রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৩

খোরাসান থেকে কালো পতাকাবাহী দল

আশ্চর্য হলেও সত্য..! 
আফগানিস্তানে তালিবান( যাদের কথা হাদিসে এসেছে) দের বিরুদ্ধে, আফগানিস্তানের সাধারণ মুসলিমদের বিরুদ্ধে আমেরিকাকে সহায়তা করা, ইরাকে প্রায় ১৫ লক্ষ মুসলিমের হত্যার জন্য, ধর্ষণের জন্য আমেরিকাকে সাহায্য করা, সিরিয়াতে বাশার আল আসাদ কে লক্ষাধিক মুসলিমের রক্ত ঝরানোর জন্য সহায়তা করা, এই পর্যন্ত লক্ষাধিক বার আমেরিকা-ইসরায়েল কে উড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার অভিনয় করা, প্রচণ্ড সাহাবি (রা) বিদ্বেষী, আবু বকর, উমর (রা) র মত সাহাবি (রা) দের গালাগালি করা, উম্মুল মুমিনিন আইশা (রা) এর চরিত্র নিয়ে কথা বলা, কুরআন বিকৃত হয়ে গেছে এবং করেছে কতিপয় সাহাবি (রা) রা এই আকিদায় বিশ্বাস করা, আলী (রা) এবং ১২ ইমাম কে আল্লাহর সাথে শরীক করা ইত্যাদি ইত্যাদি বিশেষণে ভূষিত ইরান কে নিয়ে কোন রকম কথা বললে এদেশের একটি বিশেষ দল এর গায়ে একেবারে আগুন ধরে যায়! হিকমার নামে "গনতন্ত্র" নামক কুফুরি মতবাদ কে ধারণ করা, নারী নেতৃত্ব মেনে নেওয়া এই বিশেষ দলের সদস্যবৃন্দ আর কিছু পারুক বা না পারুক তারা হরতাল, জ্বালাও পোড়াও এর মাধ্যমে সাধারণ মুসলিমদের অগণিত ক্ষতি করতে একেবারে পাকাহস্ত! যদিও মূল শত্রুদের টিকিটিও তারা ছুতে পারেনা এবং কিছু হলেই লক্ষ লক্ষ মুসলিমের রক্তের জন্য দায়ি কুফফার আমেরিকার দরবারে "প্রভু বাঁচাও আমাদের" বলে মাথা ঠুকতে বাকি রাখেনা! আর এই জ্বালাও পোড়াও করতে গিয়ে কেও মারা গেলে সেটাকে তারা স্বঘোষিত শহীদ হিসাবে রায় দেয়। তারা এদেশে কুরআনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় যদিও তাদের নেতারা সংসদ সদস্য হওয়ার পরে এই দেশে ইসলামের কি খেদমত করেছে তা এই দেশের মুসলিমরা জানে! তারা এতটুকু বুঝেনা তাদের সগোত্রীয়রা ছাড়া কেও তাদের পছন্দ করেনা। আচ্ছা ধরে নিলাম তারা ক্ষমতায় এল শরীয়তের শাসন কায়েম করতে চাইল (ইরান পন্থি শরীয়ত / মওদুদি, যে মওদুদি সাহাবি (রা) দের সমালোচনা করার দুঃসাহস দেখিয়েছে, পন্থি শরীয়ত আর কি! ) যেটাই হোক, ধরলাম তারা চাইল, তারপর কি হবে সেটার শিক্ষা কি তারা মিশর থেকে নিবেনা? আসল প্রভুকে বাদ দিয়ে আমেরিকা তথা কুফফার দের প্রভু বানিয়ে, তাদের হুজুর বানিয়ে, সবদিক খুশি রেখে তারা শরিয়ত প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েছিল। ফলে কি হল? হাজার হাজার মুসলিম পুড়ে ছাই হল মিশরে, রক্ত ঝরল অগনিত মুসলিমের! তবুও এরা শিক্ষা নিবেনা। বরং তারা সেই সমস্ত মুজাহিদ যারা তাদের সামান্য সম্বল দিয়ে হলেও, নিজের জীবন কে মুসলিম উম্মাহর জন্য, আল্লাহকে খুশি করার জন্য দিয়ে দেয় তাদের কে তারা জঙ্গি, সন্ত্রাসী নামে অভিহিত করতেও হয়ত কুন্ঠাবোধ করে না, যারা কিনা আল্লাহর শ্রেষ্ঠ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত! এবং তাদেরকে যারা সমর্থন করে তাঁদের নিয়ে হাসি ঠাট্টা, ফাইজলামি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে!! যার প্রমাণ বিভিন্ন সামাজিক ওয়েবসাইট! এই দলের সদস্যদের তাদের নেতাদের জন্য জীবন দিতে দেখা গেলেও (যা কিনা কুফফার, পৌত্তলিকরাও করে এটা কোন বিশেষ কিছুনা ) আল্লাহর রাসুল (সা) এর অবমাননার জন্য তাদেরকে অফিসিয়ালভাবে কিছুই করতে দেখা যায়নি। এদেরকে ভাই মনে করে কিছু বুঝাতে গেলে আর রক্ষা নেই, বাংলা ভাষার বিকৃতরূপ তখন তাদের থেকে প্রকাশ পায়, গালাগালি করতে তাদের মনে হয় এতটুকু বাধেনা! আফসোস এদের জন্য!! আফসোস!!!!!!
 
 
যারা জানেন না, তাদের জন্য-

আসুন আল্লাহর রাসুল (সা) এর কিছু হাদিস দেখিঃ

হাদিস নং-১। আবদুল্লাহ ইবনে হারিস থেকে বর্ণিত। রাসুল(সাঃ) বলেন,“পূর্বদিক(খোরাসান) থেকে কিছু লোক বের হয়ে আসবে যারা ইমাম মাহদির খিলাফত প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করবে এবং খিলাফত প্রতিষ্ঠা সহজ করে দিবে।”- সুনান ইবনে মাজাহ, খণ্ড ৩, হাদিস নং-৪০৮৮

হাদিস নং-২। আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল(সাঃ) বলেছেন, “খোরাসান থেকে কালো পতাকাবাহী একদল লোক বের হয়ে আসবে। পৃথিবীর কোন শক্তিই তাঁদেরকে থামাতে পারবেনা এবং সবশেষে তারা জেরুজালেম পৌছবে এবং সেখানে তারা তাঁদের বিজয়ের পতাকা উড়াবে।”-জামে আত তিরমিজি।

হাদিস নং-৩। থাওবান(রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুল(সাঃ) বলেন, “যদি দেখ খোরাসান থেকে কালো পতাকাবাহী দল বের হয়ে আসছে তবে অবশ্যই তাদের সাথে যোগদান করবে। এমনকি এর জন্যে যদি বরফের উপর হামাগুড়ি দিতে হয় তাও……………।”- মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, আল হাকিম।

তাহলে এখন স্বাভাবিকবভাবেই প্রশ্ন জাগে যে কোথায় সেই ঐতিহাসিক খোরাসান?

খোরাসান বলতে আল্লাহর রাসুল (সা) এর আমলে মোটামুটি সমগ্র আফগানিস্তান, পাকিস্তানের কিছু অংশ, ইরানের কিছু অংশ এবং উজবেকিস্তানের কিছু অংশ বুঝানো হত। তবে আফগানিস্তান হচ্ছে খোরাসানের কেন্দ্রবিন্দু অর্থাৎ Afganistan is the heart of Khorasan.এখন ব্যপার হল, এই খোরাসানে যে দলটা আছে তাদেরকে দুনিয়াবাসি তালিবান হিসাবে চিনে! এই আফগান যোদ্ধাদের পতাকা হল কালো। এদেরকে এখন পর্যন্ত কেও পরাজিত করতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ। ১৮৩৯, ১৮৭৮ এবং ১৯৪২ সালে তৎকালীন সুপারপাওয়ার ব্রিটিশরা কলোনি করতে গিয়েছিল, কিন্তু এই ৩ বারই শোচনীয় পরাজয় ঘটে এই ব্রিটিশদের! ১৯৪২ সালে আক্রমন করা ১২০০০ সৈন্যের মধ্যে মাত্রে ১ জন পালিয়ে যেতে পেরেছিল। একটি প্রবাদ বাক্য ছিল-ইংরেজদের রাজ্যে কখনও সূর্য ডুবেনা। কিন্তু সেই ইংরেজদের চেরাগই আফগানিস্তানে জ্বলতে পারেনি! ১৯৭৯ সাল থেকে শুরু হওয়া ১০ বছরের উপরের আফগান রাশিয়া যুদ্ধে তৎকালীন রাশিয়া আধুনিক বিমান,ট্যাঙ্ক, অস্ত্রশস্ত্র ইত্যাদি সহ প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি টাকার উপর খরচ করার পর অবশেষে সোভিওত ইউনিওন ভেঙ্গে খানখান হয়ে যায়!টুইন টাওয়ার এর হামলার পর সন্ত্রাসী বুশ আফগানিস্তান আক্রমণ করে। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরের উপরের যুদ্ধে ন্যাটো জোটের ২৮ টা দেশ, সাথে আরও চুনোপটি ২০ টা দেশ, সবমিলিয়ে ৪৮ টা দেশ, তাদের সর্বচ্চো টেকনোলজি নিয়ে, বিলিয়ন-বিলিয়ন ডলার খরচ করে,আধুনিক বিমান,ড্রোন, অত্যাধুনিক মরনাস্ত্র ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে কাদের বিরুদ্ধে লাগতে গিয়েছিল? লাগতে গিয়েছিল, যাদের পায়ে একজোড়া জুতা পড়ার সামর্থ্য ছিলনা, একবেলা চা দিয়ে রুটি ভিজিয়ে খায় তো বাকি ২বেলা কোন খবর নেই, সেই তালিবান দের সাথে! এখন সম্মিলিত ন্যাটো জোটের কি অবস্থা? অবস্থা হল-"ছাইড়া দে মা,কাইন্দা বাঁচি "!!!!! আলহামদুলিল্লাহ!!!... ন্যাটো জোট এর প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রচুর সৈন্য হারানোর পর তারা এখন পালাতে পারলে বাঁচে ! আর তালিবানদের সাথে শান্তি চুক্তি করার জন্য পিছে পিছে ঘুরছে!!!...যদিও দালাল মিডিয়াগুলি সবকিছু ভিন্নভাবেই তুলে ধরে!
বিস্তারিত জানতে নিচের লিংক ঘুরে আসতে পারেন, ইনশাআল্লাহ!

1. http://www.youtube.com/watch?v=S7uSqWi_7o8
2. http://www.youtube.com/watch?v=NT8of32nFuY
3. http://gurabamedia.wordpress.com/2012/11/10/তালিবান-আফগানিস্তান-ইসর/
4. https://www.facebook.com/photo.php?fbid=335569019921796

 
 
 
 
 
 
 
 
ধিক্কার সেই সমস্ত নামধারী মুসলিমদের, যারা মুসলিম পরিচয় বহন করেও পশ্চিমা বিশ্বের দালালি করে, তাদের কালচারকে আধুনিকতার মানদণ্ড হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে তা বেছে নিয়েছে!!
 
 

৩টি মন্তব্য: