শুক্রবার, ২০ জুন, ২০১৪

ভণ্ড পীর ও শিরক

আচ্ছা , আমাদের দেশের যে বড় বড় ভণ্ড পীর গুলো আছে , তাদের মধ্যে কিন্তু অনেকেই খুব সুন্দর কোরআন তেলোয়াত জানে । ইসলামী জ্ঞ্যান অনেক এদের । কারন এরা ইসলামের উপরে মোটা মোটা কিতাবও লিখছে । এদের ভক্তেরও অভাব নাই ।

তবুও কেন তাদের আমরা ভণ্ড বলি ? জি , এর একটাই কারন , তাদের আকিদা ঠিক নেই । এক মুখে আল্লাহ্‌'র নাম বলে , অন্য মুখে আল্লাহ্‌'র সাথে শিরক করার উৎসাহ দেয় এরা ।

আচ্ছা , হাসিনার দলে যে বাংলাদেশ ওলামা লীগ আছে , তারা কি আমাদের চেয়ে কম জ্ঞ্যানি ? সেখানে বড় বড় ইসলামী চিন্তাবিদ , ইমাম সাহেবরা আছে । যাদের ইসলামী জ্ঞ্যানের ধারে কাছেও আমরা নাই ।

তবুও কেন তাদের দেখলেই বিরক্ত লাগে ? তাদের তাগুদের গোলাম বলি ? জি , এর একটাই কারন , এরা ইসলামের জ্ঞ্যান আহরন করে , ইসলামী লেবাস দেহে ধারন করে হাসিনার সমাবেশে গিয়ে হাত তালি দেয় , হাসিনার পক্ষে থেকে তাগুদের আইনে আরও শক্তি যোগায় । যা স্পষ্ট শিরক আল্লাহ্‌'র সাথে ।

গেলো তাদের কথা ... গতকাল অপু ছেলেটা একটা পোস্ট দিছে ' কোন এক শিবিরের ছেলে কোন এক জায়গায় কি ইমামতি করছে । আমার গত পোস্টের কমেন্টে একজন সেটা শেয়ারও করছে । আর উক্ত পোস্টে গর্ব করে বলা হইছে ... শিবিরে যোগ দিলে কোরআন তেলোয়াত শেখা যায় , হাদিস শেখা যায় , ইসলামী জ্ঞ্যান আহরন করা যায় ।

তো ? তো কি হইছে ? জ্ঞ্যান তো তাদেরও আছে যারা নিজেদের পীর বলে ভক্তদের শিরক করতে শেখায় । জ্ঞ্যান তো তাদেরও আছে যারা জাতীয় মসজিদের ইমাম হয়েও হাসিনার সরকারের দালালী করে , যা স্পষ্ট শিরক । জ্ঞ্যান কি সেই ইমামের নেই , ইলেম কি সেই ইমাম শেখে নাই যে ' থাবার ইমামতি করছে । উনি জেনে শুনে একটা নাস্তিকের যানাজা পড়াইছে । এর চেয়ে স্পষ্ট শিরক আর কি আছে ? যে কিনা আল্লাহ্‌'কে গালি দেয় , আল্লাহ্‌'র বিধানের বিরোধিতা করে , আল্লাহ্‌ হাবিব রাসুল (সাঃ) এর বিবি , মেয়ে নিয়ে বাজে কথা বলে , তাকে কোন ক্ষমতা আর কোন জ্ঞ্যানের বলে যানাজা পড়ায় ইমাম ? তাকে ইমাম বললেও তো সত্যিকারের ইমামদের অপমান করা হবে ।

জ্ঞ্যানি তাকেই বলা হয় যে কিনা জ্ঞ্যানের সঠিক ব্যবহার করে । জামায়াত-শিবিরে যোগ দিলে কোরআন হাদিস পড়ার আগ্রহ জন্মে বা তারা তাগিদ দেয় , এতেই কি জামায়াত-শিবির সঠিক হয়ে গেলো ? আরে এই তাগিদতো তাবলীগে গেলেও দেয় । তাহলে জামায়াত-শিবির ছেড়ে তাবলীগ করেন না কেন ?

আপনার যত জ্ঞ্যান থাকুক না কেন , আপনি সেটা কোন পথে ব্যয় করছেন সেটা গুরুত্ব পূর্ণ । জ্ঞ্যানি হলেই সম্মানিত না , জ্ঞ্যানের সঠিক ব্যবহারকারী সম্মানিত হয় । আর শুধু কোরআন হাদিস শিখে নিলেই হবে ? আপনাকে তারা কোন পথে পরিচালিত করছে , সেই পথ সঠিক ইসলামের পথ নাকি , সেটা কি কোরআন হাদিস দিয়ে বিবেচনা করছেন ? নাকি সুরেলা কোরআন পড়ে , ২/৪ টা হাদিস শিখে নিলেই হয়ে গেলো ।

এতো এমন আপনি ভাতের সাথে মদ পান করছেন আর ভাবছেন , মদ হালাল । উক্ত দলের ঢুকে কোরআন হাদিস শেখা মানেই উক্ত দল সঠিক না , যদি না তাদের মৌলিক নীতি কোরআন হাদিসের পক্ষে না হয় । সেটা কি ভেবে দেখছেন কখনও ? তাগুদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অন্য তাগুদের পক্ষ নিছেন , নিজেরাই সেই তাগুদি আইন কায়েমের জন্য জীবন দিচ্ছেন , অথচ বিবেচনায় আনছেন শুধু সুরেলা কোরআন হাদিস শিক্ষা ।

আপনাদের মাঝে আর ঐ ভণ্ড পীর গুলার মাঝে তফাৎ কি ?
আপনাদের মাঝে আর ওলামা লীগের ইমামদের মাঝে তফাৎ কি ?
আপনাদের মাঝে আর ঐ যানাজা পড়ানো ইমামের মাঝে তফাৎ কি ?

উভয়ের জ্ঞ্যান আছে , কিন্তু সেটার সঠিক ব্যবহার করে না । ধিক্কার জানাই আপনাদের । আবার এই গুলো নিয়ে গর্ব করেন ।



ইসলামী প্রজাতন্ত্র ' ইরান

জামায়াত ইসলাম ' বাংলাদেশ

-- কারো নামের আগে , আর কারো নামের পিছনে টাইটেল হিসেবে ইসলাম শব্দখানা সংযোগ করে রাখা হইছে । অথচ এদের উভয়ের মাঝে ইসলাম বলতে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না । বরং ইসলামের বিপরীত তথা তাগুদের গোলামি স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে ।

ইসলামের মৌলিক নীতি তথা আল্লাহ্‌'র আইন অবহেলিত হয় পালনের ক্ষেত্রে , কায়েমের ক্ষেত্রে ' সেখানে শুধু নামাজ , রোজা , লেবাস ইত্যাদি ইসলামের সমীকরণ হয় না ।

--যালিমদের জন্য আল্লাহ্‌ তা'য়ালার এই সতর্কবানী কি পর্যাপ্ত নয় ? যদি ও আপ্নারা আপনাদের নিজেদের ফেরাউন আর নম্রুদের স্থানে বসিয়ে নয়েছেন- তাহলে অপেক্ষা করুণ। আপনাদের পরিনতির জন্য। যদিও আল্লাহ্‌ মুমিনদের দুনিয়াতে শাসনকর্তিত প্রদান করবেন - আর আপনাদের করবেন লাঞ্ছিত- সেদিন আপ্নারা কথায় পালাবেন ?

“যালিমদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আল্লাহকে কখনো উদাসীন মনে করো না। আল্লাহ এদেরকে শুধু একটি সুনির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত বিলম্বিত করেন, যেদিন চক্ষুসমূহ বিস্ফোরিত হবে, তারা মাথা নিচু করে উঠিপড়ি করে দৌড়াতে থাকবে, তাদের চোখ তাদের নিজেদের দিকে ফিরবে না এবং তাদের হৃদয়সমূহ দিশাহারা হয়ে যাবে।
মানুষকে আযাব সমাগত হওয়ার দিন সম্পর্কে সাবধান করে দাও।

সেদিন যুলুমবাজরা বলবে; হে আমাদের প্রভূ ! অল্প কিছুদিন আমাদেরকে সময় দিন,

তাহলে আমরা আপনার দাওয়াত কবুল করে রাসূলদের অনুসরণ করব।

তোমরা কি ইতিপূর্বে কসম খেয়ে খেয়ে বলতে না যে তোমাদের পতন নেই?

যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছে, তোমরা তো তাদের বাসস্থানে বাস করেছ এবং সেসব যালেমের সাথে আমি কেমন আচরণ করেছি, তা তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। উপরন্তু আমি তোমাদের জন্য অনেক উদাহরণ দিয়েছি।” (সূরা ইবরাহীম ৪২-৪৫)

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে আরো বলেন, “শুধু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, যারা মানুষের ওপর অত্যাচার করে।” (সূরা আশ শুয়ারা ৪২)
সূরা আশ শুরার শেষ আয়াতে তিনি বলেছেন,”যুলুমবাজরা তাদের যুলুমের পরিণতি সহসাই জানতে পারবে।” (সূরা আশ শুয়ারা ২২৭)

এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন; “আল্লাহ যালেমকে সুদীর্ঘ সময় দিয়ে থাকেন। অবশেষে যখন পাকড়াও করেন তখন তাকে আর রেহাই দেন না।”
(বুখারী, মুসলিম)

এরপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেন, ”তোমার প্রভূর পাকড়াও এ রকম হয়ে থাকে, যখন তিনি যুলুমরত জনপদসমূহকে পাকড়াও করেন। তাঁর পাকড়াও অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, অপ্রতিরোধ্য।” (সূরা হুদ ১০২)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন