শুক্রবার, ২০ জুন, ২০১৪

গনতন্ত্রকে জায়েয এবং খিলাফতকে ধ্বংস

উসুলি কা'ইদাহ "সকল বস্তুর 'আসল' হল ইবাহা" প্রয়োগ করে কি করে গনতন্ত্রকে জায়েয এবং খিলাফতকে ধ্বংস করা হয়েছিল।

19 June 2014 at 14:38
যারাই বলে থাকেন ইসলামে ইবাদতের 'তউকিফি' (অর্থাৎ ওয়াহি দ্বারা সুনির্দিষ্ট) ইস্যুগুলো ছাড়া বাকি সব *একশন (কাজ)* বাই ডিফল্ট মুবাহ বা হালাল, তারা ইসলামী আইনবিজ্ঞানের (উসুল আল ফিকহ) বিষয়ে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে খুব ভয়ংকরভাবেই উম্মাহকে ভুল পথে চালিত করছেন। পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় আমাদের অনেকের মনে এটা গেঁথে গেছে (কিছু ভ্রান্ত প্রচারনার দ্বারা) কোন বিষয় যদি ইসলামের সাথে কনফ্লিক্ট না করে এবং ঐ ব্যাপারে কোন শরিয়ার নুসুস (দলীল) যদি না থাকে, তাহলেই তা মুবাহ বা হালাল। এই ভয়ংকর চিন্তার কারনেই মুসলিম উম্মাহকে “ইসলামিক গণতন্ত্র”, “ইসলামিক সমাজতন্ত্র”, “সোশ্যাল জাস্টিস” ইত্যাদি কুফরি চিন্তা গলধঃকরণ করানো হয়েছিল।  খিলাফত ধ্বংসের বিস্তারিত ইতিহাস নিয়ে যারা অবহিত নন, তারা এই বিষয়টিও হয়তো জানেন না কাফেররা মুসলিম ভূমিগুলোকে বাইরে থেকে আক্রমণ পরে করেছিল। প্রথমে ভেতর থেকে ধ্বংস করা হয়েছিল কিছু ভ্রান্ত উসুলি কা’ইদাহ (নীতি) প্রয়োগ করে যার ভেতর ছিল এইটিও – “সকল কিছুই বাই ডিফল্ট মুবাহ”। এই নীতির দ্বারা ঐ পশ্চিমা চিন্তাধারা দ্বারা প্রভাবিত মুসলিম পণ্ডিতরা বলা শুরু করেছিল যে রাজনীতি “তউকিফি” (আল্লাহ দ্বারা নির্ধারিত) না এবং সব কাজই বাই ডিফল্ট হালাল, এবং তা বলেই ফ্রেঞ্চ পেনাল কোড ও রোমান আইন এবং গণতন্ত্র মুসলিম খিলাফতে ঢোকানো হয়েছিল বিখ্যাত পণ্ডিতদের দ্বারা।

এক্ষেত্রে দেখা যায় যেসব ফকিহ বা উসুলিয়্যুন এই চিন্তার প্রচার-প্রসার ঘটান, তারা নীচের কা’ইদাহ (নীতি) টি সর্বদাই উল্লেখ করে থাকেনঃ

সব বস্তুর ‘আসল’ বা অরিজিন হল ইবাহা (বা হালাল)” [আল আসলু ফিল-আশইয়া আল ইবাহা]

এখানে উল্লেখ্য ফিকাহ শাস্ত্রবিদরা শুধু বস্তু/জিনিস (আশইয়া) এর ক্ষেত্রে এই কা’ইদাটি ব্যবহার করতেন (আফ'আল বা কাজের ক্ষেত্রে না)।  আল্লাহ (সু) কুরআনে বলেছেন,

وَخَلَقَ لَكُمْ مَا في الأَرْضِ جَمِيعاً

“এবং তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর বুকে যা আছে সবই সৃষ্টি করেছেন” 

আয়াতটিতে আল্লাহ বস্তুকে ‘আম ভাবে উল্লেখ করেছেন তাই সকল বস্তু বাই ডিফল্ট হালাল, এবং যেগুলো হারাম সেগুলো উল্লখে করা আছে।

কিন্তু সমস্যা হয় যখন বস্তুর (আশইয়া) সাথে একশন বা কাজ (আফ’আল) কে মিশিয়ে ফেলে এই কা’ইদাহটি দ্বারা জাস্টিফাই করানো হয়। এটি একটি কমনসেন্স যে বস্তু আর একশন কখনই এক বিষয় হয় না। আমরা বলতে পারি না 'ছুড়ি' (বস্তু) আর ‘ছুড়ি মারা’ (একশন) এক বিষয়। তাই অতীতে স্কলাররা প্রয়োজনবোধই করেননি এই নীতির ক্ষেত্রে বস্তুকে একশন থেকে আলাদা করে বোঝানোর। 

তাই আফ’আল (একশন) এর ক্ষেত্রে ‘আসল’ (অরিজিন) হল –

“হুকুম আশ-শার’ঈর মাঝে নিজেদের কাজকে সীমাবদ্ধ রাখার মাধ্যমে শরিয়াহর সাথে লেগে থাকা”

তাই যদি আল্লাহ কোন কাজের জন্য ইবাহা (অনুমতি) দেয় তাহলে তা হবে মুবাহ আর যদি আমরা অনুমতি না দেখতে পাই তাহলে “আদিল্লাহ আশ-শারিয়্যাহ” (শরিয়াহর দলীল) থেকে হুকুম বের করে আনতে হবে। এটা বলার কোন সুযোগ নেই যেহেতু শরিয়াহ এখেত্রে এপারেন্টলি নীরব তাই আমরা সেই একশন সমূহ পালন করতে পারবো।
যারা এই বস্তুর সাথে একশনকে মিলিয়ে দেখেন তারা আবার “মুবাহ” (যা করলে কোন সাওয়াব বা গুনাহ নেই) কে ভিন্ন ভাবে সংজ্ঞায়িত করেন। তারা মনে করেন যেসব বিষয়ে শরিয়াহ কোন তিরস্কার (হারাজ) করে না বা শরিয়াহ নিশ্চুপ, সেগুলোই হল মুবাহ। তাই তিরস্কারের অনুপস্থিতিই হল “অনুমতি” (ইবাহা)। তারা রাসুলের (সা) কথাটি উল্লেখ করেনঃ

وَمَا سَكَتَ عَنْهُ فَهُوَ عَفْو 

“এবং যে বিষয়ে নিশ্চুপ থাকা হয়েছে সেসব বিষয়ে মাফ করে দেয়া হয়েছে”।

এভাবেই নিকট অতীতের স্কলাররা গনতন্ত্রকে জায়েয করেছিল এই যুক্তিতে যে গণতন্ত্রও “শুরা” (পরামর্শ) ও সামাজিক ন্যায় দ্বারা পরিচালিত এবং সকল বস্তুই যেহেতু বাই ডিফল্ট হালাল, তাই গণতন্ত্রও এডপ্ট করা যাবে। এবং বর্তমানেও অতীতের সেই বিষাক্ত চিন্তা অনেক স্কলাররাই বহন করছে।

তাই এটা জেনে নেয়া ভাল উসুল আল ফিকহের ক্লাসিক্যাল বইগুলোতে কোথাও বলা নেই কোন বিষয়ের ক্ষেত্রে হারাজ (তিরস্কার) এর অনুপশ্তিতিই হল “অনুমতি” (ইবাহা), কারন কোন কাজ করা বা না করার ক্ষেত্রে হারাজ এর অনুপস্থিতি ইঙ্গিতবহন করে না যে ঐ কাজ বা বস্তুটি মুবাহ। আবার ব্যাপারটি এমনও না যে ঐ হারাজটিকে তুলে নেয়ার অর্থই হল “অনুমতি”। তাই, কোন বিষয় মুবাহ হওয়ার অর্থ হল উক্ত বিষয়ে হুকুমদাতা (আল্লাহ) মানুষকে কোন কাজ করা বা না করার ক্ষেত্রে বাছাই করার অপশন দিয়েছেন, এবং এই বাছাইয়ের অপশনটিও শরিয়াহর দলীল দ্বারা সমর্থিত হতে হবে

যারা উপরে বর্ণিত হাদিসটির  (“এবং যে বিষয়ে নিশ্চুপ থাকা হয়েছে সেসব বিষয়ে মাফ করে দেয়া হয়েছে”) এভাবে ব্যাখ্যা দেন যে শরিয়াহ কিছু বিষয়ে নিশ্চুপ রয়েছে তাই ওসব বিষয় মুবাহ, তারা হাদিসটির ভুল ব্যাখ্যা দেন। বিষয়টি এমন না যে শরিয়াহ কোন ব্যাপার এক্সপ্লেইন করে নাই এবং এই চিন্তা করাও পাপ কারন আল্লাহ বলেছেনঃ

"আজকে আমি তোমাদের জন্য দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম...” [মা’য়েদা, ৩]

আর বলেছেনঃ

“আমরা এই কিতাব নাযিল করেছি সবকিছুর ব্যাখ্যা দিয়েই” [নাহল, ৮৯]

তাই ওপরের হাদিসটিতে রাসুলুল্লাহ (সা) বোঝাতে চেয়েছেন সেসব টেক্সট গ্রহন করো যা তোমাদের দেয়া হয়েছে। আর যে বিষয়ে কিছু জিজ্ঞাস করা হয়নি তা নিয়ে কিছু জিজ্ঞাস করো না কারন হয়তো তা আবার হারামও হয়ে যেতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছিলেনঃ

ذَرُونِي مَا تَرَكْتُمْ فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ سُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ . فَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَاجْتَنِبُوهُ . وَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرِ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ

 “আমাকে চাপ দিও না সেসবের বাইরে কিছু বলতে যা আমি তোমাদের ইতিমধ্যেই বলেছি। তোমাদের আগে যারা এসেছিল তারা অতিরিক্ত প্রশ্ন করা এবং তাদের নবীদের সাথে বিতর্ক করার কারণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তাই আমি যদি তোমাদের কিছু করতে নিষেধ করি তাহলে তা থেকে দূরে থাক এবং যদি কিছু করার আদেশ দেই তাহলে তোমাদের সাধ্যমতো করার চেষ্টা করো” [মুসলিম]

তাই মুল কথা হল ইসলামে এমন কিছু নাই যা শরিয়াহ এক্সপ্লেইন করেনি। তাই কোন কিছু মুবাহ বলতে নিলেও আমাদের আগে দলীল ঘাটতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে শরিয়াহ উক্ত বিষয়টিকে মুবাহ ঘোষণা দিয়েছে।  

আবার অনেকেই যুক্তি দিয়ে থাকেন নিউক্লিয়ার বোমা, উড়োজাহাজ তৈরি ইত্যাদি একশনগুলোর ক্ষেত্রে তো কোন শরিয়াহ বিধান নেই। তাই এই কাজগুলো যদি আমরা ইবাহা ধরে করতে পারি, তাহলে কেন সকল কাজের ‘আসল” (অরিজিন) এর ক্ষেত্রে আমরা একই কথা বলতে পারি না?  এই বিষয়ে ফুকাহাদের মত হল কিছু চিন্তা থাকে আকিদা এবং আহকাম সঙ্ক্রান্ত, এবং কিছু থাকে ‘উলুম (বিজ্ঞান), মাদানিয়্যাহ (প্রযুক্তি), উদ্ভাবন/উৎপাদন, দক্ষতা ইত্যাদি সঙ্ক্রান্ত। তাই দ্বিতীয় বিষয়ের (যেগুলো আকিদা বা আহকাম সঙ্ক্রান্ত নয়) ক্ষেত্রে যদি শরিয়াহ দ্বারা নিষেধকারী কোন দলীল না থাকে, তাহলে তা গ্রহন করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা) একবার কিছু কৃষক এর পাস দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তাদের বললেনঃ 

أَنْتُمْ أَدْرَى بِأُمورِ دُنْيَاكُمْ

“তোমরা দুনিয়ার বিষয়ে আমার চেয়ে অধিক সচেতন”

বদরের যুদ্ধের সময় সাহাবা আল-হুব্বাব বিন আল-মুনধির (রা) রাসুলুল্লাহ (সা) কে যুদ্ধ-কৌশল সঙ্ক্রান্ত এক প্রশ্ন করেছিল। রাসুলের পরিকল্পনাটি কি ওয়াহি ছিল নাকি রাসুলের নিজস্ব মতামত ছিল তা ঐ সাহাবা জানতে চেয়েছিল, উত্তরে রাসুলুল্লাহ বলেছিলেনঃ

بَلْ هُوَ الرَّأْيُ وَالحَرْبُ وَالمَكِيدَة

“অবশ্যই এটা আমার মতামত, যুদ্ধবিগ্রহ ও ধূর্ত (বিষয়ের ক্ষেত্রে)”

ঐ সাহাবার পরামর্শে রাসুলুল্লাহ যুদ্ধের কৌশল পরিবর্তন করেছিলেন। কারন তা ওয়াহি ছিল না। তাই নন-আহকাম/আকিদার বিষয়ের ‘আসল’ এর ক্ষেত্রে ইবাহা (অনুমতি) আছে যদি কোন বিপরীত টেক্সট আমরা না পাই শারিয়াহ তে। গণতন্ত্র কিন্তু সরাসরি আকিদা বিরোধী।  

মোদ্দা কথাঃ সকল বস্তু বাই ডিফল্ট হালাল এবং সকল একশন এর ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের শরিয়াহ দ্বারা সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। কোন ভাবেই বস্তুর সাথে একশনকে এক করে দেখলে হবে না। কারন একশনের ক্ষেত্রে আল্লাহ বলেছেনঃ

وَمَا آَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

"এবং আল্লাহর রাসুল যা কিছু তোমাদের জন্য এনেছেন তা গ্রহন করো এবং যেসব থেকে দূরে থাকতে বলেছেন তা পরিত্যাগ করো" [হাশর, ৭]

তাই ওপরের আয়াতের 'তালাব' (আবেদন) টিতে যে 'মাআ' (যা কিছু) শব্দটি এসেছে তা 'আম আকারে এসেছে। এবং এই তালাব হোক সেটা "তালাব উত তারক" (কোন কাজ পরিত্যাগ করার আবেদন) বা তালাব উল ফি'ল (কোন কিছু করার আবেদন) হল তালাব জাযিম (সুনির্দিষ্ট আবেদন) যা মেনে চলা ফরয। তাই সকল একশনের ক্ষেত্রে খুজতে হবে শরিয়াহর নুসুস (দলীল) কি বলছে। এটাই হল আফ'আল এর ক্ষেত্রে 'আসল'।    


খলিফাবিহীন মুসলিম উম্মাহর ওপর চলমান অবর্ণনীয় জাতীয়তাবাদী আগ্রাসনের আর একটি করুন অধ্যায় হল শ্রীলঙ্কা

রাষ্ট্রীয় মদতে গত রবিবার রাতে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ফ্যাশিস্ট সংগঠন “বধু বালা সেনা” মুসলিম অধিবাসী এলাকা আলুথগামা ও বেরুওয়ালায় নির্বিচারে হামলা চালিয়ে ৩ জন মুসলিমকে হত্যা এবং প্রায় ৮০ জনকে গুরুতরভাবে আহত করেছে। প্রচুর ঘরবাড়ি, দোকানপাট এবং মসজিদ ভাংচুর করা হয়েছে। অনলাইন ভিডিও গুলোতে দেখা গিয়েছে শ্রীলঙ্কার পুলিশ নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করেছিল এই বর্বরতার সময়। এই “বধু বালা সেনা” সংগঠনটির শীর্ষ নেতা ‘গালাগোদা আত্থে গানসারা’ আক্রমণের পূর্বে প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছিল তারা শ্রীলঙ্কা থেকে মুসলিমদের নির্মূল করে সিংহলী জাতিকে উদ্ধার করতে চায়। এর আগেও গতবছর আমরা দেখেছিলাম বৌদ্ধদের এই জঙ্গি সংগঠনটি শ্রীলঙ্কায় মুসলিম বোনদের হিজাব নিষিদ্ধ করা থেকে শুরু করে “হালাল-বিরোধী” ক্যাম্পেইন করেছিল এবং সবই রাষ্ট্রীয় মদতেই।

মুসলিম উম্মাহর এই তীব্র যন্ত্রণা ও কষ্ট আর কতো অবহেলা করব আমরা? আমাদের ঈমান কি এতই ঠুনকো হয়ে গেছে যে এই অত্যাচারিত মা-বোন ও ভাইদের অসহায়ত্ব ও কান্না আমাদের এতটুকুও বিচলিত করেনা? রাসুলুল্লাহ (সা) একদিন কাবা শরিফ তাওয়াফ করার সময় বললেনঃ “কি মহান তুমি হে কাবা? কতো পবিত্রই না তুমি? কতো সুন্দরই না তুমি আল্লাহ্‌র চোখে? কিন্তু মনে রেখো মুসলিমদের এক ফোঁটা রক্ত তুমি কাবার চেয়ে আল্লাহর চোখে অনেক পবিত্র” [ইবন মাজা]। তাহলে সেই বসনিয়া থেকে শুরু করে আজ শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত কত কোটিবার কাবার পবিত্রতা ধ্বংস হল আমাদের চোখের সামনে?! যেখানে এক ফোঁটা মুসলিম রক্তের এই মুল্য আল্লাহর চোখে, সেখানে শুধু এক ইরাকেই মার্কিন আগ্রাসন পরবর্তীতে ১ লক্ষ মুসলিম নিহত হয়েছে আজ পর্যন্ত!! কতো ফোঁটা রক্ত ঝরলে আজ আমরা জেগে উঠবো সেই বহুল প্রতীক্ষিত খিলাফতকে ফিরিয়ে আনতে যা আমাদের নিরাপত্তার একমাত্র গ্যারান্টি? আমরা কি এখনো দেখতে পাই না খলিফাই হল এই উম্মাহর একমাত্র রক্ষক? এখনো কি বুঝে উঠতে পারি নাই গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রযন্ত্র ও তাদের নেতারা কখনই আমাদের নিরাপত্তা দেবে না?

আমরা আবারো স্মরণ করিয়ে দিতে চায় এই উম্মাহর “একমাত্র” সমস্যা হল খিলাফতের নেতৃত্বের অনুপস্থিতি। আমরা বাংলাদেশের মুসলিমদের আহবান করতে চাই শুধু চোখের পানি আর মনকষ্ট নিয়ে দর্শকের সারিতে দাড়িয়ে থাকার জন্য এই উম্মতে মোহাম্মাদীর আবির্ভাব হয়নি এই পৃথিবীর বুকে। আমাদের নিজেদের পরিবার এবং সমাজে খুব জোরালোভাবে খিলাফতের আওয়াজ তুলুন। ইনশাল্লাহ এই বাংলাদেশ থেকেই খিলাফতের বাহিনী অগ্রসর হবে আরাকান, ভারত এবং শ্রীলঙ্কার দিকে এবং ভেঙ্গে ফেলবে কাফির-মুশরিক শাসকদের বিষদাঁত।

“নিশ্চয়ই ইমাম (খলীফা) হল তোমাদের বর্ম যার পেছনে দাড়িয়ে তোমরা আক্রমণ করবা এবং শত্রু থেকে নিজেদের রক্ষা করবা” [মুসলিম]


 কাফেরদের ব্যাংক দেখে->ইসলামি ব্যাংক(৪০০০ বছর আগে থেকে ছিল) এভাবে  ইসলামি ইনস্যুরেন্স(৫০০ বছর) ইসলামি গণতন্ত্র(৩০০০ বছর আগে থেকে) ইসলামি সমাজতন্ত্র(জানিনা) মুসলিম শিয়া(১৩০০বছর আগে থেকে) ইসলামি পতিতা এবং লয় (আদিম পেশা) ইসলামি বার,মদ আরও কত কি... (আদিম জিনিস)

এসব বিষয় অনেক আগে থেকেই ছিল অর্থাৎ রাসুল(সা), সাহাবি, তাবে, তাবে-তাবেঈন সহ সবাই এসব কুফর ও হারাম জিনিস তাদের জীবনে দেখে গেছেন(শিয়াজম ছাড়া), কিন্তু তারা কখনও এসব জিনিসকে হালাল বানানোর চেষ্টা করেন নি ভুলেও । আজকে ১৩৫০ বছর পর কিছু লোক এসব জিনিস্কে হালাল বানানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।


 "তোমরা যেমন, তোমাদের উপর সেরূপ শাসকই নিযুক্ত হবে"

হাদীসটিতে দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি এমন নয় যে আমরা শাসকদের জুলুম ও শরীআহ’র অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে নিশ্চুপ থাকবো। তার এ বক্তব্য কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেখানে আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন,

“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনবে ও সৎকর্ম করবে, তাদের প্রতি আল্লাহ ওয়াদা করেছেন যে তাদের তিনি অবশ্যই পৃথিবীতে নেতৃত্ব (ইসতিখলাফ) প্রদান করবেন।” [সূরা নূর: ৫৫]

এ আয়াত থেকে বোঝা যায় যে মুসলিমদের মধ্য হতে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যদি ঈমান ও সৎকর্ম করে তবে তাদেরকে অবশ্যই শাসনক্ষমতা দেয়া হবে।

আমর বিল-মা’রূফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অবশ্য পালনীয় হুকুম শর’ঈ। এবং গুরুত্বের দিক বিবেচনা করলে এই আমলটিই সবার অগ্রে থাকতে হবে অনেক সাধারন আমলের চেয়ে। উপরন্তু কিছু হাদীস অনুযায়ী, শুরুতে এই আমলটি অবহেলা করার কারণেই আমরা আল্লাহর আযাব (এক্ষেত্রে উদাহরসরূপ, খারাপ শাসক) ভাগ্যে পেয়ে থাকি।

আমাদের বুঝতে হবে আমরা ব্যক্তিগতভাবে ভালো কাজ করতে থাকলে সয়ংক্রিয়ভাবে সমাজ পরিবর্তন হয়ে যাবে না, কারণ ব্যক্তি চলে তার অন্তর্নিহিত চিন্তা দ্বারা আর সমাজ চলে একটি ব্যবস্থা দ্বারা যা সকল ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পরিচালিত করে। সুতরাং, যতক্ষন পর্যন্ত সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কোনো নির্দিষ্ট আদর্শের ভিত্তিতে পরিবর্তনের দাবি না তুলে তথা পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন সংগ্রামে লিপ্ত না হয়, ততক্ষন পর্যন্ত সমাজ পরিবর্তন হয় না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলাও পবিত্র কুরআনে বলেন,

নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির মধ্যে যা আছে তা পরিবর্তন করেন না যতক্ষন না তারা (সেই জাতি) নিজেদের মধ্যে যা রয়েছে তার মধ্যে পরিবর্তন আনয়ন করে। [সূরা রা’দ: ১১]

এ আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা চুড়ান্ত পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করেননি বরং জাতি বা কাওম’কে নির্দিষ্ট করেছেন।

সুতরাং, আমাদের সকলকেই সমাজ পরিবর্তনের জন্য প্রত্যক্ষ পদক্ষেপ নিতে হবে, পরাজনৈতিক সচেতন হতে হবে, প্রকাশ্যে কথা বলতে হবে, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে হবে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করতে হবে এবং চুড়ান্ত সাফল্যের আগ পর্যন্ত তা ঐক্যবদ্ধভাবে চালিয়ে যেতে হবে। একাজে ভয়-ভীতি, জেল-জুলুম ও ত্যাগ-তিতিক্ষা থাকবেই, তবে তাতে পিছিয়ে পড়লে চলবে না, নিস্ক্রিয় হয়ে গেলে হবে না। বরং, প্রতিটি বাধা উপেক্ষা করার মানসিকতা পোষন করতে হবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষনে ইস্পাত-কঠিন দৃঢ় মানসিকতা পোষন করতে হবে। এভাবেই দুনিয়ায় ইসলামের বিজয় ও সাফল্য আসবে, আর আখিরাতের যে সাফল্য মুমিনদের জন্য অপেক্ষা করছে তা অনন্য।

সুতরাং, ঈমানদারদের সুসংবাদ দান করুন.. [সূরা সফ: ১৩]






কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন