , ২/৪ টা হাদিস শিখে নিলেই হয়ে গেলো ।

এতো এমন আপনি ভাতের সাথে মদ পান করছেন আর ভাবছেন , মদ হালাল । উক্ত দলের ঢুকে কোরআন হাদিস শেখা মানেই উক্ত দল সঠিক না , যদি না তাদের মৌলিক নীতি কোরআন হাদিসের পক্ষে না হয় । সেটা কি ভেবে দেখছেন কখনও ? তাগুদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অন্য তাগুদের পক্ষ নিছেন , নিজেরাই সেই তাগুদি আইন কায়েমের জন্য জীবন দিচ্ছেন , অথচ বিবেচনায় আনছেন শুধু সুরেলা কোরআন হাদিস শিক্ষা ।

আপনাদের মাঝে আর ঐ ভণ্ড পীর গুলার মাঝে তফাৎ কি ?
আপনাদের মাঝে আর ওলামা লীগের ইমামদের মাঝে তফাৎ কি ?
আপনাদের মাঝে আর ঐ যানাজা পড়ানো ইমামের মাঝে তফাৎ কি ?

উভয়ের জ্ঞ্যান আছে , কিন্তু সেটার সঠিক ব্যবহার করে না । ধিক্কার জানাই আপনাদের । আবার এই গুলো নিয়ে গর্ব করেন ।



ইসলামী প্রজাতন্ত্র ' ইরান

জামায়াত ইসলাম ' বাংলাদেশ

-- কারো নামের আগে , আর কারো নামের পিছনে টাইটেল হিসেবে ইসলাম শব্দখানা সংযোগ করে রাখা হইছে । অথচ এদের উভয়ের মাঝে ইসলাম বলতে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না । বরং ইসলামের বিপরীত তথা তাগুদের গোলামি স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে ।

ইসলামের মৌলিক নীতি তথা আল্লাহ্‌'র আইন অবহেলিত হয় পালনের ক্ষেত্রে , কায়েমের ক্ষেত্রে ' সেখানে শুধু নামাজ , রোজা , লেবাস ইত্যাদি ইসলামের সমীকরণ হয় না ।

--যালিমদের জন্য আল্লাহ্‌ তা'য়ালার এই সতর্কবানী কি পর্যাপ্ত নয় ? যদি ও আপ্নারা আপনাদের নিজেদের ফেরাউন আর নম্রুদের স্থানে বসিয়ে নয়েছেন- তাহলে অপেক্ষা করুণ। আপনাদের পরিনতির জন্য। যদিও আল্লাহ্‌ মুমিনদের দুনিয়াতে শাসনকর্তিত প্রদান করবেন - আর আপনাদের করবেন লাঞ্ছিত- সেদিন আপ্নারা কথায় পালাবেন ?

“যালিমদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আল্লাহকে কখনো উদাসীন মনে করো না। আল্লাহ এদেরকে শুধু একটি সুনির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত বিলম্বিত করেন, যেদিন চক্ষুসমূহ বিস্ফোরিত হবে, তারা মাথা নিচু করে উঠিপড়ি করে দৌড়াতে থাকবে, তাদের চোখ তাদের নিজেদের দিকে ফিরবে না এবং তাদের হৃদয়সমূহ দিশাহারা হয়ে যাবে।
মানুষকে আযাব সমাগত হওয়ার দিন সম্পর্কে সাবধান করে দাও।

সেদিন যুলুমবাজরা বলবে; হে আমাদের প্রভূ ! অল্প কিছুদিন আমাদেরকে সময় দিন,

তাহলে আমরা আপনার দাওয়াত কবুল করে রাসূলদের অনুসরণ করব।

তোমরা কি ইতিপূর্বে কসম খেয়ে খেয়ে বলতে না যে তোমাদের পতন নেই?

যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছে, তোমরা তো তাদের বাসস্থানে বাস করেছ এবং সেসব যালেমের সাথে আমি কেমন আচরণ করেছি, তা তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। উপরন্তু আমি তোমাদের জন্য অনেক উদাহরণ দিয়েছি।” (সূরা ইবরাহীম ৪২-৪৫)

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে আরো বলেন, “শুধু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, যারা মানুষের ওপর অত্যাচার করে।” (সূরা আশ শুয়ারা ৪২)
সূরা আশ শুরার শেষ আয়াতে তিনি বলেছেন,”যুলুমবাজরা তাদের যুলুমের পরিণতি সহসাই জানতে পারবে।” (সূরা আশ শুয়ারা ২২৭)

এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন; “আল্লাহ যালেমকে সুদীর্ঘ সময় দিয়ে থাকেন। অবশেষে যখন পাকড়াও করেন তখন তাকে আর রেহাই দেন না।”
(বুখারী, মুসলিম)

এরপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেন, ”তোমার প্রভূর পাকড়াও এ রকম হয়ে থাকে, যখন তিনি যুলুমরত জনপদসমূহকে পাকড়াও করেন। তাঁর পাকড়াও অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, অপ্রতিরোধ্য।” (সূরা হুদ ১০২)

গনতন্ত্রকে জায়েয এবং খিলাফতকে ধ্বংস

উসুলি কা'ইদাহ "সকল বস্তুর 'আসল' হল ইবাহা" প্রয়োগ করে কি করে গনতন্ত্রকে জায়েয এবং খিলাফতকে ধ্বংস করা হয়েছিল।

19 June 2014 at 14:38
যারাই বলে থাকেন ইসলামে ইবাদতের 'তউকিফি' (অর্থাৎ ওয়াহি দ্বারা সুনির্দিষ্ট) ইস্যুগুলো ছাড়া বাকি সব *একশন (কাজ)* বাই ডিফল্ট মুবাহ বা হালাল, তারা ইসলামী আইনবিজ্ঞানের (উসুল আল ফিকহ) বিষয়ে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে খুব ভয়ংকরভাবেই উম্মাহকে ভুল পথে চালিত করছেন। পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় আমাদের অনেকের মনে এটা গেঁথে গেছে (কিছু ভ্রান্ত প্রচারনার দ্বারা) কোন বিষয় যদি ইসলামের সাথে কনফ্লিক্ট না করে এবং ঐ ব্যাপারে কোন শরিয়ার নুসুস (দলীল) যদি না থাকে, তাহলেই তা মুবাহ বা হালাল। এই ভয়ংকর চিন্তার কারনেই মুসলিম উম্মাহকে “ইসলামিক গণতন্ত্র”, “ইসলামিক সমাজতন্ত্র”, “সোশ্যাল জাস্টিস” ইত্যাদি কুফরি চিন্তা গলধঃকরণ করানো হয়েছিল।  খিলাফত ধ্বংসের বিস্তারিত ইতিহাস নিয়ে যারা অবহিত নন, তারা এই বিষয়টিও হয়তো জানেন না কাফেররা মুসলিম ভূমিগুলোকে বাইরে থেকে আক্রমণ পরে করেছিল। প্রথমে ভেতর থেকে ধ্বংস করা হয়েছিল কিছু ভ্রান্ত উসুলি কা’ইদাহ (নীতি) প্রয়োগ করে যার ভেতর ছিল এইটিও – “সকল কিছুই বাই ডিফল্ট মুবাহ”। এই নীতির দ্বারা ঐ পশ্চিমা চিন্তাধারা দ্বারা প্রভাবিত মুসলিম পণ্ডিতরা বলা শুরু করেছিল যে রাজনীতি “তউকিফি” (আল্লাহ দ্বারা নির্ধারিত) না এবং সব কাজই বাই ডিফল্ট হালাল, এবং তা বলেই ফ্রেঞ্চ পেনাল কোড ও রোমান আইন এবং গণতন্ত্র মুসলিম খিলাফতে ঢোকানো হয়েছিল বিখ্যাত পণ্ডিতদের দ্বারা।

এক্ষেত্রে দেখা যায় যেসব ফকিহ বা উসুলিয়্যুন এই চিন্তার প্রচার-প্রসার ঘটান, তারা নীচের কা’ইদাহ (নীতি) টি সর্বদাই উল্লেখ করে থাকেনঃ

সব বস্তুর ‘আসল’ বা অরিজিন হল ইবাহা (বা হালাল)” [আল আসলু ফিল-আশইয়া আল ইবাহা]

এখানে উল্লেখ্য ফিকাহ শাস্ত্রবিদরা শুধু বস্তু/জিনিস (আশইয়া) এর ক্ষেত্রে এই কা’ইদাটি ব্যবহার করতেন (আফ'আল বা কাজের ক্ষেত্রে না)।  আল্লাহ (সু) কুরআনে বলেছেন,

وَخَلَقَ لَكُمْ مَا في الأَرْضِ جَمِيعاً

“এবং তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর বুকে যা আছে সবই সৃষ্টি করেছেন” 

আয়াতটিতে আল্লাহ বস্তুকে ‘আম ভাবে উল্লেখ করেছেন তাই সকল বস্তু বাই ডিফল্ট হালাল, এবং যেগুলো হারাম সেগুলো উল্লখে করা আছে।

কিন্তু সমস্যা হয় যখন বস্তুর (আশইয়া) সাথে একশন বা কাজ (আফ’আল) কে মিশিয়ে ফেলে এই কা’ইদাহটি দ্বারা জাস্টিফাই করানো হয়। এটি একটি কমনসেন্স যে বস্তু আর একশন কখনই এক বিষয় হয় না। আমরা বলতে পারি না 'ছুড়ি' (বস্তু) আর ‘ছুড়ি মারা’ (একশন) এক বিষয়। তাই অতীতে স্কলাররা প্রয়োজনবোধই করেননি এই নীতির ক্ষেত্রে বস্তুকে একশন থেকে আলাদা করে বোঝানোর। 

তাই আফ’আল (একশন) এর ক্ষেত্রে ‘আসল’ (অরিজিন) হল –

“হুকুম আশ-শার’ঈর মাঝে নিজেদের কাজকে সীমাবদ্ধ রাখার মাধ্যমে শরিয়াহর সাথে লেগে থাকা”

তাই যদি আল্লাহ কোন কাজের জন্য ইবাহা (অনুমতি) দেয় তাহলে তা হবে মুবাহ আর যদি আমরা অনুমতি না দেখতে পাই তাহলে “আদিল্লাহ আশ-শারিয়্যাহ” (শরিয়াহর দলীল) থেকে হুকুম বের করে আনতে হবে। এটা বলার কোন সুযোগ নেই যেহেতু শরিয়াহ এখেত্রে এপারেন্টলি নীরব তাই আমরা সেই একশন সমূহ পালন করতে পারবো।
যারা এই বস্তুর সাথে একশনকে মিলিয়ে দেখেন তারা আবার “মুবাহ” (যা করলে কোন সাওয়াব বা গুনাহ নেই) কে ভিন্ন ভাবে সংজ্ঞায়িত করেন। তারা মনে করেন যেসব বিষয়ে শরিয়াহ কোন তিরস্কার (হারাজ) করে না বা শরিয়াহ নিশ্চুপ, সেগুলোই হল মুবাহ। তাই তিরস্কারের অনুপস্থিতিই হল “অনুমতি” (ইবাহা)। তারা রাসুলের (সা) কথাটি উল্লেখ করেনঃ

وَمَا سَكَتَ عَنْهُ فَهُوَ عَفْو 

“এবং যে বিষয়ে নিশ্চুপ থাকা হয়েছে সেসব বিষয়ে মাফ করে দেয়া হয়েছে”।

এভাবেই নিকট অতীতের স্কলাররা গনতন্ত্রকে জায়েয করেছিল এই যুক্তিতে যে গণতন্ত্রও “শুরা” (পরামর্শ) ও সামাজিক ন্যায় দ্বারা পরিচালিত এবং সকল বস্তুই যেহেতু বাই ডিফল্ট হালাল, তাই গণতন্ত্রও এডপ্ট করা যাবে। এবং বর্তমানেও অতীতের সেই বিষাক্ত চিন্তা অনেক স্কলাররাই বহন করছে।

তাই এটা জেনে নেয়া ভাল উসুল আল ফিকহের ক্লাসিক্যাল বইগুলোতে কোথাও বলা নেই কোন বিষয়ের ক্ষেত্রে হারাজ (তিরস্কার) এর অনুপশ্তিতিই হল “অনুমতি” (ইবাহা), কারন কোন কাজ করা বা না করার ক্ষেত্রে হারাজ এর অনুপস্থিতি ইঙ্গিতবহন করে না যে ঐ কাজ বা বস্তুটি মুবাহ। আবার ব্যাপারটি এমনও না যে ঐ হারাজটিকে তুলে নেয়ার অর্থই হল “অনুমতি”। তাই, কোন বিষয় মুবাহ হওয়ার অর্থ হল উক্ত বিষয়ে হুকুমদাতা (আল্লাহ) মানুষকে কোন কাজ করা বা না করার ক্ষেত্রে বাছাই করার অপশন দিয়েছেন, এবং এই বাছাইয়ের অপশনটিও শরিয়াহর দলীল দ্বারা সমর্থিত হতে হবে

যারা উপরে বর্ণিত হাদিসটির  (“এবং যে বিষয়ে নিশ্চুপ থাকা হয়েছে সেসব বিষয়ে মাফ করে দেয়া হয়েছে”) এভাবে ব্যাখ্যা দেন যে শরিয়াহ কিছু বিষয়ে নিশ্চুপ রয়েছে তাই ওসব বিষয় মুবাহ, তারা হাদিসটির ভুল ব্যাখ্যা দেন। বিষয়টি এমন না যে শরিয়াহ কোন ব্যাপার এক্সপ্লেইন করে নাই এবং এই চিন্তা করাও পাপ কারন আল্লাহ বলেছেনঃ

"আজকে আমি তোমাদের জন্য দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম...” [মা’য়েদা, ৩]

আর বলেছেনঃ

“আমরা এই কিতাব নাযিল করেছি সবকিছুর ব্যাখ্যা দিয়েই” [নাহল, ৮৯]

তাই ওপরের হাদিসটিতে রাসুলুল্লাহ (সা) বোঝাতে চেয়েছেন সেসব টেক্সট গ্রহন করো যা তোমাদের দেয়া হয়েছে। আর যে বিষয়ে কিছু জিজ্ঞাস করা হয়নি তা নিয়ে কিছু জিজ্ঞাস করো না কারন হয়তো তা আবার হারামও হয়ে যেতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছিলেনঃ

ذَرُونِي مَا تَرَكْتُمْ فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ سُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ . فَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَاجْتَنِبُوهُ . وَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرِ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ

 “আমাকে চাপ দিও না সেসবের বাইরে কিছু বলতে যা আমি তোমাদের ইতিমধ্যেই বলেছি। তোমাদের আগে যারা এসেছিল তারা অতিরিক্ত প্রশ্ন করা এবং তাদের নবীদের সাথে বিতর্ক করার কারণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তাই আমি যদি তোমাদের কিছু করতে নিষেধ করি তাহলে তা থেকে দূরে থাক এবং যদি কিছু করার আদেশ দেই তাহলে তোমাদের সাধ্যমতো করার চেষ্টা করো” [মুসলিম]

তাই মুল কথা হল ইসলামে এমন কিছু নাই যা শরিয়াহ এক্সপ্লেইন করেনি। তাই কোন কিছু মুবাহ বলতে নিলেও আমাদের আগে দলীল ঘাটতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে শরিয়াহ উক্ত বিষয়টিকে মুবাহ ঘোষণা দিয়েছে।  

আবার অনেকেই যুক্তি দিয়ে থাকেন নিউক্লিয়ার বোমা, উড়োজাহাজ তৈরি ইত্যাদি একশনগুলোর ক্ষেত্রে তো কোন শরিয়াহ বিধান নেই। তাই এই কাজগুলো যদি আমরা ইবাহা ধরে করতে পারি, তাহলে কেন সকল কাজের ‘আসল” (অরিজিন) এর ক্ষেত্রে আমরা একই কথা বলতে পারি না?  এই বিষয়ে ফুকাহাদের মত হল কিছু চিন্তা থাকে আকিদা এবং আহকাম সঙ্ক্রান্ত, এবং কিছু থাকে ‘উলুম (বিজ্ঞান), মাদানিয়্যাহ (প্রযুক্তি), উদ্ভাবন/উৎপাদন, দক্ষতা ইত্যাদি সঙ্ক্রান্ত। তাই দ্বিতীয় বিষয়ের (যেগুলো আকিদা বা আহকাম সঙ্ক্রান্ত নয়) ক্ষেত্রে যদি শরিয়াহ দ্বারা নিষেধকারী কোন দলীল না থাকে, তাহলে তা গ্রহন করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা) একবার কিছু কৃষক এর পাস দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তাদের বললেনঃ 

أَنْتُمْ أَدْرَى بِأُمورِ دُنْيَاكُمْ

“তোমরা দুনিয়ার বিষয়ে আমার চেয়ে অধিক সচেতন”

বদরের যুদ্ধের সময় সাহাবা আল-হুব্বাব বিন আল-মুনধির (রা) রাসুলুল্লাহ (সা) কে যুদ্ধ-কৌশল সঙ্ক্রান্ত এক প্রশ্ন করেছিল। রাসুলের পরিকল্পনাটি কি ওয়াহি ছিল নাকি রাসুলের নিজস্ব মতামত ছিল তা ঐ সাহাবা জানতে চেয়েছিল, উত্তরে রাসুলুল্লাহ বলেছিলেনঃ

بَلْ هُوَ الرَّأْيُ وَالحَرْبُ وَالمَكِيدَة

“অবশ্যই এটা আমার মতামত, যুদ্ধবিগ্রহ ও ধূর্ত (বিষয়ের ক্ষেত্রে)”

ঐ সাহাবার পরামর্শে রাসুলুল্লাহ যুদ্ধের কৌশল পরিবর্তন করেছিলেন। কারন তা ওয়াহি ছিল না। তাই নন-আহকাম/আকিদার বিষয়ের ‘আসল’ এর ক্ষেত্রে ইবাহা (অনুমতি) আছে যদি কোন বিপরীত টেক্সট আমরা না পাই শারিয়াহ তে। গণতন্ত্র কিন্তু সরাসরি আকিদা বিরোধী।  

মোদ্দা কথাঃ সকল বস্তু বাই ডিফল্ট হালাল এবং সকল একশন এর ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের শরিয়াহ দ্বারা সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। কোন ভাবেই বস্তুর সাথে একশনকে এক করে দেখলে হবে না। কারন একশনের ক্ষেত্রে আল্লাহ বলেছেনঃ

وَمَا آَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

"এবং আল্লাহর রাসুল যা কিছু তোমাদের জন্য এনেছেন তা গ্রহন করো এবং যেসব থেকে দূরে থাকতে বলেছেন তা পরিত্যাগ করো" [হাশর, ৭]

তাই ওপরের আয়াতের 'তালাব' (আবেদন) টিতে যে 'মাআ' (যা কিছু) শব্দটি এসেছে তা 'আম আকারে এসেছে। এবং এই তালাব হোক সেটা "তালাব উত তারক" (কোন কাজ পরিত্যাগ করার আবেদন) বা তালাব উল ফি'ল (কোন কিছু করার আবেদন) হল তালাব জাযিম (সুনির্দিষ্ট আবেদন) যা মেনে চলা ফরয। তাই সকল একশনের ক্ষেত্রে খুজতে হবে শরিয়াহর নুসুস (দলীল) কি বলছে। এটাই হল আফ'আল এর ক্ষেত্রে 'আসল'।    


খলিফাবিহীন মুসলিম উম্মাহর ওপর চলমান অবর্ণনীয় জাতীয়তাবাদী আগ্রাসনের আর একটি করুন অধ্যায় হল শ্রীলঙ্কা

রাষ্ট্রীয় মদতে গত রবিবার রাতে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ফ্যাশিস্ট সংগঠন “বধু বালা সেনা” মুসলিম অধিবাসী এলাকা আলুথগামা ও বেরুওয়ালায় নির্বিচারে হামলা চালিয়ে ৩ জন মুসলিমকে হত্যা এবং প্রায় ৮০ জনকে গুরুতরভাবে আহত করেছে। প্রচুর ঘরবাড়ি, দোকানপাট এবং মসজিদ ভাংচুর করা হয়েছে। অনলাইন ভিডিও গুলোতে দেখা গিয়েছে শ্রীলঙ্কার পুলিশ নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করেছিল এই বর্বরতার সময়। এই “বধু বালা সেনা” সংগঠনটির শীর্ষ নেতা ‘গালাগোদা আত্থে গানসারা’ আক্রমণের পূর্বে প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছিল তারা শ্রীলঙ্কা থেকে মুসলিমদের নির্মূল করে সিংহলী জাতিকে উদ্ধার করতে চায়। এর আগেও গতবছর আমরা দেখেছিলাম বৌদ্ধদের এই জঙ্গি সংগঠনটি শ্রীলঙ্কায় মুসলিম বোনদের হিজাব নিষিদ্ধ করা থেকে শুরু করে “হালাল-বিরোধী” ক্যাম্পেইন করেছিল এবং সবই রাষ্ট্রীয় মদতেই।

মুসলিম উম্মাহর এই তীব্র যন্ত্রণা ও কষ্ট আর কতো অবহেলা করব আমরা? আমাদের ঈমান কি এতই ঠুনকো হয়ে গেছে যে এই অত্যাচারিত মা-বোন ও ভাইদের অসহায়ত্ব ও কান্না আমাদের এতটুকুও বিচলিত করেনা? রাসুলুল্লাহ (সা) একদিন কাবা শরিফ তাওয়াফ করার সময় বললেনঃ “কি মহান তুমি হে কাবা? কতো পবিত্রই না তুমি? কতো সুন্দরই না তুমি আল্লাহ্‌র চোখে? কিন্তু মনে রেখো মুসলিমদের এক ফোঁটা রক্ত তুমি কাবার চেয়ে আল্লাহর চোখে অনেক পবিত্র” [ইবন মাজা]। তাহলে সেই বসনিয়া থেকে শুরু করে আজ শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত কত কোটিবার কাবার পবিত্রতা ধ্বংস হল আমাদের চোখের সামনে?! যেখানে এক ফোঁটা মুসলিম রক্তের এই মুল্য আল্লাহর চোখে, সেখানে শুধু এক ইরাকেই মার্কিন আগ্রাসন পরবর্তীতে ১ লক্ষ মুসলিম নিহত হয়েছে আজ পর্যন্ত!! কতো ফোঁটা রক্ত ঝরলে আজ আমরা জেগে উঠবো সেই বহুল প্রতীক্ষিত খিলাফতকে ফিরিয়ে আনতে যা আমাদের নিরাপত্তার একমাত্র গ্যারান্টি? আমরা কি এখনো দেখতে পাই না খলিফাই হল এই উম্মাহর একমাত্র রক্ষক? এখনো কি বুঝে উঠতে পারি নাই গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রযন্ত্র ও তাদের নেতারা কখনই আমাদের নিরাপত্তা দেবে না?

আমরা আবারো স্মরণ করিয়ে দিতে চায় এই উম্মাহর “একমাত্র” সমস্যা হল খিলাফতের নেতৃত্বের অনুপস্থিতি। আমরা বাংলাদেশের মুসলিমদের আহবান করতে চাই শুধু চোখের পানি আর মনকষ্ট নিয়ে দর্শকের সারিতে দাড়িয়ে থাকার জন্য এই উম্মতে মোহাম্মাদীর আবির্ভাব হয়নি এই পৃথিবীর বুকে। আমাদের নিজেদের পরিবার এবং সমাজে খুব জোরালোভাবে খিলাফতের আওয়াজ তুলুন। ইনশাল্লাহ এই বাংলাদেশ থেকেই খিলাফতের বাহিনী অগ্রসর হবে আরাকান, ভারত এবং শ্রীলঙ্কার দিকে এবং ভেঙ্গে ফেলবে কাফির-মুশরিক শাসকদের বিষদাঁত।

“নিশ্চয়ই ইমাম (খলীফা) হল তোমাদের বর্ম যার পেছনে দাড়িয়ে তোমরা আক্রমণ করবা এবং শত্রু থেকে নিজেদের রক্ষা করবা” [মুসলিম]


 কাফেরদের ব্যাংক দেখে->ইসলামি ব্যাংক(৪০০০ বছর আগে থেকে ছিল) এভাবে  ইসলামি ইনস্যুরেন্স(৫০০ বছর) ইসলামি গণতন্ত্র(৩০০০ বছর আগে থেকে) ইসলামি সমাজতন্ত্র(জানিনা) মুসলিম শিয়া(১৩০০বছর আগে থেকে) ইসলামি পতিতা এবং লয় (আদিম পেশা) ইসলামি বার,মদ আরও কত কি... (আদিম জিনিস)

এসব বিষয় অনেক আগে থেকেই ছিল অর্থাৎ রাসুল(সা), সাহাবি, তাবে, তাবে-তাবেঈন সহ সবাই এসব কুফর ও হারাম জিনিস তাদের জীবনে দেখে গেছেন(শিয়াজম ছাড়া), কিন্তু তারা কখনও এসব জিনিসকে হালাল বানানোর চেষ্টা করেন নি ভুলেও । আজকে ১৩৫০ বছর পর কিছু লোক এসব জিনিস্কে হালাল বানানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।


 "তোমরা যেমন, তোমাদের উপর সেরূপ শাসকই নিযুক্ত হবে"

হাদীসটিতে দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি এমন নয় যে আমরা শাসকদের জুলুম ও শরীআহ’র অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে নিশ্চুপ থাকবো। তার এ বক্তব্য কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেখানে আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন,

“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনবে ও সৎকর্ম করবে, তাদের প্রতি আল্লাহ ওয়াদা করেছেন যে তাদের তিনি অবশ্যই পৃথিবীতে নেতৃত্ব (ইসতিখলাফ) প্রদান করবেন।” [সূরা নূর: ৫৫]

এ আয়াত থেকে বোঝা যায় যে মুসলিমদের মধ্য হতে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যদি ঈমান ও সৎকর্ম করে তবে তাদেরকে অবশ্যই শাসনক্ষমতা দেয়া হবে।

আমর বিল-মা’রূফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অবশ্য পালনীয় হুকুম শর’ঈ। এবং গুরুত্বের দিক বিবেচনা করলে এই আমলটিই সবার অগ্রে থাকতে হবে অনেক সাধারন আমলের চেয়ে। উপরন্তু কিছু হাদীস অনুযায়ী, শুরুতে এই আমলটি অবহেলা করার কারণেই আমরা আল্লাহর আযাব (এক্ষেত্রে উদাহরসরূপ, খারাপ শাসক) ভাগ্যে পেয়ে থাকি।

আমাদের বুঝতে হবে আমরা ব্যক্তিগতভাবে ভালো কাজ করতে থাকলে সয়ংক্রিয়ভাবে সমাজ পরিবর্তন হয়ে যাবে না, কারণ ব্যক্তি চলে তার অন্তর্নিহিত চিন্তা দ্বারা আর সমাজ চলে একটি ব্যবস্থা দ্বারা যা সকল ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পরিচালিত করে। সুতরাং, যতক্ষন পর্যন্ত সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কোনো নির্দিষ্ট আদর্শের ভিত্তিতে পরিবর্তনের দাবি না তুলে তথা পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন সংগ্রামে লিপ্ত না হয়, ততক্ষন পর্যন্ত সমাজ পরিবর্তন হয় না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলাও পবিত্র কুরআনে বলেন,

নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির মধ্যে যা আছে তা পরিবর্তন করেন না যতক্ষন না তারা (সেই জাতি) নিজেদের মধ্যে যা রয়েছে তার মধ্যে পরিবর্তন আনয়ন করে। [সূরা রা’দ: ১১]

এ আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা চুড়ান্ত পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করেননি বরং জাতি বা কাওম’কে নির্দিষ্ট করেছেন।

সুতরাং, আমাদের সকলকেই সমাজ পরিবর্তনের জন্য প্রত্যক্ষ পদক্ষেপ নিতে হবে, পরাজনৈতিক সচেতন হতে হবে, প্রকাশ্যে কথা বলতে হবে, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে হবে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করতে হবে এবং চুড়ান্ত সাফল্যের আগ পর্যন্ত তা ঐক্যবদ্ধভাবে চালিয়ে যেতে হবে। একাজে ভয়-ভীতি, জেল-জুলুম ও ত্যাগ-তিতিক্ষা থাকবেই, তবে তাতে পিছিয়ে পড়লে চলবে না, নিস্ক্রিয় হয়ে গেলে হবে না। বরং, প্রতিটি বাধা উপেক্ষা করার মানসিকতা পোষন করতে হবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষনে ইস্পাত-কঠিন দৃঢ় মানসিকতা পোষন করতে হবে। এভাবেই দুনিয়ায় ইসলামের বিজয় ও সাফল্য আসবে, আর আখিরাতের যে সাফল্য মুমিনদের জন্য অপেক্ষা করছে তা অনন্য।

সুতরাং, ঈমানদারদের সুসংবাদ দান করুন.. [সূরা সফ: ১৩]






বুধবার, ১১ জুন, ২০১৪

রাষ্ট্র প্রধানেরা জবাবদিহি করতে কতটুকু প্রস্তুত?

আজকের রাষ্ট্র প্রধানেরা , একজন মানুষের কাছে কতটুকু জবাবদিহি করতে প্রস্তুত?

আমরা জীবন বেবস্থা হিসেবে গ্রহন করেছি পুঁজিবাদ বা গনতন্ত্র। আজকের সমাজে মুসলিমরা অনেকে ইসলামকে বাদ দিয়ে গনতন্ত্র বাস্তবায়ন করার জন্য কাজ করে, অনেকে গনতন্ত্র বলে গলা শুঁকিয়ে ফেলেন।

তাদের জন্য আল্লাহ তা’য়ালা বলেন –
“ তারা কি আল্লাহ্‌র দেয়া বেবস্থার পরিবর্তে অন্য কোন বেবস্থার তালাশ করছে? অথচ আসমানসমূহ ও যমীনে যা আছে তা তাঁরই অনুগত্ত করে ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় এবং তাদেরকে তাঁরই নিকত প্রত্যাবর্তন করা হবে”
[সূরা আল- ইমরান ৩, আয়াত ৮৩ ]

জবাবদিহিতার কিছু সুন্দর সুন্দর কথা বলে আজ মুস্লিমদের গনতন্ত্র জোরপূর্বক হজম করানো হচ্ছে। কিন্তু ইসলাম তার থেকে বেশি জবাবাদিহিতা প্রতিষ্ঠিত করেছে। যেমন- ওমর (রাঃ) জুম্মার নামাজে খুৎবা দেয়ার সময় একজন সাধারন মুসুল্লির কাছে তাঁকে সরাসরি জবাবদিহি করতে হয়েছিল। সে ঘটনা আমরা সকলেই জানি। তখন একজন অর্ধ বিশ্বের শাসনকর্তা একজন সাধারন মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে প্রস্তুত ছিল শুধুমাত্র আল্লাহ্ র ভয়ে।

আজকের রাষ্ট্র প্রধানেরা , একজন মানুষের কাছে কতটুকু জবাবদিহি করতে প্রস্তুত?

আজকে মুসলিমরা সেই সকল বিসয় বেমালুল ভুলে গিয়ে গণতন্ত্রের জয়গান গেয়ে বেড়াচ্ছে। আহা কি পরিতাপের বিষয় !
একজন মুসলিমের জীবনের সকল আইন-কানুন আনুস্রিত হবে পবিত্র কোরআন ও হাদিস থেকে। একজন মুসলিম কখনই আল্লাহ্‌ তা’য়ালা প্রদত্ত জীবন বেবস্থা বাদ দিয়ে অন্য কোন বেবস্থা দ্বারা জীবন পরিচালনা করতে পারে না। আজকের সমাজের মানুষেরা ‘ পুঁজিবাদী বা গনতান্ত্রিক ’ বেবস্থা দ্বারা জীবন চালাচ্ছেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এ মুসলিমদেরকে কবরের ফেরেশতারা যখন জিজ্ঞাস করবে “মা দ্বীনুকা’ ?

তার জবাবে তারা বলতে বাধ্য হবে যে, ‘আমার দ্বীন ছিল পুজিবাদ’ বা ‘ ‘গনতন্ত্র’। তাহলে এ ধরণের জবাব দিয়ে কি কবরের কঠিন আযাব থেকে পরিত্রাণ পওয়া যাবে? তাহলে আমরা কোন ভরসায় ইসলামকে জীবন বেবস্থা হিসেবে গ্রহন না করে অথবা ইসলামী বেবস্থা কায়েমের ব্যাপারে নির্লিপ্ত থেকে অন্য বেবস্থা দ্বারা জীবন চালাচ্ছি ?

আল্লাহ্‌ তা’ য়ালা বলেন-
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌র কাছে একমাত্র মনোনীত দ্বীন হল ইসলাম’
[সূরা আল-ইম্রান,৩য়ায়াত-১৯]

চিন্তা করুণ। চিন্তা করুণ। চিন্তা করুণ। সমাধান আপনার কাছেই।



ব্রাজিল- আর্জেন্টিনা র খেলা দেখবেন, মজা পাবেন- কিন্তু সিরিয়া তে, বারমা তে ----লাখ লাখ মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, তা নিয়ে কথা বলবেন না। আপনি আশলেই একজন নপুংসক।

আল্লাহ্‌র কসম, কেয়ামতের দিন, আল্লাহ্‌ ই আপনার বিচার করবে। আপাতত খেলা উপভোগ করুণ। অবশ্যই আল্লাহ্‌ তা' য়ালা একজন ও তিনি সর্ব প্রজ্ঞাময় ও ন্যায়বিচার আক্মাত্র আল্লাহ্‌ ই করে থাকেন।


 হাশরের ময়দানে নিম্নোক্ত প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেয়া ছাড়া কেউ এক চুলও নরতে চড়তে পারবে না । হাশরের ময়দানেতো উত্তর দিবেন'ই । তো , এখন জীবিত অবস্থায় এই মুহূর্ত পর্যন্ত কর্ম দিয়ে প্রশ্ন গুলোর উত্তর মিলিয়ে দেখেনতো , আপনি আসলেই মুসলিম কিনা ?

(১) আপনার জীবনের সময়গুলো সে কোন কাজে অতিবাহিত করছেন ?

[ খেলা-ধুলা ? কুফরি রাজনীতি ? নারী ? হারাম অর্থ আয় ? মদ ? জুয়া ? বেখেয়ালি ? আমি আসলে কি জানতাম না ? আল্লাহ্‌'র হুকুম মত ? ]

(২) আপনার যৌবন কাল আপনি কোন কাজে ব্যয় করছেন ?

[ খেলা-ধুলা ? কুফরি রাজনীতি ? প্রেমিকা (নারী) ? হারাম অর্থ আয় ? মদ ? জুয়া ? বেখেয়ালি ? আমি আসলে কিছু জানতাম না ? আল্লাহ্‌'র হুকুম মত ? ]

(৩) কিভাবে আপনি অর্থ উপার্জন করছেন ?

[ হারাম পন্থায় ? হালাল পন্থায় ? ]

(৪) আপনার উপার্জিত অর্থ-সম্পদ আপনি কিভাবে ' কোন পথে ব্যয় করছেন ?

[ পরিবারের জন্য ? কুফরি রাজনীতির জন্য ? ইসলামের জন্য ? গরিবদের জন্য ? প্রেমিক/প্রেমিকার জন্য ?

(৫) আপনি যে সত্য জ্ঞান লাভ [যতটুকু] করছেন , সে জ্ঞান অনুযায়ী কতটুকু জীবন-যাপন করতেছেন ?

[ পরিপূর্ণ ? অর্ধেক অর্ধেক ? চার ভাগের এক ভাগ ? জানি কিন্তু মানি না ? সময় কোই ? ]

-- উত্তরের জায়গায় আপনি আপনার মত করে জীবন ব্যবস্থার সকল দিক বিবেচনা করে মিলিয়ে দেখেনতো , আপনি আমি কি এই মুহূর্তে যোগ্য আছি এই হিসেব দিয়ে জান্নাত পাবার ?





মঙ্গলবার, ২০ মে, ২০১৪

কার্ল মার্কস এর গণতান্ত্রিক বানী

কার্ল মার্কস এর যে বিখ্যাত বানী গণতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবীরাও ব্যবহার করে, তা হলঃ 'ধর্ম হল জনগনের জন্য আফিম' (Religion is the opium of the masses)। আর আমি বলি, "গণতন্ত্র হল জনগণের জন্য আফিম' (Democracy is the opium of the masses)।
ভারতে বিজয়ী এমপিদের মধ্যে এবার ৮৬ শতাংশই নাকি কোটিপতি, আর ওপর দিকে গড়ে মাসে ২ হাজার ২৫০ টাকায় সংসার চালায় সেই দেশেরই ২৭ কোটি মানুষ, ২২ শতাংশ মানুষের বাস দারিদ্র্যসীমার নিচে। এই ভুখা নাঙ্গা অত্যাচারিত শ্রেণীই কিন্তু আবার বিজেপি কে ভোট দিল যে দলের ৮৬% সংসদ সদস্যই হল কোটিপতি! নাম *তৃণমূল* কংগ্রেস হলেও, পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাদের যে ৩৪ জন এবার সংসদ সদস্য হয়েছেন তাদের মধ্যে ২১ জনই কোটিপতি। মোট ৫৪৩ জন সংসদ সদস্যের প্রায় ৯০ শতাংশই কোটিপতি। অতীতে কংগ্রেস "১০০ দিনের কাজ" প্রকল্প চালু করেও তেমন লাভ হয়নি। আবারো গনতন্র নামক গাঁজা সেবন করানো হল আসক্তদের।
এছাড়াও ৩৪ শতাংশ 'এম পি' ফোজদারি মামলার আসামি। ১১৬ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ। ১১২ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে খুন, খুনের চেষ্টা, অপহরণ, ডাকাতি ও ধর্ষণের অভিযোগ।
আবারো বলছি - গণতন্ত্রের **কাল্পনিক** সংজ্ঞার দিকে যাবেন না, বরং যেটা ভারতে দেখলেন এটাই **পুঁজিবাদী গণতন্ত্র**। পৃথিবীর ইতিহাসে আজ পর্যন্ত ভাল কিছু এই পুঁজিবাদ ও তার গণতন্ত্র নামক নেকড়ে দিতে পারেনি। তারপরও বলা হয় গনতন্রের চেয়ে উত্তম কোন ব্যবস্থা নেই, তাই আরটিফিশিয়ালি একটা "নেশা" তৈরি করে রেখেছে এই ড্রাগ লর্ডরা। আমরা এখন এই নেশায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি; তাই নেশার টক উঠলে *গণতন্ত্র* বলতে বলতে মুখের ফেনা বের হয়ে আসে আমাদের। তাই কার্ল মার্ক্স এর পুরো উক্তিটিতে Religion এর বদলে Democracy বসিয়ে দিলামঃ
"Democracy is the sigh of the oppressed creature, the heart of a heartless world, and the soul of soulless conditions. It is the opium of the people".





Weekly Food costs more than a third of their wages. Cellphones, the men's lifeline to the world they left behind, take another cut. And the annual raises they were promised have not materialised. Even working 11 hours a day, six days a week, they struggle to send home much more than $100 a month.



















গনতান্ত্র ও Sex Scandal

 

গনতন্ত্রের অন্যতম জনপ্রিয় শ্লোগান হলো , এর মাধ্যমে সৎ ও যোগ্য ব্যাক্তিকে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি(এই প্রতিনিধি আবার খলীফা নয় ) নির্বাচন করবে । শুনতে কিন্তু খুব ভালই লাগে । এবার আসুন একটা উদাহারন দেখি -

ধরুন আপনি খুব সৎ একজন মানুষ , সমাজে আপনার খুব নাম ডাক আছে । তার পাশাপাশি সমাজের অসঙ্গতি , রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখে কি যায় এই নিয়েই আপনি সবসময় চিন্তিত । এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য সিদ্ধান্ত নিলেন জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবেন । এইবার তাহলে নির্বাচনে দাঁড়ানো লাগবে । এইবার পড়বেন আসলে প্যাঁচে । জনসমর্থনের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রচারণা করা লাগবে । মনোনয়ন পত্র কেনার জন্য ফি লাগবে সেটা নাহয় বাদ দিলাম । প্রচারণার মধ্যে অনেকে টাকা দিয়ে ভোট কেনে , আচ্ছা আপনি তাও কিনলেন না ; কিন্তু সভা সমাবেশের খরচা পাতি টা কিন্তু আপনার পকেট থেকেই যাবে । কিন্তু পর্যাপ্ত টাকার অভাবে আপনি প্রচারণা ঠিকমত করতে পারলেন না । ফলস্বরূপ নির্বাচনে আপনার প্রতিপক্ষ জনাব "পুকুরচোর" জয়ী হয়ে গেল ।

আসলে একজন ব্যাক্তি যতই সৎ হোক না কেন পয়সা ছাড়া তার নির্বাচনে দাঁড়ানো অমূলক । গনতান্ত্রিক নির্বাচনের মানদণ্ড আপনি ভাল না খারাপ সেটা নয়, মানদণ্ড হচ্ছে টাকা । এই টাকা যদি কোন সন্ত্রাসীর কাছে থাকে তবুও গনতন্ত্রের মানদণ্ড অনুযায়ী সে নির্বাচন করার যোগ্য । কয়েকদিন আগেই তো জনৈক মাফিয়া এক এলাকার মেয়র নির্বাচনে দাড়িয়েছিল ।কয়েকদিন আগে একজন প্রতিমন্ত্রি অথবা এম পি একটি অনুষ্ঠানে পুরষ্কার হিসেবে ক্রেস্ট দেয়ার সময় বলেছিল , তিনি ক্রেস্ট চান না টাকা চান , কারন অনেক খরচ হয় !! সুতরাং আপনার যদি টাকার ধান্দা না থাকে তাহলে গনতন্ত্রের এই নীতির সাথে খাপ খাওয়ানোটা হবে কোষ্ঠকাঠিন্যের সময় মলত্যাগের চেষ্টা করারই নামান্তর ।

যাই হোক নির্বাচনে জয়ী হবার পর প্রচারণাতে যত টাকা খরচ হয়েছে সেসব টাকা উসুলের চিন্তা আসাটা স্বাভাবিক । অযুত পরিমান বেতনে প্রচারনার সময় ধার দেনা শোধ করা অসম্ভব । এখন এই অসম্ভব কে সম্ভব করার জন্য যেকোন মূল্যেই চেষ্টা করে থাকে রাজনীতিবিদরা । যেহেতু গনতান্ত্রিক প্রতিনিধিদের টাকার ধান্দা থাকে তাই এই টাকা অসৎ উপায়ে হলেও সে উসুল করে থাকে । এই কারনে নির্বাচনের আগে কোন “জনপ্রতিনিধির (!?)” যে পরিমান সম্পদ থাকে, ক্ষমতায় আসার পর সেটা চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে যায় । মোটকথা গণতান্ত্রিক রাজনীতি হলো একটা ব্যবসা , প্রথমে একটু খরচের ঝাক্কি থাকলেও পরে শুধু লাভই লাভ । এইজন্যেই ব্যবস্থাটার নাম পূঁজিবাদ নয় “গনতান্ত্রিক পূঁজিবাদ । ”
তাই এখনো যদি মনে করে থাকেন এই দেশে বা অন্য যেকোন দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে শাসকের চেহারা পাল্টালে শান্তি নেমে আসবে তারা আসলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন । তবুও দেখবেন ভারতে এক গনহত্যাকারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে গিয়েছে দেখে অনেকেই অভিনন্দন জানিয়ছেন । আসলে গনতন্ত্র তো গনহত্যাকারীদেরকেই ক্ষমতায় বসাবে । কিন্তু যারা অভিনন্দন জানাচ্ছেন তারা হয় বোকার স্বর্গে আছেন আর নাহলে তারাও গনতন্ত্রের সুবিধাভোগী । জানেনই তো চোরে চোরে মাসতুতো ভাই ।


 আয়িশা রাঃ এর বাল্যবিবাহ নিয়ে যেমন গোশতখেকো মুসলিমদের মাঝে সংশয় রয়েছে তেমনি নাস্তিকের রয়েছে এই টপিকের পিছনে কুকুরের মত লেগে থাকা যাতে কিছু সস্তা মুসলিমের নিজেদের মত কাফির বানাতে পারে।

হাদিসে এসেছে রাসুল সাঃ আয়িশা রাদি'আল্লাহু তা'আলা আনহা কে বিবাহ করেন তখন আয়িশা রাঃ এর বয়স ছিল মাত্র ৬ বছর। আর যখন প্রথম স্বামীর ঘরে তথা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আসসাল্লাম এর ঘরে প্রবেশ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৯ বছর।

রাসুল সাঃ এর জন্মের পুর্বে থেকেই আরবে মেয়েদের জ্যান্ত পুঁতে ফেলা হতো। মেয়ে জাতি জন্ম নিলে অভিশাপ মনে করা হতো। মেয়েদের জন্মের পরই মেরে ফেলা হতো। অথচ কাফিররা এই বিষয়ে কোন কথাই বলেনা, তারা দৌড়ে এসে ইসলামের পিছনে কুকুরের মত গন্ধ শুকতে থাকে কোন কিছু পাওয়া যায় কিনা!

এই স্ট্যাটাস যারা পড়ছেন দয়া করে আপনারা আপনাদের নানি বা দাদিকে (বেঁচে থাকলে) জিজ্ঞেস করুন তো তাদের বিয়ে হয়েছিল কত বছর বয়সে?
বাংলাদেশে আমাদের দুই জেনারেশন আগে যাদের বিয়ে হয়েছে তাদের অধিকাংশই ছিল ১২/১৩ বছর বয়সী। আমার নিজের নানির যখন বিয়ে হয় তখন তার বয়স ছিল ১২ বছর।
যদি তাইই হয় তবে আমার নবী সাঃ এর চরিত্র নিয়ে কিছু বলার আগে আপনার দাদা/নানাকে ধরে পেটান কারন তিনি তো বাল্য বিবাহ করেছেন।
আপনার নানা/দাদা একবিংশ শতাব্দীতে এসে বাল্য বিবাহ করলে বর্বর হয়না আর নবী সাঃ ১৪০০ বছর আগে বিবাহ করলে সেটা বর্বর?

ভৌগলিক কারনে মধ্যপ্রাচ্যের মেয়েরা কম বয়সে যৌবনপ্রাপ্ত হয়। আরবে তৎকালীন মেয়েরা ৮-৯ বছরে সাবালিকা হতো। হিসেব করে দেখাই যায় রাসুল সাঃ ঠিক সময়েই বিয়ে করেছেন।
বাংলাদেশ মেয়েরা ভৌগলিক কারনে ১৫-১৬ বছরে যৌবনপ্রাপ্ত হয়।

বাল্য বিবাহ!
আহা ইহা কতইনা নিষ্ঠুরতা(!) বর্বরতা(!)...
তো এই নিষ্ঠুর (!) কাজে তৎকালীন কাফিররা এতটুকু বাধা দিলনা কেন? তারা কি জানতোনা যে মোহাম্মাদ (সাঃ) যা করছে তা অন্যায়?
অথচ এই সময়টাতে মুসলিমদের সামান্য ভুলের আশায় কাফিররা ওঁত পেতে থাকতো। এই সময় মুসলিমদের উপর না ছিল জ্বিহাদ ফরজ কিংবা শাসনামল। অথচ এই সময়টাতে মুসলিম নবী সাঃ কিনা বাল্য বিবাহ করে বসলো অথচ মক্কার এত বড় বড় কাফির কেউ কোন প্রতিবাদ করলোনা।
কেন? কাফিররা অলটাইম কি বোকাই হয়?

(সংক্ষেপে যখন কথা বোঝানো যায় তখন বিস্তারিত রচনা লিখে নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করার প্রয়োজন হয়না। বরং তারাই ব্যর্থদের একজন যারা পৃষ্ঠার পড় পৃষ্ঠা লিখেও বোঝাতে পারেনা স্ট্যাটাসের অর্থ কি। অর সামাঝদারকে লিয়ে ইশারাহ-ই কাফি হ্যায়)



কওমী মাদ্রাসার সেসব আলেমদের স্মরণ করছি যারা সত্য বলতে গিয়ে চাকরীচ্যুত হয়েছে মসজিদের ইমামের দায়িত্ব থেকে মসজিদ কমিটি নামক শাসক গোষ্ঠীর অন্তরঙ্গ লোকদের দ্বারা , চরম অর্থ কষ্টে দিনাতিপাত করছে ।। আল্লাহর ইচ্ছায় এদের ভেতর থেকেই একদিন বেরিয়ে আসবে ওমর মুখতার , হাকিমুল্লাহ মেহসুদ এর উত্তরসূরিরা ।। কারণ এরা দুনিয়ার বিনিময়ে আখিরাত কিনে নেওয়ার অন্তর্ভুক্ত মানসিকতাদের কাতারে যদিও এরা নিছক অপরিচিতদের কাতারে ।। আল্লাহ এসব সম্মানিতদের উত্তম প্রতিদান দান করুক ।।

অপরদিকে যেসব তথাকথিত বিশিষ্ট আলেম (??) অর্থ , পরিবার কিংবা তাগুতের নিকট সম্মানপ্রাপ্তির আশায় অবশেষে উম্মাহার সাথে প্রতারণা করে কুফর শক্তি এবং এদের দোসরদের তল্পিবাহকের ভূমিকায় অবতীর্ণ , এদের হাশর যেন আল্লাহতালা কুফর শক্তির দোসরদের কাতারেই করে ।।

যাই হোক আল্লাহ এভাবেই সত্যবাদী এবং প্রতারক মিথ্যাবাদি উভয়কে চিনে নিয়ে আলাদা করে নেন ।।
Abu Syeed Bhuiyan



বিল ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন অবস্থায় মনিকা লিউনেস্কির সাথে কতো কিছুই না করেছিল, কিন্তু একবারের জন্য কোন পশ্চিমা পণ্ডিত বলেনি রাষ্ট্র প্রধানের সেই কর্মকাণ্ডের জন্য আমেরিকা গণতন্ত্র ছাড়া হয়ে গিয়েছিল। বুশ অন্যায় ভাবে ইরাক দখল করেছিল এবং তেল, গ্যাস খনি সব লুটেপুটে খাওয়ার পর ২০০৮ সালে ক্ষমতা ছাড়ার আগে ABC চ্যানেল কে বলেছিলঃ ""The biggest regret of all the presidency has to have been the intelligence failure in Iraq"। কোন পশ্চিমা বুদ্ধিজীবী একবারের জন্যও বলেনি যে তাদের গণতন্ত্র দরকার নেই কারন বুশ গনতন্রের নামে পুর বিশ্বকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে গেছে যার শুরু ইরাক দিয়েই। তারা গনতন্ত্রের উপযোগিতা বিচার করে **রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে, ব্যক্তি শাসক কি করল সেটা মুখ্য না**।

কিন্তু যখনি ইসলামী খিলাফত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা আসে তখনি দেখা যায় আলোচনাটা সিস্টেম (ব্যবস্থা) থেকে ঘুরে চলে যায় ব্যক্তি খলিফাদের দোষগুণের দিকে!! পশ্চিমা পণ্ডিতদের পাশাপাশি মুসলিম অনেক বুদ্ধিজীবীরাও বলেন, "খলিফা মামুন তো মুতাযিলা ছিল", "আব্বাসিও খলিফারা তো গ্রিক দর্শন নিয়ে নিয়েছিল", "খলিফা মু'তাসিম বিল্লাহ তো মদ খেতেন", "তুরস্কের ওসমানী খলিফারা তো ছিল মদখোর ও নারী লোলুপ" ইত্যাদি। এসব বলার মাধ্যমে ওনারা বোঝাতে চান খিলাফত আসলে কখনো ছিলই না অথবা/এবং থাকেলও তা খলিফাদের দোষত্রুটি দ্বারা কলঙ্কিত, তাই খিলাফার দরকার নেই।

হ্যা, খলিফা আল-মামুন আকিদার ক্ষেত্রে ভ্রান্ত মুতাযিলি চিন্তা গ্রহন করেছিল কিন্তু এই আল-মামুন এর সময় সুদানের নুবিয়া নামক জায়গার একটি জমি ক্রয় সঙ্ক্রান্ত ব্যাপারে খলিফা মামুন তার শরিয়াহ আদালত কে দিয়ে যে রায় দিয়েছিল তাতে মুগ্ধ হয়ে দলে দলে খ্রিস্টান মুসলিম হয়ে গিয়েছিল।

হ্যা, খলিফা মু'তাসিম হয়তো ব্যক্তিগতভাবে ভাল মানুষ ছিল না কিন্তু তা সত্ত্বেও খিলাফত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আমরা বুঝতে পারি যখন দেখি সেই মু'তাসিম এর সময়েই ইউরোপের বর্তমান মালটা দেশের এক মুসলিম নারীকে রোমান সৈন্যরা যখন অন্যায়ভাবে জেলে বন্দী করেছিল (কারন সৈন্যরা মার্কেটে মুসলিমাটির হিজাব ধরে টান দেয়ার কারণে তিনি সৈন্যদের সাথে ঝগড়া করেছিলেন), তখন ২৪ ঘণ্টার নোটিসে ইউরোপের রোমান সাম্রাজ্যের শক্তিশালী ঘাঁটি সেই মালটা দেশ (যেটা আমুরিয়্যা নামে পরিচিত ছিল) দখল করে নিয়েছিল খিলাফতের বাহিনী।

হ্যা, তুরস্কের ওসমানী খলিফারা হয়তো অনেক পাপাচারে লিপ্ত ছিল। কিন্তু তার পরও সেই খিলাফতের দুর্বল এক খলিফা আব্দুল হামিদের এক হুংকারেই ব্রিটেন ও ফ্রান্স রাসুলুল্লাহ (সা) কে নিয়ে তৈরি করা রুশোর ব্যঙ্গাত্মক এক নাটক মঞ্চায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল।

তাই এই পশ্চিমা পণ্ডিত এবং তাদের চাটুকার ইসলামিক মোডারেট, প্র্যাগ্মাটিস্টদের যুক্তির এই ভণ্ডামিটা তুলে ধরা উচিত। কেন বাবা তোমরা গনতন্রকে বিশ্লেষণ করবা একটি সিস্টেম হিসেবে আর খিলাফতকে তুলাধুনা করবা খলিফাদের ব্যক্তিগত দোষ, ত্রুটি দেখিয়ে?!

তাই খিলাফত একটি শাসনব্যবস্থা, এটা খলিফাদের আমলনামা না। যেরকম ভাবে আমেরিকান গণতন্ত্র একটি শাসনব্যবস্থা, এটি ক্লিনটন-লিউনেস্কির সেক্স স্ক্যান্ডাল না।