শুক্রবার, ২০ জুন, ২০১৪

মানবরচিত বিধান দ্বারা শাসন/বিচার করার কুফ্‌র ও শির্‌ক

মানবরচিত বিধান দ্বারা শাসন/বিচার করার কুফ্‌র ও শির্‌ক এই বিষয়ে সাহাবাগণ ت কি বলেছেন?

18 June 2014 at 08:07
আযহারি উল-ক্বুদাআ’ বইটিতে বর্ণিত আছে যে, মানবরচিত বিধান সম্পর্কে ইব্‌ন ‘আব্বাস (রদিঃ) বলেছেন,(৭১)
 
হাসান ইব্ আবী আর-রাবী আল-জুরজানী رحمه الله () থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমরাআব্দুর্‌ রযযাক رحمه الله (৭৩) থেকে, তিনি মামার رحمه الله (৭৪) থেকে, তিনি ইব্ তাঊস رحمه الله (৭৫) থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে শুনেছেন, যিনি বলেছেন, ‘ইব্আব্বাস (রদিঃ) আল্লাহ্‌র এই উক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন,
আর যারা আল্লাহ্‌ যা নাযিল করেছেন, তদানুযায়ী বিচার করে না, তারাই কাফির (অবিশ্বাসী) -সূরা আল-মাইদাহঃ ৪৪ 
তিনি [ইব্আব্বাস (দিঃ)] বলেছেন, এটা যথেষ্ট কুফ্(৭৬) 

সা‘ঈদ ইব্‌ন জুবাইর رحمه الله বর্ণনা করেছেন যে, ইব্‌ন ‘আব্বাস (রদিঃ) নিরাশভাবে এই আয়াত সম্পর্কে বলেছেন যে, তোমরাই সর্বোত্তম মানুষ যখন যা কিছু তোমাদের জন্য সুমিষ্ট তা ক্বুরআন- থাকে আর যা কিছু রূঢ়, কঠোর টক্তা কিতাবীদের জন্য থাকে (বর্ণনাকারী বলেছেন, ‘ঠিক যেন তিনি দেখতে পাচ্ছেন (৭৭) যে, ৩টি আয়াত মুসলিমদের জন্যও প্রযোজ্য’) (৭৮) আরোও বর্ণিত আছে যে, ইব্‌ন ‘আব্বাস (রদিঃ) বলেছেন যে, তোমরাই সর্বোত্তম মানুষ যদি যা কিছু ক্বুরআন- সুমিষ্ট, তা তোমাদের জন্য থাকেতারপর তিনি যোগ করলেন, যে কেউ আল্লাহ্‌র আইন/শাসন/বিচার পরিত্যাগ/বাতিল (জাহিদান) করে, এবং এরপর সে একজন কাফির

ইব্‌ন ‘আব্বাস (রদিঃ) যা বলেছেন, তা ছাড়াও আরোও একজন সাহাবী, ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাস‘ঊদ (রদিঃ)(৭৯), এই আয়াত সম্পর্কে বলেছেন, যখন তিনি কিছু মানুষের দ্বারা জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন যে, রেশওয়া (একটি ঘুষ) কি? তিনি জবাব দিয়েছিলেন, এটা সুহ্ (অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ) তখন তারা বলল, না, আমরা বিচার এবং শাসনের ক্ষেত্রে বোঝাতে চাইছিতিনি বললেন,
 
এটাই হল অতি/অত্যন্ত/ভারী/খুব কুফ্ (৮০) 
এ সকল তথ্য ছাড়াও, আমাদের সাহাবা (রদিঃ)-এর শাসন/বিচার সম্পর্কিত ইজমা’ সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করা উচিৎ যা নিম্নে উল্লেখ করা হয়েছে,
প্রখ্যাত সাহাবী, জাবির ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ (রদিঃ) বলেছেন,
 
আল্লাহ্‌র রসূল আমাদেরকে আদেশ করেছেন এটা দিয়ে আঘাত করতে (এবং তিনি তার তরবারীর দিকে নির্দেশ করলেন) যে কেউ সেটার বাহিরে চলে যায় (এবং তিনি ক্বুরআন-এর দিকে নির্দেশ করলেন) (৮১)(৮২) 

তাদের সম্পর্কে ঠিক এটাই আহ্‌ল উস্‌-সুন্নাহ ওয়াল-জামা‘আহ্‌ বলেছে, যারা আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা‘য়ালা যা নাযিল করেছেন তা ব্যতীত শাসন করে, শারী‘য়াহ পরিবর্তন করে বা আইন প্রণয়ন করে। এটা বড় কুফ্ (কুফ্‌ আল-আকবার) যদি তারা কিছু ক্ষেত্রবিশেষে তা প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়, তা কুফ্‌র যা কুফ্‌র অপেক্ষা ছোট (কুফ্‌র আল-আসগার) হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। অন্যভাবে আমরা এটাকে বলতে পারি যে, সেটা একটি ছোট কুফ্‌র।

এর কারণ হল, আহ্‌ল উস্‌-সুন্নাহ্‌ ওয়াল-জামা‘আহ্‌-এর নিয়ম হল একটি বিচার নিবেদন করার পূর্বে সে সংশ্লিষ্ট সকল আয়াতসমূহকে ব্যবহার করা, যেখানে বিদ‘ঈ মানুষেরা শুধুমাত্র সে সকল আয়াতসমূহকে ব্যবহার করে, যেগুলো তাদের পছন্দসই হয় এবং না বুঝেই বিচার করে। এই বাস্তবতাকে সমর্থন করে, কেউ কখনো ইব্আব্বাস (রদিঃ) বা অন্য কারোও থেকে আইন প্রণয়ন (তাশরী) সম্পর্কে এরূপ উক্তি খুঁজে পাবে না যে, একটি শির্ যা শির্ অপেক্ষা ছোট, যেহেতু আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা‘য়ালা ক্বুরআন-এ বলেছেন,
 
তাদের কি এমন কতক শরীক দেবতা আছে, যারা তাদের জন্য এমন এক দ্বীনের বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ্‌ দেননি? আর যদি ফয়সালার বাণী না থাকত, তবে তো তাদের ব্যাপারে মীমাংসা হয়ে যেত নিশ্চয়ই যলিমদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়কআযাব”-সূরা আশ্‌-শূরাঃ ২১ 
 
এটা ইবরহীম ইব্‌ন আল-হাকাম ইব্‌ন জাহির رحمه الله থেকে তার পিতা আস্‌-সুদ্দাই رحمه الله থেকে সম্পর্কিত যিনি বলেছেন, “ইব্‌ন ‘আব্বাস (রদিঃ) বলেছেন, যে কেউ বিচার করার ক্ষেত্রে যলিম ছিল এবং এবং সে তা জানে, জ্ঞান ছাড়া বিচার করে অথবা বিচারের ক্ষেত্রে ঘুষ নেয়, তবে সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত’” (৮৩) 

যদিও এই উক্তিটি খুবই কঠোর দেখায়, আমাদের খুবই কাছ থেকে এটিকে দেখতে হবে। উপরে উল্লিখিত অপরাধসমূহের সাথে সম্পর্কযুক্ত করলে, এই হাদীসটি আমাদের দেখায় যে, এটা হয় বড় কুফ্ অথবা ছোট কুফ্ বিচারকার্যের তীব্রতা-এর উপর নির্ভর করে, আমরা কুফ্‌র-এর মাত্রা নির্ধারন করতে পারি যে, সেটা বড় নাকি ছোট যুল্‌ম/অত্যাচার-এর ধরন এর উপর নির্ভর করে, আমরা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছাই। যদি যুল্‌ম/অত্যাচার মানুষ-এর  হাক্ব্‌/অধিকার-কে স্পর্শ করে, যেমন হয়েছিল যখন আল-হাজ্জাজ ইব্‌ন ইউসুফ আস-সাক্বাফি-এর ব্যাপক যুল্‌ম/অত্যাচার সংঘটিত হয়েছিল, তবে এটি একটি বড় পাপ (কাবীরা গুনাহ্‌), তবে তা কাউকে ইসলামের পরিধির বহির্ভূত করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। এভাবে এটি ছোট কুফ্‌র; যাহোক, যে কোন মুহূর্তেই যুল্‌ম/অত্যাচার আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তায়ালা-এর হাক্ব্‌-কে স্পর্শ করে, যেমনঃ আইন প্রণয়ন, তবে কোন সন্দেহ ছাড়া এটি বড় কুফ্‌র এবং ততক্ষণ পর্যন্ত এটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না এটি বিরত হয় বা প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিকে তার পদ থেকে সরানো হয়। আর জেনে বা না জেনে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা‘য়ালার আইন দ্বারা সবসময় বিচার করাও একই নিয়ম-বিধি ও শর্তাবলির মধ্যে পড়ে।

আমরা এখন ঘুষ বিষয়টিকে সম্বোধন করব,
 
বাইহাক্বি رحمه الله থেকে নেওয়া একটি হাদীস-এ বর্ণিত আছে, ‘আব্দুল্লাহ ইব‌‌ন মাস‘ঊদ (রদিঃ) আস্‌-সুহ্‌ত-এর ব্যাপারে (অসৎ উপায়ে প্রাপ্ত হারাম উপার্জন) জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, এবং তিনি জবাব দিয়েছিলেন, এটা রাশওয়া (ঘুষ) এরপর তাকে বিচারকার্যে যুল্‌ম/অত্যাচার-এর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যার জবাবে তিনি বললেন, এটাই হল অতি/অত্যন্ত/ভারী/খুব কুফ্ (৮৪) 
 
মাসরুক্ব رحمه الله থেকে নেওয়া হয়েছে যে, তিনি মাস‘ঊদ (রদিঃ)-কে আস্‌-সুহ্‌ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যার প্রতি তিনি বললেন, এটা হল রাশওয়া (ঘুষ)  তিনি (মাসরুক্ব) জানতে চাইলেন, আর বিচারকার্যে?” ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাস‘ঊদ (রদিঃ) উত্তর দিলেন, এটাই হল অতি/অত্যন্ত/ভারী/খুব কুফ্ এরপর তিনি সূরা মাইদাহ, আয়াতঃ ৪৪ তিলওয়াত করলেন।

ইব্‌ন মাস‘ঊদ (রদিঃ) অপর এক ক্ষেত্রে সুহ্‌ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন যখন বিচারকার্যে রাশওয়া ব্যবহৃত হয়েছে, ইব্‌ন মাস‘ঊদ (রদিঃ) জবাব দিলেন, না, যারা আল্লাহ্‌ যা নাযিল করেছেন, তদানুযায়ী বিচার করে না, তারাই কাফির (অবিশ্বাসী), যারা আল্লাহ্‌ যা নাযিল করেছেন, তদানুযায়ী বিচার করে না, তারাই যলিম (অত্যাচারী), যারা আল্লাহ্‌ যা নাযিল করেছেন, তদানুযায়ী বিচার করে না, তারাই ফাসিক্ব (বিদ্রোহী পাপী) (৮৫) 

আমরা আরোও উল্লেখ করতে চাই যে, ইমাম-আত্‌-তাবারানি رحمه الله-এর আল-কাবীর-এ যখন বিচারকার্যে রাশওয়া-এর ব্যাপারে এসেছে, তখন এটিকে কুফ্‌র হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে, আর মানুষের ক্ষেত্রে সুহ্‌ত। ইব্‌ন মাস‘ঊদ (রদিঃ) ও মাসরুক্ব رحمه الله ইতিমধ্যেই সুপারিশের উদ্দেশ্যে শাসকের নিকট যাওয়াকে সুহ্‌ত-এর ব্যাখ্যা করেছেন। আর তারা বলেছেন,যদি সে বিচারকার্যের জন্য রাশওয়া নিয়ে থাকে, এটা কুফ্‘আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রদিঃ)(৮৬) এবং যাইদ ইব্‌ন সাবিত (রদিঃ)(৮৭)-ও একমত্‌ হয়েছেন। এভাবে, বিচারকার্যের ক্ষেত্রে রাশওয়া নেওয়া কুফ্‌র হওয়া সম্পর্কিত বিধি-নীতি খুবই পরিচিত এবং সাহাবা ت এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ ছাড়া একমত।(৮৮) 



--------------------------------------------------------------------------------------------------------
(৭১) বর্ণনাকারী হলেন, মুহাম্মাদ ইব্‌ন খালাফ ইব্‌ন হাইয়্যান رحمه الله, যিনি আখবার উল-ক্বুদাআ’-এর লেখক আল-ওয়াকি‘আ رحمه الله (মৃত্যু হিজরী ৩০৬ সন/ ৯১৮ খ্রীষ্টাব্দ) হিসেবে পরিচিত। ইব্‌ন হাজার আল-‘আসক্বলানি رحمه الله বলেছেন, তিনি বিশ্বস্ত আল-খতিব আল-বাগদাদি رحمه الله [এই শাইখ আত্‌-তারিক্ব কিতাব উশ্‌-শারিফ (‘সম্মানিত কিতাবের পদ্ধতি’)-এরও লেখক, যা ক্বুরআন-এর আয়াতের সংখ্যা ও আবৃত্তিগত পার্থক্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করে] বলেছেন, তিনি জ্ঞানী, বিশ্বস্ত এবং ইতিহাস মানুষ সম্পর্কিত বিষয়ে ব্যাপক জ্ঞান রাখেন

(৭২) তার নাম ইয়াহইয়া ইব্‌ন জা’জ رحمه الله। তিনিও বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী। আবী হাতিম رحمه الله তার ব্যাপারে বলেছেন, তিনি বিশ্বস্ত এবং তিনি আমার শাইখদের মধ্যে অন্যতম। ইব্‌ন হিব্বান رحمه الله তার (ইয়াহইয়া) উল্লেখ করেছেন বিশ্বস্ত মানুষদের সাথে। ইব্‌ন হাজার رحمه الله-ও তাদের মধ্যে তার উল্লেখ করেছেন যারা বিশ্বস্ত। বর্ণনার বাকি অংশ সম্পূর্ন বিশ্বস্ত এবং সর্বোচ্চ গুণাবলির অধিকারী।

(৭৩) ‘আব্দুর্‌ রয্‌যাক رحمه الله একজন বিশ্বস্ত ইমাম।

(৭৪) সকল ’আলিমগণ তাকে বিশ্বাস করেন।

(৭৫) তিনি এবং তার পিতা উভয়েই বিশ্বস্ত, এবং তার পিতা তাঊস, ইব্‌ন ‘আব্বাস ت-এর একজন ছাত্র।

(৭৬) আখবার উল-ক্বুদাআ’-ইমাম ওয়াকি‘আ, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৪০-৪৫

(৭৭) এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে, এটাই সঠিক উপসংহার, যেহেতু এটা উসূল উল-ফিক্ব্‌হ-এর অন্যতম মূলনীতি যে, ওহী-এর মধ্যে যা কিছু সাধারণ, তা নাযিলের কারণের উপর ভিত্তি করে বর্জন করা যাবে না। আল ‘আল্লামাহ্‌ আশ্‌-শাতিবি رحمه الله তার ৪ ভলিউমের কাজ, আল-মুয়াফ্‌ফিক্বত এবং তার অপর বই আল-‘ইতিসাম-এ তার বিখ্যাত উক্তি করেছেন, যার ব্যাপারে সকল ফুক্বাহাআ একমত্‌, به سبب على يقصر لا العام সাধারণ বিষয়াদিকে তার নাযিলের কারণের উপর ভিত্তি করে বর্জন করা যাবে না (আসবাব উন্‌-নুযুল)  আয়াত উল-আহকাম (বিচার/শাসন সম্পর্কিত আয়াতসমূহ) রসূল -এর সময় যেদিন থেকে নাযিল হয়েছে, সেদিন থেকে এই বিধি-নীতিটি ব্যবহৃত/অনুশীলনকৃত হয়ে আসছে। বিচার/শাসন সম্পর্কিত সকল আয়াতসমূহ নাযিল হয়েছে, বিশেষ ঘটনাবলির জন্য, যা ঘটেছে একজন বা দুজন সাহাবা ت-এর সাথে, বা একজন ব্যক্তি তার স্ত্রীর মধ্যে, কিন্তু তার বিধি-নীতি অবশ্যই আমাদের সময় পর্যন্ত সকল মুসলিমের মেনে চলতে হবে, শুধুমাত্র পথভ্রষ্ট্রা ছাড়া, যারা বলবে, এটা আমার কারণে নাযিল করা হয় নি  রসূল কখনোই বলেন নি, এই বিচার বিধানটি শুধুমাত্র এই লোক তার স্ত্রীর জন্য অথবা এই ব্যক্তিটির জন্যই প্রযোজ্য এগুলোই হল সেসব মন্তব্য, যেগুলোর এই জায়গায় বিস্তৃত করে বলা প্রয়োজন। 

(৭৮) প্রাগুক্ত, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৪১

(৭৯) ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাস‘ঊদ ت সেই একই সাহাবী, যিনি আনন্দের সাথে বলেছিলেন, ক্বুরআন থেকে কোন একটি আয়াত নেই যা নাযিল করা হয়েছিল, ব্যতীত যে, আমি এর নাযিল হবার কারণ জানতাম (বুখারী দ্বারা বর্ণনাকৃত)  ইব্‌ন ‘আব্বাস ت বড় হবার পূর্বে তিনিই ছিলেন ক্বুরআন-এর বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সবচাইতে জ্ঞানী সাহাবী, এবং তিনি ওহীর জ্ঞানের পথে একজন শক্তিশালী শক্তি হিসেবে গণ্য হওয়া বহাল রেখেছিলেন।

(৮০) তাফসীর ইব্‌ন কাসীর, সূরাহ্‌ আল-মাইদাহঃ ৪৪ দেখুন,
সেই সাথে দেখুন, আখবার উল-ক্বুদাআ’-ইমাম ওয়াকি’আ, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৪০-৪৫

(৮১) মাজমু‘আ ফাতাওয়া, ভলিউমঃ ০৫-এ ইমাম ইব্‌ন তাইমিয়্যাহ رحمه الله-ও এই একই হাদীস বর্ণনা করেছেন।

(৮২) মুসনাদ আহ্‌মাদ ইব্‌ন হান্‌বাল

(৮৩) আখবার উল-ক্বুদাআ’, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৪১

(৮৪) আখবার উল-ক্বুদাআ’, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৫১, ফুটনোট-এ

(৮৫) প্রাগুক্ত, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৫২-৫৩

(৮৬) ‘আলী ইব্‌ন আবী তালিব ت হলেন সেই সাহাবী যার সম্পর্কে রসূল ﷺ বলেছেন, আলী হল সর্বোত্তম ব্যক্তি যে বিচারকার্য সম্পর্কে জানে,”  আখবার উল-ক্বুদাআ’, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৪১-৫৩। যেহেতু এই বিষয়টি একটি বিচারকার্য সংক্রান্ত বিষয়, এটা শুধুমাত্র সঠিক যদি একজন ক্বাদি (বিচারক) এই বিষয়ে অভিমত্‌/রায় দেন, আর ‘আলী ت ঠিক   তা-ই করেছেন।

(৮৭) এই বিষয়ে যাইদ ইব্‌ন সাবিত ت-এর বিচার বিশাল ওজন বহন করে। তিনি শুধুমাত্র ক্বুরআন-এর একজন অন্যতম সংগ্রহকই ছিলেন না, যিনি রসূল ﷺ-এর সময় ওহী লিখার কাজে নিয়োজিত ছিলেন, বরং তিনি হলেন তাদের একজন যাদের থেকে ফিক্ব্‌হ শিখা রসূল ﷺ সর্বোত্তম বলেছেন। তাছাড়াও তিনি সেই ৪ জনদের মধ্যে একজন, যাদের থেকে ক্বুরআন শিক্ষার জন্য রসূল ﷺ সাহাবা ت-দের তাগিদ করেছেন, হোক তা তিলওয়াতসংক্রান্ত বা বিচারসংক্রান্ত বিষয়। বাকি ৩ জন হলেন, ইব্‌ন মাস‘ঊদ, উবাই ইব্‌ন কা’ব এবং মু‘আয ইব্‌ন জাবাল ت।

(৮৮) আমরা এটি জানিয়ে দিতে চাই যে, ঘুষ নেয় এমন প্রত্যেক পাপী বিচারকই কাফির নয়, কিন্তু যদি সে শারী‘য়াহ ব্যতীত অন্য কোন কিছু দিয়ে বিচার/শাসন করে যার সংবিধানের আইনসমূহ শারী‘য়াহ-থেকে নেওয়া হয় নি, তবে সে অতি নিশ্চিতভাবে কাফির। সেই সাথে, আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা‘আলার আইনকে পরিবর্তন করার জন্য ঘুষ নেওয়াও বড় কুফ্‌র, কিন্তু ঘুষ খেয়ে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা‘আলার বিচারকার্য-কে কিছু ক্ষেত্রবিশেষে পরিবর্তন করা, পারিপার্শ্বিক/পরিস্থিতি ও ঘটনা/প্রকৃত অবস্থা-এর উপর ভিত্তি করে বড় কুফ্‌র বা ছোট কুফ্‌র হতে পারে। এখানে মূল উদ্দেশ্য হল, এটা দেখানো যে, সাহাবা ت-দের উক্তি এই বিষয়গুলোতে কত ওজনদার। এই সময়ের ’আলিমগণ ও মুসলিমরা এই বুঝটিকে খুবই সহজ ও হাল্কাভাবে নিচ্ছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না বিষয়টি এরূপ হয়ে যায় যে, আমরা এই বিষয়েই অজ্ঞ হয়ে পড়ি যে, কোথায় গিয়ে শাসক/বিচারকদের শারী‘য়াহ শেষ হয়, এবং কোথায় গিয়ে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা‘আলার শারী‘য়াহ শুরু হয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন