গনতন্ত্রের অন্যতম জনপ্রিয় শ্লোগান হলো , এর মাধ্যমে সৎ ও যোগ্য ব্যাক্তিকে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি(এই প্রতিনিধি আবার খলীফা নয় ) নির্বাচন করবে । শুনতে কিন্তু খুব ভালই লাগে । এবার আসুন একটা উদাহারন দেখি -
ধরুন আপনি খুব সৎ একজন মানুষ , সমাজে আপনার খুব নাম ডাক আছে । তার পাশাপাশি সমাজের অসঙ্গতি , রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখে কি যায় এই নিয়েই আপনি সবসময় চিন্তিত । এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য সিদ্ধান্ত নিলেন জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবেন । এইবার তাহলে নির্বাচনে দাঁড়ানো লাগবে । এইবার পড়বেন আসলে প্যাঁচে । জনসমর্থনের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রচারণা করা লাগবে । মনোনয়ন পত্র কেনার জন্য ফি লাগবে সেটা নাহয় বাদ দিলাম । প্রচারণার মধ্যে অনেকে টাকা দিয়ে ভোট কেনে , আচ্ছা আপনি তাও কিনলেন না ; কিন্তু সভা সমাবেশের খরচা পাতি টা কিন্তু আপনার পকেট থেকেই যাবে । কিন্তু পর্যাপ্ত টাকার অভাবে আপনি প্রচারণা ঠিকমত করতে পারলেন না । ফলস্বরূপ নির্বাচনে আপনার প্রতিপক্ষ জনাব "পুকুরচোর" জয়ী হয়ে গেল ।
আসলে একজন ব্যাক্তি যতই সৎ হোক না কেন পয়সা ছাড়া তার নির্বাচনে দাঁড়ানো অমূলক । গনতান্ত্রিক নির্বাচনের মানদণ্ড আপনি ভাল না খারাপ সেটা নয়, মানদণ্ড হচ্ছে টাকা । এই টাকা যদি কোন সন্ত্রাসীর কাছে থাকে তবুও গনতন্ত্রের মানদণ্ড অনুযায়ী সে নির্বাচন করার যোগ্য । কয়েকদিন আগেই তো জনৈক মাফিয়া এক এলাকার মেয়র নির্বাচনে দাড়িয়েছিল ।কয়েকদিন আগে একজন প্রতিমন্ত্রি অথবা এম পি একটি অনুষ্ঠানে পুরষ্কার হিসেবে ক্রেস্ট দেয়ার সময় বলেছিল , তিনি ক্রেস্ট চান না টাকা চান , কারন অনেক খরচ হয় !! সুতরাং আপনার যদি টাকার ধান্দা না থাকে তাহলে গনতন্ত্রের এই নীতির সাথে খাপ খাওয়ানোটা হবে কোষ্ঠকাঠিন্যের সময় মলত্যাগের চেষ্টা করারই নামান্তর ।
যাই হোক নির্বাচনে জয়ী হবার পর প্রচারণাতে যত টাকা খরচ হয়েছে সেসব টাকা উসুলের চিন্তা আসাটা স্বাভাবিক । অযুত পরিমান বেতনে প্রচারনার সময় ধার দেনা শোধ করা অসম্ভব । এখন এই অসম্ভব কে সম্ভব করার জন্য যেকোন মূল্যেই চেষ্টা করে থাকে রাজনীতিবিদরা । যেহেতু গনতান্ত্রিক প্রতিনিধিদের টাকার ধান্দা থাকে তাই এই টাকা অসৎ উপায়ে হলেও সে উসুল করে থাকে । এই কারনে নির্বাচনের আগে কোন “জনপ্রতিনিধির (!?)” যে পরিমান সম্পদ থাকে, ক্ষমতায় আসার পর সেটা চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে যায় । মোটকথা গণতান্ত্রিক রাজনীতি হলো একটা ব্যবসা , প্রথমে একটু খরচের ঝাক্কি থাকলেও পরে শুধু লাভই লাভ । এইজন্যেই ব্যবস্থাটার নাম পূঁজিবাদ নয় “গনতান্ত্রিক পূঁজিবাদ । ”
তাই এখনো যদি মনে করে থাকেন এই দেশে বা অন্য যেকোন দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে শাসকের চেহারা পাল্টালে শান্তি নেমে আসবে তারা আসলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন । তবুও দেখবেন ভারতে এক গনহত্যাকারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে গিয়েছে দেখে অনেকেই অভিনন্দন জানিয়ছেন । আসলে গনতন্ত্র তো গনহত্যাকারীদেরকেই ক্ষমতায় বসাবে । কিন্তু যারা অভিনন্দন জানাচ্ছেন তারা হয় বোকার স্বর্গে আছেন আর নাহলে তারাও গনতন্ত্রের সুবিধাভোগী । জানেনই তো চোরে চোরে মাসতুতো ভাই ।
আয়িশা রাঃ এর বাল্যবিবাহ নিয়ে যেমন গোশতখেকো মুসলিমদের মাঝে সংশয় রয়েছে তেমনি নাস্তিকের রয়েছে এই টপিকের পিছনে কুকুরের মত লেগে থাকা যাতে কিছু সস্তা মুসলিমের নিজেদের মত কাফির বানাতে পারে।
হাদিসে এসেছে রাসুল সাঃ আয়িশা রাদি'আল্লাহু তা'আলা আনহা কে বিবাহ করেন তখন আয়িশা রাঃ এর বয়স ছিল মাত্র ৬ বছর। আর যখন প্রথম স্বামীর ঘরে তথা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আসসাল্লাম এর ঘরে প্রবেশ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৯ বছর।
রাসুল সাঃ এর জন্মের পুর্বে থেকেই আরবে মেয়েদের জ্যান্ত পুঁতে ফেলা হতো। মেয়ে জাতি জন্ম নিলে অভিশাপ মনে করা হতো। মেয়েদের জন্মের পরই মেরে ফেলা হতো। অথচ কাফিররা এই বিষয়ে কোন কথাই বলেনা, তারা দৌড়ে এসে ইসলামের পিছনে কুকুরের মত গন্ধ শুকতে থাকে কোন কিছু পাওয়া যায় কিনা!
এই স্ট্যাটাস যারা পড়ছেন দয়া করে আপনারা আপনাদের নানি বা দাদিকে (বেঁচে থাকলে) জিজ্ঞেস করুন তো তাদের বিয়ে হয়েছিল কত বছর বয়সে?
বাংলাদেশে আমাদের দুই জেনারেশন আগে যাদের বিয়ে হয়েছে তাদের অধিকাংশই ছিল ১২/১৩ বছর বয়সী। আমার নিজের নানির যখন বিয়ে হয় তখন তার বয়স ছিল ১২ বছর।
যদি তাইই হয় তবে আমার নবী সাঃ এর চরিত্র নিয়ে কিছু বলার আগে আপনার দাদা/নানাকে ধরে পেটান কারন তিনি তো বাল্য বিবাহ করেছেন।
আপনার নানা/দাদা একবিংশ শতাব্দীতে এসে বাল্য বিবাহ করলে বর্বর হয়না আর নবী সাঃ ১৪০০ বছর আগে বিবাহ করলে সেটা বর্বর?
ভৌগলিক কারনে মধ্যপ্রাচ্যের মেয়েরা কম বয়সে যৌবনপ্রাপ্ত হয়। আরবে তৎকালীন মেয়েরা ৮-৯ বছরে সাবালিকা হতো। হিসেব করে দেখাই যায় রাসুল সাঃ ঠিক সময়েই বিয়ে করেছেন।
বাংলাদেশ মেয়েরা ভৌগলিক কারনে ১৫-১৬ বছরে যৌবনপ্রাপ্ত হয়।
বাল্য বিবাহ!
আহা ইহা কতইনা নিষ্ঠুরতা(!) বর্বরতা(!)...
তো এই নিষ্ঠুর (!) কাজে তৎকালীন কাফিররা এতটুকু বাধা দিলনা কেন? তারা কি জানতোনা যে মোহাম্মাদ (সাঃ) যা করছে তা অন্যায়?
অথচ এই সময়টাতে মুসলিমদের সামান্য ভুলের আশায় কাফিররা ওঁত পেতে থাকতো। এই সময় মুসলিমদের উপর না ছিল জ্বিহাদ ফরজ কিংবা শাসনামল। অথচ এই সময়টাতে মুসলিম নবী সাঃ কিনা বাল্য বিবাহ করে বসলো অথচ মক্কার এত বড় বড় কাফির কেউ কোন প্রতিবাদ করলোনা।
কেন? কাফিররা অলটাইম কি বোকাই হয়?
(সংক্ষেপে যখন কথা বোঝানো যায় তখন বিস্তারিত রচনা লিখে নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করার প্রয়োজন হয়না। বরং তারাই ব্যর্থদের একজন যারা পৃষ্ঠার পড় পৃষ্ঠা লিখেও বোঝাতে পারেনা স্ট্যাটাসের অর্থ কি। অর সামাঝদারকে লিয়ে ইশারাহ-ই কাফি হ্যায়)
কওমী মাদ্রাসার সেসব আলেমদের স্মরণ করছি যারা সত্য বলতে গিয়ে চাকরীচ্যুত হয়েছে মসজিদের ইমামের দায়িত্ব থেকে মসজিদ কমিটি নামক শাসক গোষ্ঠীর অন্তরঙ্গ লোকদের দ্বারা , চরম অর্থ কষ্টে দিনাতিপাত করছে ।। আল্লাহর ইচ্ছায় এদের ভেতর থেকেই একদিন বেরিয়ে আসবে ওমর মুখতার , হাকিমুল্লাহ মেহসুদ এর উত্তরসূরিরা ।। কারণ এরা দুনিয়ার বিনিময়ে আখিরাত কিনে নেওয়ার অন্তর্ভুক্ত মানসিকতাদের কাতারে যদিও এরা নিছক অপরিচিতদের কাতারে ।। আল্লাহ এসব সম্মানিতদের উত্তম প্রতিদান দান করুক ।।
অপরদিকে যেসব তথাকথিত বিশিষ্ট আলেম (??) অর্থ , পরিবার কিংবা তাগুতের নিকট সম্মানপ্রাপ্তির আশায় অবশেষে উম্মাহার সাথে প্রতারণা করে কুফর শক্তি এবং এদের দোসরদের তল্পিবাহকের ভূমিকায় অবতীর্ণ , এদের হাশর যেন আল্লাহতালা কুফর শক্তির দোসরদের কাতারেই করে ।।
যাই হোক আল্লাহ এভাবেই সত্যবাদী এবং প্রতারক মিথ্যাবাদি উভয়কে চিনে নিয়ে আলাদা করে নেন ।।
Abu Syeed Bhuiyan
বিল ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন অবস্থায় মনিকা লিউনেস্কির সাথে কতো কিছুই না করেছিল, কিন্তু একবারের জন্য কোন পশ্চিমা পণ্ডিত বলেনি রাষ্ট্র প্রধানের সেই কর্মকাণ্ডের জন্য আমেরিকা গণতন্ত্র ছাড়া হয়ে গিয়েছিল। বুশ অন্যায় ভাবে ইরাক দখল করেছিল এবং তেল, গ্যাস খনি সব লুটেপুটে খাওয়ার পর ২০০৮ সালে ক্ষমতা ছাড়ার আগে ABC চ্যানেল কে বলেছিলঃ ""The biggest regret of all the presidency has to have been the intelligence failure in Iraq"। কোন পশ্চিমা বুদ্ধিজীবী একবারের জন্যও বলেনি যে তাদের গণতন্ত্র দরকার নেই কারন বুশ গনতন্রের নামে পুর বিশ্বকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে গেছে যার শুরু ইরাক দিয়েই। তারা গনতন্ত্রের উপযোগিতা বিচার করে **রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে, ব্যক্তি শাসক কি করল সেটা মুখ্য না**।
কিন্তু যখনি ইসলামী খিলাফত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা আসে তখনি দেখা যায় আলোচনাটা সিস্টেম (ব্যবস্থা) থেকে ঘুরে চলে যায় ব্যক্তি খলিফাদের দোষগুণের দিকে!! পশ্চিমা পণ্ডিতদের পাশাপাশি মুসলিম অনেক বুদ্ধিজীবীরাও বলেন, "খলিফা মামুন তো মুতাযিলা ছিল", "আব্বাসিও খলিফারা তো গ্রিক দর্শন নিয়ে নিয়েছিল", "খলিফা মু'তাসিম বিল্লাহ তো মদ খেতেন", "তুরস্কের ওসমানী খলিফারা তো ছিল মদখোর ও নারী লোলুপ" ইত্যাদি। এসব বলার মাধ্যমে ওনারা বোঝাতে চান খিলাফত আসলে কখনো ছিলই না অথবা/এবং থাকেলও তা খলিফাদের দোষত্রুটি দ্বারা কলঙ্কিত, তাই খিলাফার দরকার নেই।
হ্যা, খলিফা আল-মামুন আকিদার ক্ষেত্রে ভ্রান্ত মুতাযিলি চিন্তা গ্রহন করেছিল কিন্তু এই আল-মামুন এর সময় সুদানের নুবিয়া নামক জায়গার একটি জমি ক্রয় সঙ্ক্রান্ত ব্যাপারে খলিফা মামুন তার শরিয়াহ আদালত কে দিয়ে যে রায় দিয়েছিল তাতে মুগ্ধ হয়ে দলে দলে খ্রিস্টান মুসলিম হয়ে গিয়েছিল।
হ্যা, খলিফা মু'তাসিম হয়তো ব্যক্তিগতভাবে ভাল মানুষ ছিল না কিন্তু তা সত্ত্বেও খিলাফত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আমরা বুঝতে পারি যখন দেখি সেই মু'তাসিম এর সময়েই ইউরোপের বর্তমান মালটা দেশের এক মুসলিম নারীকে রোমান সৈন্যরা যখন অন্যায়ভাবে জেলে বন্দী করেছিল (কারন সৈন্যরা মার্কেটে মুসলিমাটির হিজাব ধরে টান দেয়ার কারণে তিনি সৈন্যদের সাথে ঝগড়া করেছিলেন), তখন ২৪ ঘণ্টার নোটিসে ইউরোপের রোমান সাম্রাজ্যের শক্তিশালী ঘাঁটি সেই মালটা দেশ (যেটা আমুরিয়্যা নামে পরিচিত ছিল) দখল করে নিয়েছিল খিলাফতের বাহিনী।
হ্যা, তুরস্কের ওসমানী খলিফারা হয়তো অনেক পাপাচারে লিপ্ত ছিল। কিন্তু তার পরও সেই খিলাফতের দুর্বল এক খলিফা আব্দুল হামিদের এক হুংকারেই ব্রিটেন ও ফ্রান্স রাসুলুল্লাহ (সা) কে নিয়ে তৈরি করা রুশোর ব্যঙ্গাত্মক এক নাটক মঞ্চায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল।
তাই এই পশ্চিমা পণ্ডিত এবং তাদের চাটুকার ইসলামিক মোডারেট, প্র্যাগ্মাটিস্টদের যুক্তির এই ভণ্ডামিটা তুলে ধরা উচিত। কেন বাবা তোমরা গনতন্রকে বিশ্লেষণ করবা একটি সিস্টেম হিসেবে আর খিলাফতকে তুলাধুনা করবা খলিফাদের ব্যক্তিগত দোষ, ত্রুটি দেখিয়ে?!
তাই খিলাফত একটি শাসনব্যবস্থা, এটা খলিফাদের আমলনামা না। যেরকম ভাবে আমেরিকান গণতন্ত্র একটি শাসনব্যবস্থা, এটি ক্লিনটন-লিউনেস্কির সেক্স স্ক্যান্ডাল না।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন